সুগন্ধি চালের কোটা নামল অর্ধেকে
দেশের বাজারে সুগন্ধি চালের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ও সরবরাহ সংকট ঠেকাতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানগুলোর রফতানি কোটা এক ধাক্কায় ৫০ শতাংশ কমিয়ে পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। এর ফলে প্রতিষ্ঠানগুলো পূর্বে বরাদ্দ পাওয়া পরিমাণের সর্বোচ্চ অর্ধেক চাল বিদেশে পাঠাতে পারবে। পূর্বে মোট অনুমোদিত কোটা ৪৫ হাজার ২৭০ মেট্রিক টন থাকলেও নতুন সিদ্ধান্তে তা নেমে এসেছে প্রায় ২২ হাজার ৬৩৫ মেট্রিক টনে। সংশোধিত এই অনুমোদনের কার্যকারিতা আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।
মঙ্গলবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রফতানি-২ শাখা থেকে এই সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করা হয়। দেশের বাজারে চালের স্বাভাবিক সরবরাহ বজায় রাখা, সাধারণ ভোক্তাদের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সম্ভাব্য মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কোটা কমানোর পাশাপাশি পুরো রফতানি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি আনতে কাস্টমস যাচাই, জাহাজীকরণ সংক্রান্ত নথি দাখিল, অতিরিক্ত চাল রফতানিতে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা এবং রফতানি আয়ের সনদ (পিআরসি) জমার বাধ্যবাধকতাসহ কঠোর নজরদারির ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতি কেজি চালের সর্বনিম্ন এফওবি দর নির্ধারণ করা হয়েছে ১ দশমিক ৬০ মার্কিন ডলার। এই অনুমোদন কোনোভাবেই হস্তান্তর বা সাব-কন্ট্রাক্টে হস্তান্তরযোগ্য নয় এবং সরকার জনস্বার্থে যেকোনো মুহূর্তে এই সিদ্ধান্ত বাতিলের ক্ষমতা সংরক্ষণ করেছে।
এর আগে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সুপারিশক্রমে দুই দফায় মোট ২৭৮টি প্রতিষ্ঠানকে ৪৫ হাজার ২৭০ মেট্রিক টন চাল রফতানির অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। তবে অনুমোদনের বিপরীতে বাস্তব চিত্র অনেকটাই ভিন্ন। ৩০ আগস্ট পর্যন্ত প্রাপ্ত হালনাগাদ তথ্যে দেখা যায়, ১২৯টি প্রতিষ্ঠান মিলে মাত্র ২ হাজার ৪১৯ দশমিক ৪৩ মেট্রিক টন চাল রফতানি করতে পেরেছে, যা অনুমোদিত মোট পরিমাণের মাত্র প্রায় ৫ দশমিক ৩ শতাংশ। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বাকি ১৪৯টি প্রতিষ্ঠানের পূর্ণাঙ্গ ও সমন্বিত তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি। এর আগেই প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রকৃত রফতানির তথ্য জমা দেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছিল।
এদিকে রফতানির প্রভাব সরাসরি এসে পড়েছে স্থানীয় বাজারে। বাজারে চিনিগুঁড়া, কালিজিরা ও কাটারিভোগসহ সব ধরনের সুগন্ধি চালের দাম লাফিয়ে বেড়েছে। কেজিপ্রতি ১২০ থেকে ১৩০ টাকার চাল বর্তমানে পাইকারি পর্যায়েই ২০০ থেকে ২২০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের একাংশ রফতানির অনুমতিকেই এই আকস্মিক মূল্যবৃদ্ধির জন্য দায়ী করলেও রফতানিকারকদের দাবি, ধানের অতিরিক্ত দাম, উৎপাদন ঘাটতি, সংরক্ষণ, বিদ্যুৎ ও পরিবহন ব্যয়ের কারণে বাজার চড়েছে।
রফতানি খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, বিদেশে বাজার ধরে রাখতে রফতানি পুরোপুরি বন্ধ না করে সহনশীল মাত্রায় রাখা এবং অভ্যন্তরীণ বাজারের ভারসাম্য রক্ষা করাই সঠিক কৌশল। তবে বরাদ্দকৃত কোটার অপব্যবহার করে অনুমোদনের অতিরিক্ত চাল পাচার হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে কাস্টমস নজরদারি জোরদার করা জরুরি হয়ে পড়েছে। মূলত সার্বিক বাজার পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতেই রফতানি কোটা সীমিত করার এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।