বৃহস্পতিবার , ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হোমআজকের শীর্ষ সংবাদপদ্মার চরে পানিবন্দী মানুষের দুর্ভোগ, ডগার ঘাটে ত্রাণ নিয়ে জেলা প্রশাসক

পদ্মার চরে পানিবন্দী মানুষের দুর্ভোগ, ডগার ঘাটে ত্রাণ নিয়ে জেলা প্রশাসক

favicon
স্টাফ রিপোর্টার:
পদ্মার চরে পানিবন্দী মানুষের দুর্ভোগ, ডগার ঘাটে ত্রাণ নিয়ে জেলা প্রশাসক
পানিবন্দী চরবাসীর মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করছেন রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম।

রাজশাহীর পবা উপজেলার পদ্মার দুর্গম চরাঞ্চলে টানা কয়েক দিনের বৃষ্টিতে পানি বেড়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন শত শত মানুষ। পানিতে তলিয়ে গেছে বসতঘর, উঠান ও চলাচলের পথ। ঘরের ভেতর পানি ঢুকে পড়ায় অনেক পরিবার জীবন ও গবাদিপশু রক্ষায় নৌকায় করে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ডগার ঘাট এলাকায় চলে এসেছে। পানিবন্দী অবস্থায় রাত কাটাতে গিয়ে একদিকে সাপের আতঙ্ক, অন্যদিকে লাল পিঁপড়ার কামড়ে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন চরবাসী।

প্রায় এক সপ্তাহ ধরে এমন পরিস্থিতির মধ্যে থাকা চর খিদিরপুর ও মিডল চরের মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে রাজশাহী জেলা প্রশাসন। বুধবার দুপুর ১২টার দিকে পবা উপজেলার হরিয়ান ইউনিয়নের ডগার ঘাট এলাকায় গিয়ে পানিবন্দী মানুষের মধ্যে শুকনো খাবার ও প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম। তিনি দুর্গত মানুষের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের জন্য দুপুরের খাবারেরও ব্যবস্থা করেন।

জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম জানান, পদ্মার পানি বৃদ্ধির কারণে চর খিদিরপুর ও মিডল চরের প্রায় ২০০ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব পরিবারের মধ্যে সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। ত্রাণসামগ্রীর মধ্যে প্রায় ২৫ ধরনের পণ্য রয়েছে। দুর্গত মানুষের তাৎক্ষণিক খাদ্য ও প্রয়োজনীয় সহায়তার পাশাপাশি তাঁদের স্বাস্থ্যসেবার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বন্যাকবলিত মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে চর, মাঝারচরসহ তিনটি এলাকায় মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালনা করা হচ্ছে। এসব ক্যাম্পে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ এবং প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে বন্যার পানির কারণে পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় এ বিষয়ে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে।

দুর্গত মানুষের অস্থায়ী আশ্রয়ের জন্য ভ্রাম্যমাণভাবে একটি নিরাপদ স্থানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেখানে মানুষের পাশাপাশি গবাদিপশু রাখার সুযোগও রয়েছে। ফলে ঘরবাড়ি ছেড়ে আসা পরিবারগুলো অন্তত তাদের গবাদিপশু নিয়ে নিরাপদে অবস্থান করতে পারছেন।

তবে চর খিদিরপুরের মানুষের দীর্ঘমেয়াদি দুর্ভোগ নিরসনে স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে প্রশাসন। জেলা প্রশাসক বলেন, এ বিষয়ে সরকারের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রায় ১০ ফুট উঁচু দুটি বড় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে দুর্গত মানুষের পাশাপাশি কয়েক হাজার গবাদিপশু রাখার ব্যবস্থা থাকবে। ফলে ভবিষ্যতে পদ্মার পানি বৃদ্ধি বা বন্যার সময় চরবাসী ও তাঁদের গবাদিপশুকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, টানা কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টির পর পদ্মার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় খিদিরপুর মিডল চরের প্রায় সাড়ে তিন শতাধিক পরিবার এবং প্রায় ১০ হাজার গবাদিপশু পানিবন্দী হয়ে পড়ে। পানি বাড়তে থাকায় বসতঘর, উঠান ও চলাচলের রাস্তা তলিয়ে যায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে অধিকাংশ পরিবার গবাদিপশু, প্রয়োজনীয় মালামাল ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নৌকায় করে ডগার ঘাট এলাকায় চলে আসে।

চর খিদিরপুরের কৃষক জামু আলী জানান, প্রায় আট দিন ধরে মিডল চরের কয়েক শ পরিবার পানিবন্দী অবস্থায় রয়েছে। একই সঙ্গে বিপুলসংখ্যক গবাদিপশুও পানির মধ্যে আটকা পড়ে আছে। জীবন ও গবাদিপশু রক্ষায় অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে নৌকায় করে পদ্মার এপারে চলে এসেছে। তিনিও পরিবারের সদস্য, গরু ও প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র নিয়ে ডগার ঘাটে আশ্রয় নিয়েছেন।

চর খিদিরপুরের বাসিন্দা মনোয়ারা বেগম বলেন, কয়েক দিন ধরে পানির কারণে তাঁদের চরম কষ্টের মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রাণ পাওয়ায় কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে।

কৃষক বজলুর রশিদ বলেন, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে তাঁরা পানিবন্দী। এই দুর্যোগের সময়ে ত্রাণ সহায়তা তাঁদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত সহায়তা দেওয়ায় দুর্গত মানুষের কষ্ট কিছুটা কমেছে বলেও জানান তিনি।

চর খিদিরপুরের আরেক বাসিন্দা কৃষক রেজাউল করিমের বাড়িঘরও এক সপ্তাহ ধরে পানির নিচে। পানির মধ্যে বসবাস করতে গিয়ে সাপের আতঙ্ক এবং লাল পিঁপড়ার কামড়ে তাঁর পরিবারের সদস্যরা রাতে ঠিকমতো ঘুমাতেও পারছেন না। পরিস্থিতি অসহনীয় হয়ে পড়ায় স্ত্রী, ছেলে ও গবাদিপশু নিয়ে নৌকায় করে ডগার ঘাটে আশ্রয় নিয়েছেন তিনি।

রেজাউল করিম বলেন, পানির মধ্যে আর থাকা সম্ভব হচ্ছিল না। তাই স্ত্রী, ছেলে ও গরু নিয়ে নৌকায় করে ডগার ঘাটে চলে এসেছেন। পানি না কমা পর্যন্ত সেখানেই অবস্থান করবেন বলে জানান তিনি।

পবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইবনুল আবেদীন জানান, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন এবং দুর্গম পদ্মার চরাঞ্চলে পর্যায়ক্রমে খাদ্যসহায়তা বিতরণ করা হচ্ছে। দুর্গত মানুষের জরুরি প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে জলাবদ্ধতা নিরসনে অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধেও উপজেলা প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

ত্রাণ বিতরণ ও দুর্গত এলাকা পরিদর্শনের সময় সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ মেহেদী হাসানসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পদ্মার চরাঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রা স্বাভাবিক করতে তাৎক্ষণিক ত্রাণ ও চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি স্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। তাঁদের প্রত্যাশা, দ্রুত পানি কমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পাশাপাশি প্রস্তাবিত আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের কাজও দ্রুত শুরু হবে।

পদ্মার চরে পানিবন্দী মানুষের দুর্ভোগ, ডগার ঘাটে ত্রাণ নিয়ে জেলা প্রশাসক
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দৈনিক উপচার
 বৃহস্পতিবার , ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হোমআজকের শীর্ষ সংবাদপদ্মার চরে পানিবন্দী মানুষের দুর্ভোগ, ডগার ঘাটে ত্রাণ নিয়ে জেলা প্রশাসক

পদ্মার চরে পানিবন্দী মানুষের দুর্ভোগ, ডগার ঘাটে ত্রাণ নিয়ে জেলা প্রশাসক

favicon
স্টাফ রিপোর্টার:
পদ্মার চরে পানিবন্দী মানুষের দুর্ভোগ, ডগার ঘাটে ত্রাণ নিয়ে জেলা প্রশাসক
পানিবন্দী চরবাসীর মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করছেন রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম।

রাজশাহীর পবা উপজেলার পদ্মার দুর্গম চরাঞ্চলে টানা কয়েক দিনের বৃষ্টিতে পানি বেড়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন শত শত মানুষ। পানিতে তলিয়ে গেছে বসতঘর, উঠান ও চলাচলের পথ। ঘরের ভেতর পানি ঢুকে পড়ায় অনেক পরিবার জীবন ও গবাদিপশু রক্ষায় নৌকায় করে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ডগার ঘাট এলাকায় চলে এসেছে। পানিবন্দী অবস্থায় রাত কাটাতে গিয়ে একদিকে সাপের আতঙ্ক, অন্যদিকে লাল পিঁপড়ার কামড়ে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন চরবাসী।

প্রায় এক সপ্তাহ ধরে এমন পরিস্থিতির মধ্যে থাকা চর খিদিরপুর ও মিডল চরের মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে রাজশাহী জেলা প্রশাসন। বুধবার দুপুর ১২টার দিকে পবা উপজেলার হরিয়ান ইউনিয়নের ডগার ঘাট এলাকায় গিয়ে পানিবন্দী মানুষের মধ্যে শুকনো খাবার ও প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম। তিনি দুর্গত মানুষের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের জন্য দুপুরের খাবারেরও ব্যবস্থা করেন।

জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম জানান, পদ্মার পানি বৃদ্ধির কারণে চর খিদিরপুর ও মিডল চরের প্রায় ২০০ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব পরিবারের মধ্যে সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। ত্রাণসামগ্রীর মধ্যে প্রায় ২৫ ধরনের পণ্য রয়েছে। দুর্গত মানুষের তাৎক্ষণিক খাদ্য ও প্রয়োজনীয় সহায়তার পাশাপাশি তাঁদের স্বাস্থ্যসেবার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বন্যাকবলিত মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে চর, মাঝারচরসহ তিনটি এলাকায় মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালনা করা হচ্ছে। এসব ক্যাম্পে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ এবং প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে বন্যার পানির কারণে পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় এ বিষয়ে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে।

দুর্গত মানুষের অস্থায়ী আশ্রয়ের জন্য ভ্রাম্যমাণভাবে একটি নিরাপদ স্থানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেখানে মানুষের পাশাপাশি গবাদিপশু রাখার সুযোগও রয়েছে। ফলে ঘরবাড়ি ছেড়ে আসা পরিবারগুলো অন্তত তাদের গবাদিপশু নিয়ে নিরাপদে অবস্থান করতে পারছেন।

তবে চর খিদিরপুরের মানুষের দীর্ঘমেয়াদি দুর্ভোগ নিরসনে স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে প্রশাসন। জেলা প্রশাসক বলেন, এ বিষয়ে সরকারের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রায় ১০ ফুট উঁচু দুটি বড় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে দুর্গত মানুষের পাশাপাশি কয়েক হাজার গবাদিপশু রাখার ব্যবস্থা থাকবে। ফলে ভবিষ্যতে পদ্মার পানি বৃদ্ধি বা বন্যার সময় চরবাসী ও তাঁদের গবাদিপশুকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, টানা কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টির পর পদ্মার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় খিদিরপুর মিডল চরের প্রায় সাড়ে তিন শতাধিক পরিবার এবং প্রায় ১০ হাজার গবাদিপশু পানিবন্দী হয়ে পড়ে। পানি বাড়তে থাকায় বসতঘর, উঠান ও চলাচলের রাস্তা তলিয়ে যায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে অধিকাংশ পরিবার গবাদিপশু, প্রয়োজনীয় মালামাল ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নৌকায় করে ডগার ঘাট এলাকায় চলে আসে।

চর খিদিরপুরের কৃষক জামু আলী জানান, প্রায় আট দিন ধরে মিডল চরের কয়েক শ পরিবার পানিবন্দী অবস্থায় রয়েছে। একই সঙ্গে বিপুলসংখ্যক গবাদিপশুও পানির মধ্যে আটকা পড়ে আছে। জীবন ও গবাদিপশু রক্ষায় অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে নৌকায় করে পদ্মার এপারে চলে এসেছে। তিনিও পরিবারের সদস্য, গরু ও প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র নিয়ে ডগার ঘাটে আশ্রয় নিয়েছেন।

চর খিদিরপুরের বাসিন্দা মনোয়ারা বেগম বলেন, কয়েক দিন ধরে পানির কারণে তাঁদের চরম কষ্টের মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রাণ পাওয়ায় কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে।

কৃষক বজলুর রশিদ বলেন, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে তাঁরা পানিবন্দী। এই দুর্যোগের সময়ে ত্রাণ সহায়তা তাঁদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত সহায়তা দেওয়ায় দুর্গত মানুষের কষ্ট কিছুটা কমেছে বলেও জানান তিনি।

চর খিদিরপুরের আরেক বাসিন্দা কৃষক রেজাউল করিমের বাড়িঘরও এক সপ্তাহ ধরে পানির নিচে। পানির মধ্যে বসবাস করতে গিয়ে সাপের আতঙ্ক এবং লাল পিঁপড়ার কামড়ে তাঁর পরিবারের সদস্যরা রাতে ঠিকমতো ঘুমাতেও পারছেন না। পরিস্থিতি অসহনীয় হয়ে পড়ায় স্ত্রী, ছেলে ও গবাদিপশু নিয়ে নৌকায় করে ডগার ঘাটে আশ্রয় নিয়েছেন তিনি।

রেজাউল করিম বলেন, পানির মধ্যে আর থাকা সম্ভব হচ্ছিল না। তাই স্ত্রী, ছেলে ও গরু নিয়ে নৌকায় করে ডগার ঘাটে চলে এসেছেন। পানি না কমা পর্যন্ত সেখানেই অবস্থান করবেন বলে জানান তিনি।

পবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইবনুল আবেদীন জানান, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন এবং দুর্গম পদ্মার চরাঞ্চলে পর্যায়ক্রমে খাদ্যসহায়তা বিতরণ করা হচ্ছে। দুর্গত মানুষের জরুরি প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে জলাবদ্ধতা নিরসনে অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধেও উপজেলা প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

ত্রাণ বিতরণ ও দুর্গত এলাকা পরিদর্শনের সময় সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ মেহেদী হাসানসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পদ্মার চরাঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রা স্বাভাবিক করতে তাৎক্ষণিক ত্রাণ ও চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি স্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। তাঁদের প্রত্যাশা, দ্রুত পানি কমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পাশাপাশি প্রস্তাবিত আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের কাজও দ্রুত শুরু হবে।

পদ্মার চরে পানিবন্দী মানুষের দুর্ভোগ, ডগার ঘাটে ত্রাণ নিয়ে জেলা প্রশাসক
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬