নিজস্ব কৃষ্টি-সংস্কৃতি ধারণে নজরুল চর্চার বিকল্প নেই: নজরুল উৎসবে বক্তারা
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, সংগীত ও মানবিক সাম্যবাদী দর্শন নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যয়ে রাজশাহীতে শাপলা সৃজনমঞ্চ নজরুল উৎসব-১৪৩৩ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য পুরস্কার বিতরণী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (১০ অক্টোবর) বিকেলে নগরীর শাপলা কালচারাল স্কুল প্রাঙ্গণে আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু, এমপির উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও অনিবার্য কারণবশত তিনি উপস্থিত হতে পারেননি।
অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য উপস্থাপন করেন রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. শাফিকুল হক মিলন। মো. মোহসিন আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরডিএ) চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সুইট, রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মো. আশিক সাঈদ, পিপিএম, এবং রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম।
আলোচনা পর্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আরডিএ চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সুইট বলেন, বর্তমান আধুনিক যুগে তথ্যপ্রযুক্তির অবাধ প্রবাহের সঙ্গে সঙ্গে সমাজে একধরনের মনস্তাত্ত্বিক অবক্ষয় পরিলক্ষিত হচ্ছে। অনেকেই নিজেদের হাজার বছরের সমৃদ্ধ কৃষ্টি, ঐতিহ্য ও শেকড় ভুলে গিয়ে অপসংস্কৃতির পেছনে ছুটছেন, যার ফলে জাতীয় সাংস্কৃতিক স্বকীয়তা হারানোর বড় ধরনের ঝুঁকি সৃষ্টি হচ্ছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বাঙালি হিসেবে আমাদের রয়েছে নিজস্ব শিল্পবোধ ও সংস্কৃতি। আত্মবিস্মৃত এই অবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে নতুন প্রজন্মকে নিজস্ব শেকড়ের সন্ধানে ফিরিয়ে আনতে নজরুল সাহিত্যের চর্চা ও এমন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের কোনো বিকল্প নেই। শিশু-কিশোরদের সুপ্ত সৃজনশীল মেধার বিকাশ এবং তাদের দেশীয় সংস্কৃতির প্রতি অনুরাগী করে তুলতে এ ধরনের উদ্যোগ নিয়মিত আয়োজন করা জরুরি।
অনুষ্ঠানের আয়োজকরা জানান, জাতীয় কবির সাম্য, প্রেম ও দ্রোহের অমর বাণীকে তরুণ প্রজন্মের হৃদয়ে প্রোথিত করার পাশাপাশি শিশু-কিশোরদের সৃজনশীল সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে উদ্বুদ্ধ করতেই এই নজরুল উৎসবের আয়োজন। উৎসবের অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত আবৃত্তি, সংগীত ও চিত্রাঙ্কনসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মাঝে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্রেস্ট ও সনদপত্র তুলে দেন আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ।
শাপলা কালচারাল স্কুলের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় এবং শাপলা গ্রাম উন্নয়ন সংস্থার সার্বিক সহযোগিতায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে রাজশাহীর বিশিষ্ট কবি, সাহিত্যিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।