খাতা পুনর্নিরীক্ষণে রাজশাহী বোর্ডে ১১১ জনের ফেল থেকে পাস
চলতি বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমান পরীক্ষার উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের কাঙ্ক্ষিত ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। এতে দেশজুড়ে খাতা চ্যালেঞ্জ করা হাজারো শিক্ষার্থীর ফলাফলে এসেছে ব্যাপক রদবদল। মাদ্রাসা ও কারিগরিসহ দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডে পুনর্নিরীক্ষণের পর নতুন করে ফেল থেকে পাস করেছেন ৪ হাজার ৫৮৫ জন শিক্ষার্থী। একই সঙ্গে আগের ফলে জিপিএ-৫ না পাওয়া ৩ হাজার ৭৯ জন শিক্ষার্থী নতুন করে সর্বোচ্চ ফলাফল অর্জন করেছেন। বৃহস্পতিবার সকালে শিক্ষা বোর্ডগুলোর সমন্বিত ব্যবস্থাপনায় আনুষ্ঠানিকভাবে এই পুনর্নিরীক্ষণের ফল প্রকাশ করা হয়।
বোর্ড সূত্রে জানা যায়, এ বছর সারাদেশে ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। প্রাথমিক ফল প্রকাশের পর নিজেদের প্রাপ্ত নম্বর নিয়ে অসন্তুষ্ট ৪ লাখ ২ হাজার ৫২ জন শিক্ষার্থী উত্তরপত্র যাচাইয়ের জন্য আবেদন করেন। শিক্ষার্থীদের আবেদনের প্রেক্ষিতে বোর্ডগুলো সর্বমোট ১০ লাখ ৫৬ হাজার ১৫৮টি উত্তরপত্র বা স্ক্রিপ্ট গভীরভাবে পুনর্নিরীক্ষণ করে। সামগ্রিক পর্যালোচনার পর দেখা যায়, ৫৫ হাজার ২৫৯টি উত্তরপত্রে নম্বর পরিবর্তন হয়েছে এবং এর সুবাদে ২৭ হাজার ৮৩৬ জন শিক্ষার্থীর চূড়ান্ত গ্রেডে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।
রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের তথ্যানুযায়ী, এই বোর্ডে মোট ১ লাখ ৭৬ হাজার ৮৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩৯ হাজার ৭৬২ জন ফল চ্যালেঞ্জ করে আবেদন করেন। তাদের আবেদনের ভিত্তিতে ৯৮ হাজার ৭১০টি স্ক্রিপ্ট পুনর্নিরীক্ষণ করা হয়। এতে মোট ১ হাজার ৪০০টি উত্তরপত্রের নম্বরে পরিবর্তন এসেছে এবং ৬৩১ জন শিক্ষার্থীর গ্রেড সংশোধিত হয়েছে। ফল পুনর্মূল্যায়নের ফলে রাজশাহী বোর্ডে আগে অনুত্তীর্ণ থাকা ১১১ জন শিক্ষার্থী উত্তীর্ণের তালিকায় স্থান পেয়েছেন এবং নতুন করে জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন ৭৭ জন শিক্ষার্থী।
দেশের সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর মধ্যে ঢাকা বোর্ডে সবচেয়ে বেশিসংখ্যক আবেদন জমা পড়েছিল। সেখানে ৯৪ হাজার ২৩৬ জন পরীক্ষার্থীর ২ লাখ ৭৭ হাজার ৬৬৫টি স্ক্রিপ্ট যাচাই করে ২১ হাজার ৬৯টি উত্তরপত্রে নম্বর বদল হয়। এর ফলে ঢাকা বোর্ডের ৮ হাজার ৯৯৯ জন শিক্ষার্থীর গ্রেড পরিবর্তন হয়েছে, যার মধ্যে ৩৩৭ জন ফেল থেকে পাস করেছেন এবং সর্বোচ্চ ৯০৬ জন শিক্ষার্থী নতুন জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন। অন্যদিকে ময়মনসিংহ বোর্ডে ফল পুনর্নিরীক্ষণে সবচেয়ে বড় চমক লক্ষ্য করা গেছে। বোর্ডটিতে ৭১ হাজার ৬৬টি খাতা মূল্যায়নের পর ফেল থেকে পাস করেছেন সর্বোচ্চ ১ হাজার ১৮০ জন শিক্ষার্থী এবং নতুন জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৭৭৭ জন।
অন্যান্য বোর্ডের মধ্যে দিনাজপুর বোর্ডে ৮৬৭ জন, যশোরে ৩৮০ জন, কুমিল্লায় ৩৩৬ জন, চট্টগ্রামে ১৯০ জন, সিলেটে ১৮৬ জন এবং বরিশাল বোর্ডে ৭৯ জন শিক্ষার্থী ফেল থেকে পাসের মুখ দেখেছেন। পাশাপাশি দিনাজপুর বোর্ডে ২৭৫ জন, কুমিল্লায় ২০৭ জন, যশোরে ১৮২ জন, সিলেটে ১২১ জন, বরিশালে ১১২ জন এবং চট্টগ্রামে ৮৩ জন শিক্ষার্থী নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছেন। নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে সর্বমোট ৩ হাজার ৬৬৬ জন অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হন এবং নতুন জিপিএ-৫ নিশ্চিত করেন ২ হাজার ৯৮০ জন।
সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের বাইরে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে ১ লাখ ৩ হাজার ৫০৩টি স্ক্রিপ্ট পুনর্নিরীক্ষণের পর নতুন করে ২৫৫ জন ফেল থেকে পাস করেছেন এবং ২৯৩ জন জিপিএ-৫ পেয়েছেন। এ ছাড়া কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৩৪ হাজার ৩০৫টি স্ক্রিপ্ট যাচাই শেষে ৬৬৪ জন শিক্ষার্থী ফেল থেকে উত্তীর্ণ হয়েছেন এবং নতুন করে জিপিএ-৫ যুক্ত হয়েছে ৪৬ জনের নামের পাশে। ত্রুটি সংশোধন ও পুঙ্খানুপুঙ্খ মূল্যায়নের মাধ্যমে বহু শিক্ষার্থীর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাজীবনে এই ফলাফল নতুন স্বস্তি ও আনন্দ বয়ে এনেছে।