বৃহস্পতিবার , ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হোমআজকের শীর্ষ সংবাদরুমিনের বক্তব্যে উত্তপ্ত সংসদ, পাল্টাপাল্টি হট্টগোল ও ওয়াকআউট

রুমিনের বক্তব্যে উত্তপ্ত সংসদ, পাল্টাপাল্টি হট্টগোল ও ওয়াকআউট

favicon
উপচার ডেস্ক :-
রুমিনের বক্তব্যে উত্তপ্ত সংসদ, পাল্টাপাল্টি হট্টগোল ও ওয়াকআউট
জাতীয় সংসদে রুমিন ফারহানা ক্ষমতাসীন দল বিএনপির অতীত ও বর্তমান রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কঠোর সমালোচনা করেন।

জাতীয় সংসদে নানা নাটকীয়তা ও তীব্র হট্টগোলের মধ্য দিয়ে বহুল আলোচিত ‘ব্যাংক রেজল্যুশন (সংশোধন) বিল’ পাস হয়েছে। বিলটি পাসের প্রক্রিয়া চলাকালে জনমত যাচাইয়ের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার কড়া রাজনৈতিক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে অধিবেশনকক্ষ চরম বিশৃঙ্খল রূপ নেয়। ক্ষমতাসীন সরকারি দলের সদস্যদের দফায় দফায় বাধা ও উচ্চবাচ্যের মুখে একপর্যায়ে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় ও ওয়াকআউটের মতো ঘটনাও ঘটে।

বিলের ওপর বক্তব্য রাখতে গিয়ে রুমিন ফারহানা ক্ষমতাসীন দল বিএনপির অতীত ও বর্তমান রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি মন্তব্য করেন, প্রতিটি সরকারের নিজস্ব কিছু চরিত্র থাকে। তিনি দাবি করেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে বিদ্যুৎ, গ্যাস কিংবা সারের সংকট হবে না-এমনটি ভাবা বাস্তবসম্মত নয়। অতীতে সারের দাবিতে কৃষকদের কারখানামুখী হওয়া ও লুটপাটের স্মৃতি উল্লেখ করার পাশাপাশি তিনি বলেন, সরকারের মেয়াদে ঋণখেলাপি ও দুর্নীতির শীর্ষে থাকার পুনরাবৃত্তি ঘটবে এটাই তাদের স্বভাবসুলভ রাজনীতি। এমনকি চলতি সংসদে উপস্থিত অনেক সদস্যই অতীতে ঋণখেলাপি হিসেবে চিহ্নিত ছিলেন এবং নির্বাচনের আগে উচ্চ আদালতে রিট করে বৈধতা নেওয়ার পুরোনো কৌশল অবলম্বন করেছেন বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি।

রুমিন ফারহানার এমন বক্তব্যে সরকারি দলের সদস্যরা চরম ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। দফায় দফায় হইচই ও প্রতিবাদের মুখে একপর্যায়ে রুমিন ফারহানা মন্তব্য করেন যে, সংসদের এমন অসহিষ্ণু আচরণ আওয়ামী লীগ সরকারের পুরোনো সংস্কৃতির কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। নির্ধারিত সময় শেষ হয়ে যাওয়ায় মাইক বন্ধ হওয়ার পরও তিনি নিজের বক্তব্য চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় তাঁর বিরুদ্ধে সরকারি দলের কয়েকজন সদস্য অশালীন শব্দ প্রয়োগ করেছেন বলে অভিযোগ ওঠে, যা অধিবেশনে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে দেয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সভাপতিমণ্ডলীর আসনে থাকা ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বারবার সংসদ সদস্যদের শান্ত হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি সরকারি দলের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনির দৃষ্টি আকর্ষণ করে স্মরণ করিয়ে দেন যে, গণতান্ত্রিক রীতিনীতি অনুযায়ী প্রত্যেক সদস্যেরই সংসদে স্বাধীনভাবে বক্তব্য উপস্থাপনের অধিকার রয়েছে। কোনো বক্তব্য অগ্রহণযোগ্য বা অসংসদীয় হলে তা এক্সপাঞ্জ করার বা যুক্তি দিয়ে খণ্ডন করার নিয়ম রয়েছে, তবে সরাসরি বক্তব্য প্রদানে বাধা দেওয়া কিংবা হাউসের শৃঙ্খলা নষ্ট করা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

অধিবেশনের এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিরোধীদলীয় সদস্যরাও। রুমিন ফারহানাকে লক্ষ্য করে আপত্তিকর মন্তব্যের প্রতিবাদে এনসিপির সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ তাৎক্ষণিক তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে সাময়িকভাবে সংসদকক্ষ ত্যাগ করেন। পরবর্তীতে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান ফ্লোর নিয়ে সরকারি দলের অসহিষ্ণু আচরণের নিন্দা জানান। তিনি উল্লেখ করেন, একজন সংসদ সদস্যের বক্তব্য ভালো কিংবা মন্দ যা-ই হোক না কেন, তা শোনার পরিবেশ তৈরি করা সংসদের মৌলিক শিষ্টাচার। অব্যাহত হইচইয়ের কারণে প্রকৃত বক্তব্য সদস্যদের কান পর্যন্ত পৌঁছায়নি বলেও তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করেন।

বিতর্কিত এ পরিস্থিতির মধ্যেই চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি দাবি করেন, সরকার ইতিবাচক ও সুস্থ আলোচনার পক্ষে থাকলেও সদস্যদের বক্তব্য প্রদানে দায়িত্বশীল আচরণ করা উচিত। অন্যদিকে সরকারের নেওয়া সংস্কারমূলক উদ্যোগের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বক্তব্য রাখেন এনসিপির অপর সদস্য আখতার হোসেন। উদ্ভূত বিশৃঙ্খলার কারণে চরম হতাশা প্রকাশ করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি জানান, বিলের মূল অর্থনৈতিক সারমর্ম ছাপিয়ে অপ্রাসঙ্গিক তর্কবিতর্কে অধিবেশনের পরিবেশ বিনষ্ট হওয়া দুঃখজনক।

পরবর্তীতে স্পিকার বিলটি ভোটে দিলে সরকারি দলের ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে তা পাস হয়। তবে ভোটাভুটির পুরো প্রক্রিয়ায় নীরব ভূমিকা পালন করে বিরোধী দল। বিল পাসের সময় সংসদকক্ষ থেকে প্রতিবাদস্বরূপ বেরিয়ে যান রুমিন ফারহানা এবং তাঁর সঙ্গে সংহতি জানিয়ে কক্ষ ত্যাগ করেন হান্নান মাসউদ। অধিবেশন শেষে রুমিন ফারহানা গণমাধ্যমের কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযোগ করেন, সরকারি দলের পক্ষ থেকে তাঁর প্রতি অশ্রাব্য ভাষা প্রয়োগ করা হয়েছে এবং হুইপের ভূমিকাও হাউসের শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশ্নবিদ্ধ ছিল। অধিবেশন চলাকালে সংসদকক্ষে সরকারপ্রধান উপস্থিত ছিলেন না।

রুমিনের বক্তব্যে উত্তপ্ত সংসদ, পাল্টাপাল্টি হট্টগোল ও ওয়াকআউট
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দৈনিক উপচার
 বৃহস্পতিবার , ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হোমআজকের শীর্ষ সংবাদরুমিনের বক্তব্যে উত্তপ্ত সংসদ, পাল্টাপাল্টি হট্টগোল ও ওয়াকআউট

রুমিনের বক্তব্যে উত্তপ্ত সংসদ, পাল্টাপাল্টি হট্টগোল ও ওয়াকআউট

favicon
উপচার ডেস্ক :-
রুমিনের বক্তব্যে উত্তপ্ত সংসদ, পাল্টাপাল্টি হট্টগোল ও ওয়াকআউট
জাতীয় সংসদে রুমিন ফারহানা ক্ষমতাসীন দল বিএনপির অতীত ও বর্তমান রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কঠোর সমালোচনা করেন।

জাতীয় সংসদে নানা নাটকীয়তা ও তীব্র হট্টগোলের মধ্য দিয়ে বহুল আলোচিত ‘ব্যাংক রেজল্যুশন (সংশোধন) বিল’ পাস হয়েছে। বিলটি পাসের প্রক্রিয়া চলাকালে জনমত যাচাইয়ের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার কড়া রাজনৈতিক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে অধিবেশনকক্ষ চরম বিশৃঙ্খল রূপ নেয়। ক্ষমতাসীন সরকারি দলের সদস্যদের দফায় দফায় বাধা ও উচ্চবাচ্যের মুখে একপর্যায়ে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় ও ওয়াকআউটের মতো ঘটনাও ঘটে।

বিলের ওপর বক্তব্য রাখতে গিয়ে রুমিন ফারহানা ক্ষমতাসীন দল বিএনপির অতীত ও বর্তমান রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি মন্তব্য করেন, প্রতিটি সরকারের নিজস্ব কিছু চরিত্র থাকে। তিনি দাবি করেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে বিদ্যুৎ, গ্যাস কিংবা সারের সংকট হবে না-এমনটি ভাবা বাস্তবসম্মত নয়। অতীতে সারের দাবিতে কৃষকদের কারখানামুখী হওয়া ও লুটপাটের স্মৃতি উল্লেখ করার পাশাপাশি তিনি বলেন, সরকারের মেয়াদে ঋণখেলাপি ও দুর্নীতির শীর্ষে থাকার পুনরাবৃত্তি ঘটবে এটাই তাদের স্বভাবসুলভ রাজনীতি। এমনকি চলতি সংসদে উপস্থিত অনেক সদস্যই অতীতে ঋণখেলাপি হিসেবে চিহ্নিত ছিলেন এবং নির্বাচনের আগে উচ্চ আদালতে রিট করে বৈধতা নেওয়ার পুরোনো কৌশল অবলম্বন করেছেন বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি।

রুমিন ফারহানার এমন বক্তব্যে সরকারি দলের সদস্যরা চরম ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। দফায় দফায় হইচই ও প্রতিবাদের মুখে একপর্যায়ে রুমিন ফারহানা মন্তব্য করেন যে, সংসদের এমন অসহিষ্ণু আচরণ আওয়ামী লীগ সরকারের পুরোনো সংস্কৃতির কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। নির্ধারিত সময় শেষ হয়ে যাওয়ায় মাইক বন্ধ হওয়ার পরও তিনি নিজের বক্তব্য চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় তাঁর বিরুদ্ধে সরকারি দলের কয়েকজন সদস্য অশালীন শব্দ প্রয়োগ করেছেন বলে অভিযোগ ওঠে, যা অধিবেশনে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে দেয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সভাপতিমণ্ডলীর আসনে থাকা ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বারবার সংসদ সদস্যদের শান্ত হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি সরকারি দলের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনির দৃষ্টি আকর্ষণ করে স্মরণ করিয়ে দেন যে, গণতান্ত্রিক রীতিনীতি অনুযায়ী প্রত্যেক সদস্যেরই সংসদে স্বাধীনভাবে বক্তব্য উপস্থাপনের অধিকার রয়েছে। কোনো বক্তব্য অগ্রহণযোগ্য বা অসংসদীয় হলে তা এক্সপাঞ্জ করার বা যুক্তি দিয়ে খণ্ডন করার নিয়ম রয়েছে, তবে সরাসরি বক্তব্য প্রদানে বাধা দেওয়া কিংবা হাউসের শৃঙ্খলা নষ্ট করা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

অধিবেশনের এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিরোধীদলীয় সদস্যরাও। রুমিন ফারহানাকে লক্ষ্য করে আপত্তিকর মন্তব্যের প্রতিবাদে এনসিপির সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ তাৎক্ষণিক তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে সাময়িকভাবে সংসদকক্ষ ত্যাগ করেন। পরবর্তীতে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান ফ্লোর নিয়ে সরকারি দলের অসহিষ্ণু আচরণের নিন্দা জানান। তিনি উল্লেখ করেন, একজন সংসদ সদস্যের বক্তব্য ভালো কিংবা মন্দ যা-ই হোক না কেন, তা শোনার পরিবেশ তৈরি করা সংসদের মৌলিক শিষ্টাচার। অব্যাহত হইচইয়ের কারণে প্রকৃত বক্তব্য সদস্যদের কান পর্যন্ত পৌঁছায়নি বলেও তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করেন।

বিতর্কিত এ পরিস্থিতির মধ্যেই চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি দাবি করেন, সরকার ইতিবাচক ও সুস্থ আলোচনার পক্ষে থাকলেও সদস্যদের বক্তব্য প্রদানে দায়িত্বশীল আচরণ করা উচিত। অন্যদিকে সরকারের নেওয়া সংস্কারমূলক উদ্যোগের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বক্তব্য রাখেন এনসিপির অপর সদস্য আখতার হোসেন। উদ্ভূত বিশৃঙ্খলার কারণে চরম হতাশা প্রকাশ করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি জানান, বিলের মূল অর্থনৈতিক সারমর্ম ছাপিয়ে অপ্রাসঙ্গিক তর্কবিতর্কে অধিবেশনের পরিবেশ বিনষ্ট হওয়া দুঃখজনক।

পরবর্তীতে স্পিকার বিলটি ভোটে দিলে সরকারি দলের ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে তা পাস হয়। তবে ভোটাভুটির পুরো প্রক্রিয়ায় নীরব ভূমিকা পালন করে বিরোধী দল। বিল পাসের সময় সংসদকক্ষ থেকে প্রতিবাদস্বরূপ বেরিয়ে যান রুমিন ফারহানা এবং তাঁর সঙ্গে সংহতি জানিয়ে কক্ষ ত্যাগ করেন হান্নান মাসউদ। অধিবেশন শেষে রুমিন ফারহানা গণমাধ্যমের কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযোগ করেন, সরকারি দলের পক্ষ থেকে তাঁর প্রতি অশ্রাব্য ভাষা প্রয়োগ করা হয়েছে এবং হুইপের ভূমিকাও হাউসের শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশ্নবিদ্ধ ছিল। অধিবেশন চলাকালে সংসদকক্ষে সরকারপ্রধান উপস্থিত ছিলেন না।

রুমিনের বক্তব্যে উত্তপ্ত সংসদ, পাল্টাপাল্টি হট্টগোল ও ওয়াকআউট
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬