পদ্মার চরে চারা বিপ্লব
নাটোরের লালপুর উপজেলার প্রত্যন্ত পদ্মার চরাঞ্চলে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ছোঁয়ায় এক নীরব বিপ্লব সূচিত হয়েছে। উপজেলার বিলমাড়িয়া ইউনিয়নের চরে পরিবেশ নিয়ন্ত্রিত পলিশেড হাউস নির্মাণ করে ট্রে পদ্ধতিতে বাণিজ্যিকভাবে উন্নত জাতের সবজির চারা উৎপাদন করছেন স্থানীয় কৃষকরা। ফুলকপি, টমেটো, বেগুন ও মরিচসহ নানা জাতের উচ্চমূল্যের সবজির রোগমুক্ত ও সবল চারা উৎপাদনের মাধ্যমে কৃষকদের মাঝে তৈরি হয়েছে নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনা।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর পরিচালিত ‘বাংলাদেশের চর এলাকায় আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্প (১ম সংশোধিত)’-এর অধীনে ২০০ বর্গমিটার আয়তনের এই অত্যাধুনিক পলিশেড হাউসটি স্থাপন করা হয়। চর এলাকার বৈরী আবহাওয়া মোকাবিলা করে বছরব্যাপী মানসম্মত চারা উৎপাদনের লক্ষ্যেই এই বিশেষ অবকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার বিকেলে সরেজমিনে এই পলিশেড হাউসটি পরিদর্শন করেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ আব্দুল আউয়াল। আধুনিক এই কৃষি উদ্যোগ ঘুরে দেখে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং চরাঞ্চলে টেকসই কৃষি ব্যবস্থার প্রসারে এমন সময়োপযোগী পদক্ষেপের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন উপপ্রকল্প পরিচালক মো. মাসুদুর রহমান, লালপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রীতম কুমার হোড়, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সুব্রত কুমার সরকার এবং সংশ্লিষ্ট উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাবৃন্দ।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রীতম কুমার হোড় জানান, চিরাচরিত পদ্ধতির বাইরে এসে প্লাস্টিক ট্রে এবং মাটির বিকল্প হিসেবে কোকোডাস্ট ব্যবহারের মাধ্যমে এই চারাগুলো উৎপাদন করা হচ্ছে। এর ফলে চারাগাছ যেমন রোগজীবাণু ও ছত্রাকের আক্রমণ থেকে রক্ষা পাচ্ছে, তেমনি শেড হাউসের নিয়ন্ত্রিত তাপমাত্রার কারণে প্রতিকূল আবহাওয়াও কোনো ক্ষয়ক্ষতি করতে পারছে না। ফলে প্রতিটি চারাই সবল ও স্বাস্থ্যবান হয়ে বেড়ে উঠছে।
প্রকল্প পরিচালক কৃষিবিদ জিয়াউর রহমান এ প্রসঙ্গে জানান, চরাঞ্চলের কৃষকদের ভাগ্যোন্নয়নে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ওপর নিবিড় প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। প্রশিক্ষণ শেষে কৃষকদের স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে প্রকল্পের সহায়তায় পলিশেড হাউস নির্মাণের পাশাপাশি ৫০০টি বিশেষ ট্রে ও ৩০০ কেজি কোকোডাস্ট বিনামূল্যে সরবরাহ করা হয়েছে।
উদ্যোগটির সুফল পেতে শুরু করেছেন স্থানীয় উপকারভোগী চাষিরা। সুফলভোগী কৃষক মো. মাইনুল ইসলাম ও মো. শাহাবুদ্দিন জানান, এই শেড হাউসে উৎপাদিত চারা অত্যন্ত মানসম্মত হওয়ায় স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়েছে। তাঁরা কৃষক দলের সদস্যদের কাছে সুলভ মূল্যে চারা সরবরাহের পাশাপাশি স্থানীয় খোলা বাজারে উৎপাদন খরচের প্রায় দ্বিগুণ দামে বিক্রি করে বেশ ভালো মুনাফা অর্জন করছেন। চরের বালুময় জমিতে আধুনিক শেড হাউসের এই প্রযুক্তি তাঁদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তার নতুন পথ দেখিয়েছে।