বাগমারায় চাল বিতরণে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ
রাজশাহীর বাগমারায় সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতাভুক্ত খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ১৫ টাকা কেজি দরের চাল বিতরণে সুবিধাভোগীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। নির্ধারিত সরকারি মূল্যের চেয়ে কার্ডপ্রতি অতিরিক্ত ৫০ টাকা করে আদায়ের দায়ে অভিযুক্ত ডিলার মামুনুর রশিদের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এলাকাবাসীর পক্ষে কাচারি কোয়ালিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা জুয়েল কিবরিয়া বৃহস্পতিবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে এই অভিযোগপত্র জমা দেন।
লিখিত অভিযোগ ও ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, কাচারি কোয়ালিপাড়া ইউনিয়নের পীরগঞ্জ বাজার ডিলার পয়েন্ট থেকে সুবিধাভোগী দুস্থ ও প্রান্তিক পরিবারগুলো নিয়মিত খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল সংগ্রহ করে থাকেন। গত ২ সেপ্টেম্বর চাল নিতে গেলে সরকার নির্ধারিত প্রতি কেজি ১৫ টাকা হিসেবে ৩০ কেজির বস্তাপ্রতি ৪৫০ টাকার পাশাপাশি অতিরিক্ত আরও ৫০ টাকা দাবি করা হয়। এতে চালের জন্য প্রতি কার্ডধারীকে গুনতে হয়েছে মোট ৫০০ টাকা। অতিরিক্ত টাকা আদায়ের কারণ জানতে চাইলে ডিলারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নষ্ট হওয়া কার্ড প্রতিস্থাপন ও নতুন ডিজিটাল কার্ড দেওয়ার প্রশাসনিক খরচ বাবদ এই বাড়তি অর্থ নেওয়া হচ্ছে। পরবর্তীতে সুবিধাভোগীরা উপজেলা প্রশাসন ও খাদ্য বিভাগের কার্যালয়ে সরাসরি যোগাযোগ করে নিশ্চিত হন যে, কার্ড নবায়ন বা চাল বিতরণের ক্ষেত্রে বাড়তি অর্থ আদায়ের সরকারি কোনো অনুমোদন বা নির্দেশনা নেই।
অর্থ আদায়ের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে সংশ্লিষ্ট ডিলার মামুনুর রশিদ অতিরিক্ত অর্থ গ্রহণের বিষয়টি স্বীকার করে দাবি করেন, কিছু উপকারভোগীর কার্ড ছিঁড়ে ও নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারণে নতুন কার্ড সরবরাহের প্রক্রিয়াজনিত খরচ হিসেবে সাময়িকভাবে ৫০ টাকা করে নেওয়া হয়েছিল। তবে বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হলে আদায়কৃত ওই অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে উপকারভোগীদের ফেরত দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। অন্যদিকে সদ্য দায়িত্ব নেওয়া বাগমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিজু তামান্না জানান, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় সরকার নির্ধারিত মূল্যের বাইরে সুবিধাভোগীদের কাছ থেকে কোনো অজুহাতেই অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার কোনো সুযোগ বা নিয়ম নেই। দাখিলকৃত অভিযোগটি খতিয়ে দেখে দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে এবং ঘটনার সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ডিলারের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।