চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে ৫৯ বিজিবির অভিযান, সোয়া ৩ কোটি টাকার চোরাই পণ্য জব্দ
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ ও ভোলাহাট সীমান্ত এলাকায় পৃথক দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে বিপুল পরিমাণ চোরাচালান পণ্য ও যানবাহন জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। মহানন্দা ব্যাটালিয়নের (৫৯ বিজিবি) পরিচালিত এই দুটি অভিযানে ভারতীয় একটি ট্রাক, ট্রাকের যন্ত্রাংশ, বেনারসি শাড়ি, চোরাই মোবাইল ফোন ও একটি ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক উদ্ধার করা হয়। জব্দকৃত মালামাল ও যানবাহনের সর্বমোট আনুমানিক আর্থিক মূল্য ৩ কোটি ৬ লাখ ৯৪ হাজার টাকা।
ব্যাটালিয়ন সূত্রে জানা গেছে, গত ১৬ সেপ্টেম্বর রাত পৌনে ৯টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোনামসজিদ বিওপির একটি বিশেষ আভিযানিক দল ভারপ্রাপ্ত কোয়ার্টার মাস্টার সহকারী পরিচালক (এডি) সেখ মনোয়ারুল ইসলামের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করে। সীমান্ত পিলার ১৮৪/২-এস থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে শিবগঞ্জ উপজেলার শাহাবাজপুর ইউনিয়নের মুসলিমপুর এলাকার শাহাবাজপুর কলেজের সামনের পাকা রাস্তায় একটি অস্থায়ী চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়।
সেখানে তল্লাশিকালে একটি পরিত্যক্ত ভারতীয় ট্রাকের পাথরের ভেতর কৌশলে লুকানো অবস্থায় ৭০৮ পিস বিভিন্ন ধরনের ট্রাকের যন্ত্রাংশ ও ৫টি বেনারসি শাড়ি উদ্ধার করা হয়। এ সময় পণ্য পরিবহনে ব্যবহৃত ভারতীয় ট্রাকটিও জব্দ করে বিজিবি। উদ্ধার করা এসব পণ্য ও ট্রাকের আনুমানিক মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২ কোটি ৫৭ লাখ ৭৯ হাজার টাকা।
এর পরদিন ১৭ সেপ্টেম্বর সকাল পৌনে ৯টার দিকে খড়কপুর বিওপির আরেকটি টহলদল ভোলাহাট উপজেলার ভোলাহাট ইউনিয়নের আলীমোড় গ্রামে দ্বিতীয় অভিযানটি চালায়। আন্তর্জাতিক সীমান্ত পিলার ২০১/৮৩-এস থেকে প্রায় এক কিলোমিটার অভ্যন্তরে পাকা রাস্তায় অভিযান চালিয়ে একটি ইজিবাইক থেকে ১৩৫টি বিভিন্ন মডেলের ভারতীয় চোরাই মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। বিজিবি সদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে চালক ইজিবাইকটি ফেলে কৌশলে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে মোবাইলসহ ইজিবাইকটি জব্দ করা হয়, যার আনুমানিক মূল্য ৪৯ লাখ ১৫ হাজার টাকা।
দুটি পৃথক অভিযানে জব্দকৃত চোরাচালান পণ্য ও যানবাহনের ব্যাপারে প্রচলিত আইনে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করে মহানন্দা ব্যাটালিয়নের (৫৯ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী, এসজিপি, বিএফএম, পিএসসি জানান, সীমান্ত এলাকায় সব ধরনের চোরাচালান ও মাদক কারবারীদের অপতৎপরতা বন্ধে বিজিবি কঠোর নজরদারি ও জিরো টলারেন্স নীতি বজায় রেখে দায়িত্ব পালন করছে। জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষা এবং অবৈধ পণ্যের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তে এ ধরনের সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত থাকবে।