মঙ্গলবার , ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হোমআজকের শীর্ষ সংবাদচার সার কারখানায় অতিরিক্ত ৬২ কোটি টাকার বোঝা

চার সার কারখানায় অতিরিক্ত ৬২ কোটি টাকার বোঝা

favicon
উপচার ডেস্ক :-
চার সার কারখানায় অতিরিক্ত ৬২ কোটি টাকার বোঝা

গ্যাস সংকটের কারণে মাসের পর মাস উৎপাদন বন্ধ থাকলেও রাষ্ট্রায়ত্ত চার ইউরিয়া সার কারখানায় চেপে বসেছে নতুন বর্ধিত গ্যাস বিলের ভারী বোঝা। কারখানাগুলোর সংবেদনশীল যন্ত্রপাতি ও প্ল্যান্ট সচল রাখতে যে সামান্য গ্যাস ব্যবহার করা হয়েছে, তার ওপর নতুন ও উচ্চমূল্যের দর কার্যকর করায় অতিরিক্ত প্রায় ৬১ কোটি ৭৮ লাখ টাকার আর্থিক দায় তৈরি হয়েছে। এ অতিরিক্ত আর্থিক চাপ কমাতে উৎপাদন বন্ধ থাকা সময়ের জন্য প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের দাম ২৯ টাকা ২৫ পয়সার বদলে পূর্বের ১৬ টাকা বহাল রাখার অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি)।

সম্প্রতি শিল্প মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক চিঠিতে বিসিআইসির চেয়ারম্যান ড. মো. মাহমুদুর রহমান এ বিষয়ে জরুরি পদক্ষেপ নিতে জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ এবং অর্থ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। চিঠির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত গ্যাস সংকটের কারণে উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ থাকলেও চার কারখানায় প্ল্যান্ট সুরক্ষায় মোট ৪ কোটি ৬৬ লাখ ২৫ হাজার ৩৮৬ ঘনমিটার গ্যাস ব্যবহার করতে হয়। নতুন নির্ধারিত ২৯ টাকা ২৫ পয়সা দর অনুযায়ী এর বিল দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৩৬ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। অথচ আগের ১৬ টাকা দর বহাল থাকলে এই ব্যয় হতো প্রায় ৭৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা। ফলে উৎপাদন না থাকা সত্ত্বেও স্রেফ মূল্যবৃদ্ধির কারণে চার কারখানাকে অতিরিক্ত ৬১ কোটি ৭৮ লাখ টাকা পরিশোধের মুখে পড়তে হচ্ছে।

ইউরিয়া সার কারখানার প্রকৌশলীদের মতে, রাসায়নিক প্ল্যান্ট দীর্ঘ সময় সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা প্রযুক্তিগতভাবে মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। এসব প্ল্যান্টে বিভিন্ন ক্ষয়কারী রাসায়নিক উপাদান ব্যবহৃত হওয়ায় দীর্ঘ বিরতিতে যন্ত্রপাতিতে দ্রুত মরিচা ধরা ও ক্ষয়িষ্ণু হওয়ার আশঙ্কা থাকে। ফলে পুনরায় দ্রুত উৎপাদনে ফেরার সক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে ও কারখানার সুরক্ষায় ন্যূনতম পরিমাণ গ্যাস সরবরাহ সচল রাখতে হয়। গত বছরের নভেম্বরে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) সার কারখানায় গ্যাসের দাম প্রতি ঘনমিটার ১৬ টাকা থেকে একলাফে ৮৩ শতাংশ বাড়িয়ে ২৯ টাকা ২৫ পয়সা নির্ধারণ করে, যা ২০২৫ সালের ১ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হয়। একদিকে উৎপাদন স্থবিরতা এবং অন্যদিকে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তা ব্যয়ের সঙ্গে এই চড়া বিল যুক্ত হওয়ায় কারখানাগুলোর ওপর মারাত্মক আর্থিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

বিসিআইসির পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার মেয়াদ কারখানাভেদে ৩২ থেকে ১৭৩ দিন পর্যন্ত দীর্ঘায়িত হয়। এই বিরূপ পরিস্থিতির মুখে পড়ে দেশের গুরুত্বপূর্ণ চার শিল্পপ্রতিষ্ঠান-ঘোড়াশাল পলাশ ফার্টিলাইজার পিএলসি, আশুগঞ্জ ফার্টিলাইজার অ্যান্ড কেমিক্যাল কোম্পানি, চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড (সিইউএফএল) এবং যমুনা ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড। সংস্থাটির আশঙ্কা, উৎপাদনহীন অবস্থায় বর্ধিত দর চাপিয়ে দিলে কারখানাগুলো গভীর আর্থিক সংকটে পড়বে। সরকারের নির্ধারিত ১৮ লাখ টন ইউরিয়া উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এই কারখানাগুলো সার্বক্ষণিক চালু রাখা অপরিহার্য হলেও জ্বালানি ঘাটতির কারণে চলতি বছরের মার্চ থেকেই সংকট তীব্র আকার ধারণ করে। পাঁচটি কারখানার পূর্ণ সক্ষমতায় দৈনিক প্রায় ১৯৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন হলেও পর্যাপ্ত সরবরাহের অভাবে উৎপাদন তলানিতে নামে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জাতীয় পর্যায়ে সামগ্রিক গ্যাস ঘাটতির কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন, সার ও সাধারণ শিল্পখাতে বরাদ্দ সমন্বয় করতে হচ্ছে। বিশেষ করে বিদ্যুৎ উৎপাদন নিরবচ্ছিন্ন রাখার অগ্রাধিকার বিবেচনায় সার কারখানায় সার্বক্ষণিক সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। তবে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ বাড়লে সার কারখানায় পর্যায়ক্রমে গ্যাসের প্রবাহ স্বাভাবিক করা হবে।

অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিসিআইসির এই আবেদনটি কেবল একটি সংস্থার অতিরিক্ত বিলের বিষয় নয়; বরং এর সঙ্গে সার উৎপাদন, কৃষি খাতের ভর্তুকি সমন্বয় ও সার আমদানির মতো সামগ্রিক সামষ্টিক অর্থনীতির ব্যবস্থাপনা জড়িত। এর আগেও ২০২২ সালে সার কারখানার গ্যাসের মূল্য ৪ টাকা ৪৫ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১৬ টাকা করার পর বড় অঙ্কের আর্থিক ঘাটতি তৈরি হয়েছিল, যা ট্রেড গ্যাপ বা সমন্বয় ব্যবস্থার মাধ্যমে সামাল দিতে হয়। ফলে উৎপাদন বন্ধ থাকাকালীন গ্যাসের পুরোনো দর কার্যকরের দাবিটি সংশ্লিষ্ট সব দিক বিবেচনা করেই নীতিগত সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

চার সার কারখানায় অতিরিক্ত ৬২ কোটি টাকার বোঝা
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দৈনিক উপচার
 মঙ্গলবার , ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হোমআজকের শীর্ষ সংবাদচার সার কারখানায় অতিরিক্ত ৬২ কোটি টাকার বোঝা

চার সার কারখানায় অতিরিক্ত ৬২ কোটি টাকার বোঝা

favicon
উপচার ডেস্ক :-
চার সার কারখানায় অতিরিক্ত ৬২ কোটি টাকার বোঝা

গ্যাস সংকটের কারণে মাসের পর মাস উৎপাদন বন্ধ থাকলেও রাষ্ট্রায়ত্ত চার ইউরিয়া সার কারখানায় চেপে বসেছে নতুন বর্ধিত গ্যাস বিলের ভারী বোঝা। কারখানাগুলোর সংবেদনশীল যন্ত্রপাতি ও প্ল্যান্ট সচল রাখতে যে সামান্য গ্যাস ব্যবহার করা হয়েছে, তার ওপর নতুন ও উচ্চমূল্যের দর কার্যকর করায় অতিরিক্ত প্রায় ৬১ কোটি ৭৮ লাখ টাকার আর্থিক দায় তৈরি হয়েছে। এ অতিরিক্ত আর্থিক চাপ কমাতে উৎপাদন বন্ধ থাকা সময়ের জন্য প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের দাম ২৯ টাকা ২৫ পয়সার বদলে পূর্বের ১৬ টাকা বহাল রাখার অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি)।

সম্প্রতি শিল্প মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক চিঠিতে বিসিআইসির চেয়ারম্যান ড. মো. মাহমুদুর রহমান এ বিষয়ে জরুরি পদক্ষেপ নিতে জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ এবং অর্থ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। চিঠির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত গ্যাস সংকটের কারণে উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ থাকলেও চার কারখানায় প্ল্যান্ট সুরক্ষায় মোট ৪ কোটি ৬৬ লাখ ২৫ হাজার ৩৮৬ ঘনমিটার গ্যাস ব্যবহার করতে হয়। নতুন নির্ধারিত ২৯ টাকা ২৫ পয়সা দর অনুযায়ী এর বিল দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৩৬ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। অথচ আগের ১৬ টাকা দর বহাল থাকলে এই ব্যয় হতো প্রায় ৭৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা। ফলে উৎপাদন না থাকা সত্ত্বেও স্রেফ মূল্যবৃদ্ধির কারণে চার কারখানাকে অতিরিক্ত ৬১ কোটি ৭৮ লাখ টাকা পরিশোধের মুখে পড়তে হচ্ছে।

ইউরিয়া সার কারখানার প্রকৌশলীদের মতে, রাসায়নিক প্ল্যান্ট দীর্ঘ সময় সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা প্রযুক্তিগতভাবে মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। এসব প্ল্যান্টে বিভিন্ন ক্ষয়কারী রাসায়নিক উপাদান ব্যবহৃত হওয়ায় দীর্ঘ বিরতিতে যন্ত্রপাতিতে দ্রুত মরিচা ধরা ও ক্ষয়িষ্ণু হওয়ার আশঙ্কা থাকে। ফলে পুনরায় দ্রুত উৎপাদনে ফেরার সক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে ও কারখানার সুরক্ষায় ন্যূনতম পরিমাণ গ্যাস সরবরাহ সচল রাখতে হয়। গত বছরের নভেম্বরে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) সার কারখানায় গ্যাসের দাম প্রতি ঘনমিটার ১৬ টাকা থেকে একলাফে ৮৩ শতাংশ বাড়িয়ে ২৯ টাকা ২৫ পয়সা নির্ধারণ করে, যা ২০২৫ সালের ১ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হয়। একদিকে উৎপাদন স্থবিরতা এবং অন্যদিকে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তা ব্যয়ের সঙ্গে এই চড়া বিল যুক্ত হওয়ায় কারখানাগুলোর ওপর মারাত্মক আর্থিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

বিসিআইসির পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার মেয়াদ কারখানাভেদে ৩২ থেকে ১৭৩ দিন পর্যন্ত দীর্ঘায়িত হয়। এই বিরূপ পরিস্থিতির মুখে পড়ে দেশের গুরুত্বপূর্ণ চার শিল্পপ্রতিষ্ঠান-ঘোড়াশাল পলাশ ফার্টিলাইজার পিএলসি, আশুগঞ্জ ফার্টিলাইজার অ্যান্ড কেমিক্যাল কোম্পানি, চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড (সিইউএফএল) এবং যমুনা ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড। সংস্থাটির আশঙ্কা, উৎপাদনহীন অবস্থায় বর্ধিত দর চাপিয়ে দিলে কারখানাগুলো গভীর আর্থিক সংকটে পড়বে। সরকারের নির্ধারিত ১৮ লাখ টন ইউরিয়া উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এই কারখানাগুলো সার্বক্ষণিক চালু রাখা অপরিহার্য হলেও জ্বালানি ঘাটতির কারণে চলতি বছরের মার্চ থেকেই সংকট তীব্র আকার ধারণ করে। পাঁচটি কারখানার পূর্ণ সক্ষমতায় দৈনিক প্রায় ১৯৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন হলেও পর্যাপ্ত সরবরাহের অভাবে উৎপাদন তলানিতে নামে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জাতীয় পর্যায়ে সামগ্রিক গ্যাস ঘাটতির কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন, সার ও সাধারণ শিল্পখাতে বরাদ্দ সমন্বয় করতে হচ্ছে। বিশেষ করে বিদ্যুৎ উৎপাদন নিরবচ্ছিন্ন রাখার অগ্রাধিকার বিবেচনায় সার কারখানায় সার্বক্ষণিক সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। তবে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ বাড়লে সার কারখানায় পর্যায়ক্রমে গ্যাসের প্রবাহ স্বাভাবিক করা হবে।

অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিসিআইসির এই আবেদনটি কেবল একটি সংস্থার অতিরিক্ত বিলের বিষয় নয়; বরং এর সঙ্গে সার উৎপাদন, কৃষি খাতের ভর্তুকি সমন্বয় ও সার আমদানির মতো সামগ্রিক সামষ্টিক অর্থনীতির ব্যবস্থাপনা জড়িত। এর আগেও ২০২২ সালে সার কারখানার গ্যাসের মূল্য ৪ টাকা ৪৫ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১৬ টাকা করার পর বড় অঙ্কের আর্থিক ঘাটতি তৈরি হয়েছিল, যা ট্রেড গ্যাপ বা সমন্বয় ব্যবস্থার মাধ্যমে সামাল দিতে হয়। ফলে উৎপাদন বন্ধ থাকাকালীন গ্যাসের পুরোনো দর কার্যকরের দাবিটি সংশ্লিষ্ট সব দিক বিবেচনা করেই নীতিগত সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

চার সার কারখানায় অতিরিক্ত ৬২ কোটি টাকার বোঝা
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬