বৃহস্পতিবার , ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হোমরাজশাহীআলতাদীঘি জাতীয় উদ্যানে উপড়ে পড়া তিন শতাধিক গাছ নষ্ট
নেপথ্যে বন বিভাগের গাফিলতি ও চুরির মচ্ছব

আলতাদীঘি জাতীয় উদ্যানে উপড়ে পড়া তিন শতাধিক গাছ নষ্ট

favicon
নওগাঁ প্রতিনিধি:
আলতাদীঘি জাতীয় উদ্যানে উপড়ে পড়া তিন শতাধিক গাছ নষ্ট
নওগাঁর ধামইরহাটে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি ‘আলতাদীঘি জাতীয় উদ্যান’-এ ঝড়ে উপড়ে পড়া তিন শতাধিক মূল্যবান গাছ দীর্ঘ সময় ধরে অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে।

প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের প্রতিশ্রুতি থাকলেও নওগাঁর ধামইরহাটে অবস্থিত আলতাদীঘি জাতীয় উদ্যানে চরম অবহেলার চিত্র ফুটে উঠেছে। গত বছর কালবৈশাখী ঝড়ে উপড়ে পড়া তিন শতাধিক মূল্যবান শাল, আকাশমণি ও ইউক্যালিপটাস গাছ দীর্ঘ সময় ধরে বনের ভেতরে পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে। বন বিভাগের রহস্যজনক উদাসীনতা ও লোকবলসংকটের অজুহাতে মূল্যবান এসব কাঠ উন্মুক্ত ফেলে রাখায় রাতের আঁধারে বনখেকো চক্রের যোগসাজশে গাছ চুরির মহোৎসব চলছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

রাজশাহী সামাজিক বন বিভাগের আওতাধীন নওগাঁর পাইকবান্দা রেঞ্জের অধীনে ধামইরহাট ইউনিয়নের জয়জয়পুর এলাকায় প্রায় ২৬৪ দশমিক ১২ হেক্টর প্রাকৃতিক শালবন নিয়ে গড়ে ওঠে এই উদ্যান। পরিবেশের ভারসাম্য ও পর্যটনের বিপুল সম্ভাবনা বিবেচনায় ২০১১ সালে আলতাদীঘি শালবনকে জাতীয় উদ্যান ঘোষণা করা হয়। তবে বর্তমানে কার্যকর নজরদারি ও সময়োপযোগী রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে প্রাকৃতিক এই ঐতিহ্য দুষ্কৃতকারীদের অবাধ বিচরণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।

সরেজমিনে বনের অভ্যন্তরে ঘুরে দেখা গেছে, বিস্তীর্ণ বনাঞ্চলের পূর্ব, পশ্চিম ও উত্তর অংশে সারিবদ্ধভাবে পড়ে রয়েছে বিশাল আকৃতির অসংখ্য গাছ। বছরের পর বছর রোদ-বৃষ্টিতে ভিজে কাঠগুলো পচনের মুখে পড়েছে। বেশ কিছু উপড়ে পড়া গাছের ডালপালা ইতোমধ্যেই কেটে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং কাণ্ড থেকে ছাল-বাকল তুলে কাঠের মান নষ্ট করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, আলতাদীঘির পশ্চিম পাড়ে অর্ধশতাধিক মৃত শালগাছ বছরের পর বছর দাঁড়িয়ে থেকে ঝুঁকির সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, অন্তত আড়াই বছর ধরে এসব মৃত গাছ অপসারণে কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় তা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে এবং বনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য চরমভাবে ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের দাবি, বন বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের শৈথিল্য ও স্থানীয় কতিপয় প্রভাবশালী মহলের যোগসাজশে কাঠ পাচারের নিরাপদ রুট তৈরি হয়েছে। দিনের পর দিন শ্রমিক ও লোকবলসংকটের অজুহাত দেখিয়ে গাছগুলো ফেলে রাখা হয়, আর সেই সুযোগে গভীর রাতে সংঘবদ্ধ চোর চক্র বনের ভেতরে প্রবেশ করে গাছ কেটে পাচার করে দিচ্ছে।

অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে পাইকবান্দা বন বিট কর্মকর্তা আনিসুর রহমান জানান, গত মৌসুমে ঝড়ে আকাশমণি, ইউক্যালিপটাসসহ কিছু শালগাছ উপড়ে পড়েছিল। তবে প্রয়োজনীয় জনবল ও স্থানীয় শ্রমিকসংকটের কারণে তাৎক্ষণিকভাবে সেগুলো অপসারণ বা নিলামের ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়নি।

পাইকবান্দা রেঞ্জ কর্মকর্তা এ কে এম ফরহাদ জাহান জানান, ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত ও উপড়ে পড়া গাছের বিস্তারিত তালিকা প্রস্তুত করে রাজশাহী সামাজিক বন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। অনুমতি মিললেই আইনানুগ প্রক্রিয়ায় কাঠগুলো অপসারণ করা হবে। এছাড়া কাঠ চুরির সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে নিয়মিত আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন।

এদিকে বন বিভাগের এই উদাসীনতা ও অভ্যন্তরীণ অব্যবস্থাপনা সম্পর্কে অবগত নন বলে জানিয়েছেন ধামইরহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী তাহমিনা সারমিন। তিনি বলেন, আলতাদীঘি শালবনের সার্বিক বিষয়ে একাধিক অভিযোগ প্রশাসনের নজরে এসেছে। তবে বনের ভেতরে এত বিপুল পরিমাণ গাছ পড়ে থেকে নষ্ট হওয়া কিংবা চুরির ঘটনার কোনো তথ্য বন বিভাগ স্থানীয় প্রশাসনকে জানায়নি। জাতীয় সম্পদের এমন ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখে দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আলতাদীঘি জাতীয় উদ্যানে উপড়ে পড়া তিন শতাধিক গাছ নষ্ট
নেপথ্যে বন বিভাগের গাফিলতি ও চুরির মচ্ছব
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দৈনিক উপচার
 বৃহস্পতিবার , ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হোমরাজশাহীআলতাদীঘি জাতীয় উদ্যানে উপড়ে পড়া তিন শতাধিক গাছ নষ্ট
নেপথ্যে বন বিভাগের গাফিলতি ও চুরির মচ্ছব

আলতাদীঘি জাতীয় উদ্যানে উপড়ে পড়া তিন শতাধিক গাছ নষ্ট

favicon
নওগাঁ প্রতিনিধি:
আলতাদীঘি জাতীয় উদ্যানে উপড়ে পড়া তিন শতাধিক গাছ নষ্ট
নওগাঁর ধামইরহাটে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি ‘আলতাদীঘি জাতীয় উদ্যান’-এ ঝড়ে উপড়ে পড়া তিন শতাধিক মূল্যবান গাছ দীর্ঘ সময় ধরে অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে।

প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের প্রতিশ্রুতি থাকলেও নওগাঁর ধামইরহাটে অবস্থিত আলতাদীঘি জাতীয় উদ্যানে চরম অবহেলার চিত্র ফুটে উঠেছে। গত বছর কালবৈশাখী ঝড়ে উপড়ে পড়া তিন শতাধিক মূল্যবান শাল, আকাশমণি ও ইউক্যালিপটাস গাছ দীর্ঘ সময় ধরে বনের ভেতরে পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে। বন বিভাগের রহস্যজনক উদাসীনতা ও লোকবলসংকটের অজুহাতে মূল্যবান এসব কাঠ উন্মুক্ত ফেলে রাখায় রাতের আঁধারে বনখেকো চক্রের যোগসাজশে গাছ চুরির মহোৎসব চলছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

রাজশাহী সামাজিক বন বিভাগের আওতাধীন নওগাঁর পাইকবান্দা রেঞ্জের অধীনে ধামইরহাট ইউনিয়নের জয়জয়পুর এলাকায় প্রায় ২৬৪ দশমিক ১২ হেক্টর প্রাকৃতিক শালবন নিয়ে গড়ে ওঠে এই উদ্যান। পরিবেশের ভারসাম্য ও পর্যটনের বিপুল সম্ভাবনা বিবেচনায় ২০১১ সালে আলতাদীঘি শালবনকে জাতীয় উদ্যান ঘোষণা করা হয়। তবে বর্তমানে কার্যকর নজরদারি ও সময়োপযোগী রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে প্রাকৃতিক এই ঐতিহ্য দুষ্কৃতকারীদের অবাধ বিচরণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।

সরেজমিনে বনের অভ্যন্তরে ঘুরে দেখা গেছে, বিস্তীর্ণ বনাঞ্চলের পূর্ব, পশ্চিম ও উত্তর অংশে সারিবদ্ধভাবে পড়ে রয়েছে বিশাল আকৃতির অসংখ্য গাছ। বছরের পর বছর রোদ-বৃষ্টিতে ভিজে কাঠগুলো পচনের মুখে পড়েছে। বেশ কিছু উপড়ে পড়া গাছের ডালপালা ইতোমধ্যেই কেটে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং কাণ্ড থেকে ছাল-বাকল তুলে কাঠের মান নষ্ট করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, আলতাদীঘির পশ্চিম পাড়ে অর্ধশতাধিক মৃত শালগাছ বছরের পর বছর দাঁড়িয়ে থেকে ঝুঁকির সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, অন্তত আড়াই বছর ধরে এসব মৃত গাছ অপসারণে কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় তা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে এবং বনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য চরমভাবে ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের দাবি, বন বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের শৈথিল্য ও স্থানীয় কতিপয় প্রভাবশালী মহলের যোগসাজশে কাঠ পাচারের নিরাপদ রুট তৈরি হয়েছে। দিনের পর দিন শ্রমিক ও লোকবলসংকটের অজুহাত দেখিয়ে গাছগুলো ফেলে রাখা হয়, আর সেই সুযোগে গভীর রাতে সংঘবদ্ধ চোর চক্র বনের ভেতরে প্রবেশ করে গাছ কেটে পাচার করে দিচ্ছে।

অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে পাইকবান্দা বন বিট কর্মকর্তা আনিসুর রহমান জানান, গত মৌসুমে ঝড়ে আকাশমণি, ইউক্যালিপটাসসহ কিছু শালগাছ উপড়ে পড়েছিল। তবে প্রয়োজনীয় জনবল ও স্থানীয় শ্রমিকসংকটের কারণে তাৎক্ষণিকভাবে সেগুলো অপসারণ বা নিলামের ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়নি।

পাইকবান্দা রেঞ্জ কর্মকর্তা এ কে এম ফরহাদ জাহান জানান, ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত ও উপড়ে পড়া গাছের বিস্তারিত তালিকা প্রস্তুত করে রাজশাহী সামাজিক বন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। অনুমতি মিললেই আইনানুগ প্রক্রিয়ায় কাঠগুলো অপসারণ করা হবে। এছাড়া কাঠ চুরির সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে নিয়মিত আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন।

এদিকে বন বিভাগের এই উদাসীনতা ও অভ্যন্তরীণ অব্যবস্থাপনা সম্পর্কে অবগত নন বলে জানিয়েছেন ধামইরহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী তাহমিনা সারমিন। তিনি বলেন, আলতাদীঘি শালবনের সার্বিক বিষয়ে একাধিক অভিযোগ প্রশাসনের নজরে এসেছে। তবে বনের ভেতরে এত বিপুল পরিমাণ গাছ পড়ে থেকে নষ্ট হওয়া কিংবা চুরির ঘটনার কোনো তথ্য বন বিভাগ স্থানীয় প্রশাসনকে জানায়নি। জাতীয় সম্পদের এমন ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখে দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আলতাদীঘি জাতীয় উদ্যানে উপড়ে পড়া তিন শতাধিক গাছ নষ্ট
নেপথ্যে বন বিভাগের গাফিলতি ও চুরির মচ্ছব
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬