বৃহস্পতিবার , ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হোমরাজশাহীপুঠিয়ায় শিক্ষকের মৃত্যুর জেরে মহাসড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

পুঠিয়ায় শিক্ষকের মৃত্যুর জেরে মহাসড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

favicon
পুঠিয়া প্রতিনিধি :
পুঠিয়ায় শিক্ষকের মৃত্যুর জেরে মহাসড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
রাজশাহীর পুঠিয়ায় সহকারী শিক্ষক সাহাদুল হকের মৃত্যুর জেরে বানেশ্বর ট্রাফিক মোড়ে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ।

রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বর ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষকের আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনায় প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে মানসিক নিপীড়নের অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ করেছেন বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। বিক্ষোভের একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করলে যানবাহন চলাচল সাময়িকভাবে স্থবির হয়ে পড়ে। পরে পুলিশ প্রশাসনের হস্তক্ষেপে শিক্ষার্থীরা রাস্তা থেকে সরে গেলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

মারা যাওয়া ওই শিক্ষকের নাম সাহাদুল হক। জানা গেছে, গত সোমবার নিজ বাসভবনে শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়ানোর সময় তিনি হঠাৎ স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। শিক্ষক সাহাদুল হকের এই অকালমৃত্যুর পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ২০২২ সালে তাঁর লেখা একটি পুরোনো চিরকুট ছড়িয়ে পড়ে। সেই চিরকুটে তিনি উল্লেখ করেছিলেন, ডায়াবেটিসের জটিলতা কিংবা স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু ঘটলে এর পেছনে প্রধান শিক্ষক আজাদ আলী ও তাঁর সহযোগীরা দায়ী থাকবেন। ফেসবুক পোস্টটি নতুন করে আলোচনায় আসার পরই সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের সঞ্চার হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার সকাল থেকেই বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। তাঁদের সঙ্গে প্রাক্তন শিক্ষার্থীরাও সংহতি প্রকাশ করে কর্মসূচিতে অংশ নেন। একপর্যায়ে বেলা সোয়া ১১টার দিকে একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শিক্ষার্থীরা বানেশ্বর ট্রাফিক মোড়ে অবস্থান নেন এবং ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দেন। খবর পেয়ে পুঠিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদুল ইসলাম তাৎক্ষণিক পুলিশ দল নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তিনি বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে সুবিচারের আশ্বাস দিলে প্রায় দশ মিনিট পর শিক্ষার্থীরা অবরোধ তুলে নেন এবং মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

এদিকে স্থানীয়দের পক্ষ থেকেও প্রধান শিক্ষক আজাদ আলীর বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অসদাচরণের অভিযোগ তোলা হয়েছে। অতীতে বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষকরা তাঁর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রকাশ করলেও প্রভাব খাটিয়ে তিনি বহাল তবিয়তে ছিলেন বলে দাবি স্থানীয়দের। তবে এ বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য প্রধান শিক্ষক আজাদ আলীকে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

এ প্রসঙ্গে বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের (গভর্নিং বডি) সভাপতি মাহবুব সরকার জানান, প্রতিষ্ঠান পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রশাসনিক বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলতে হয়, যা ক্ষেত্রবিশেষে মানসিক চাপ মনে হতে পারে। তবে এটিকে সরাসরি নিপীড়ন হিসেবে আখ্যা দেওয়া সংগত নয়। তিনি আরও দাবি করেন, ২০২২ সালের ওই চিরকুটের ঘটনার পর উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা হয়েছিল এবং ওই শিক্ষক তখন আবেগপ্রবণ হয়ে পোস্টটি দিয়েছিলেন বলে স্বীকার করেছিলেন। এ ছাড়া শোকসন্তপ্ত পরিবারের কোনো আইনি অভিযোগ নেই জানিয়ে তিনি বলেন, মরহুমের যাবতীয় প্রাতিষ্ঠানিক পাওনাদি দ্রুত পরিশোধের প্রক্রিয়া চলছে।

ঘটনা প্রসঙ্গে পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিয়াকত সালমান জানান, ঘটনার পরপরই তিনি নিজে এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিবু দাস বিদ্যালয় পরিদর্শন করেছেন। বর্তমানে বিদ্যালয়ের সার্বিক পরিবেশ শান্ত রয়েছে। প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে মানসিক নিপীড়নসংক্রান্ত যে অভিযোগ উঠেছে, তা প্রশাসনিকভাবে খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

পুঠিয়ায় শিক্ষকের মৃত্যুর জেরে মহাসড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দৈনিক উপচার
 বৃহস্পতিবার , ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হোমরাজশাহীপুঠিয়ায় শিক্ষকের মৃত্যুর জেরে মহাসড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

পুঠিয়ায় শিক্ষকের মৃত্যুর জেরে মহাসড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

favicon
পুঠিয়া প্রতিনিধি :
পুঠিয়ায় শিক্ষকের মৃত্যুর জেরে মহাসড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
রাজশাহীর পুঠিয়ায় সহকারী শিক্ষক সাহাদুল হকের মৃত্যুর জেরে বানেশ্বর ট্রাফিক মোড়ে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ।

রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বর ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষকের আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনায় প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে মানসিক নিপীড়নের অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ করেছেন বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। বিক্ষোভের একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করলে যানবাহন চলাচল সাময়িকভাবে স্থবির হয়ে পড়ে। পরে পুলিশ প্রশাসনের হস্তক্ষেপে শিক্ষার্থীরা রাস্তা থেকে সরে গেলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

মারা যাওয়া ওই শিক্ষকের নাম সাহাদুল হক। জানা গেছে, গত সোমবার নিজ বাসভবনে শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়ানোর সময় তিনি হঠাৎ স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। শিক্ষক সাহাদুল হকের এই অকালমৃত্যুর পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ২০২২ সালে তাঁর লেখা একটি পুরোনো চিরকুট ছড়িয়ে পড়ে। সেই চিরকুটে তিনি উল্লেখ করেছিলেন, ডায়াবেটিসের জটিলতা কিংবা স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু ঘটলে এর পেছনে প্রধান শিক্ষক আজাদ আলী ও তাঁর সহযোগীরা দায়ী থাকবেন। ফেসবুক পোস্টটি নতুন করে আলোচনায় আসার পরই সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের সঞ্চার হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার সকাল থেকেই বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। তাঁদের সঙ্গে প্রাক্তন শিক্ষার্থীরাও সংহতি প্রকাশ করে কর্মসূচিতে অংশ নেন। একপর্যায়ে বেলা সোয়া ১১টার দিকে একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শিক্ষার্থীরা বানেশ্বর ট্রাফিক মোড়ে অবস্থান নেন এবং ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দেন। খবর পেয়ে পুঠিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদুল ইসলাম তাৎক্ষণিক পুলিশ দল নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তিনি বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে সুবিচারের আশ্বাস দিলে প্রায় দশ মিনিট পর শিক্ষার্থীরা অবরোধ তুলে নেন এবং মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

এদিকে স্থানীয়দের পক্ষ থেকেও প্রধান শিক্ষক আজাদ আলীর বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অসদাচরণের অভিযোগ তোলা হয়েছে। অতীতে বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষকরা তাঁর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রকাশ করলেও প্রভাব খাটিয়ে তিনি বহাল তবিয়তে ছিলেন বলে দাবি স্থানীয়দের। তবে এ বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য প্রধান শিক্ষক আজাদ আলীকে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

এ প্রসঙ্গে বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের (গভর্নিং বডি) সভাপতি মাহবুব সরকার জানান, প্রতিষ্ঠান পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রশাসনিক বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলতে হয়, যা ক্ষেত্রবিশেষে মানসিক চাপ মনে হতে পারে। তবে এটিকে সরাসরি নিপীড়ন হিসেবে আখ্যা দেওয়া সংগত নয়। তিনি আরও দাবি করেন, ২০২২ সালের ওই চিরকুটের ঘটনার পর উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা হয়েছিল এবং ওই শিক্ষক তখন আবেগপ্রবণ হয়ে পোস্টটি দিয়েছিলেন বলে স্বীকার করেছিলেন। এ ছাড়া শোকসন্তপ্ত পরিবারের কোনো আইনি অভিযোগ নেই জানিয়ে তিনি বলেন, মরহুমের যাবতীয় প্রাতিষ্ঠানিক পাওনাদি দ্রুত পরিশোধের প্রক্রিয়া চলছে।

ঘটনা প্রসঙ্গে পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিয়াকত সালমান জানান, ঘটনার পরপরই তিনি নিজে এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিবু দাস বিদ্যালয় পরিদর্শন করেছেন। বর্তমানে বিদ্যালয়ের সার্বিক পরিবেশ শান্ত রয়েছে। প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে মানসিক নিপীড়নসংক্রান্ত যে অভিযোগ উঠেছে, তা প্রশাসনিকভাবে খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

পুঠিয়ায় শিক্ষকের মৃত্যুর জেরে মহাসড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬