তানোরে জমজমাট কাবাডি প্রতিযোগিতা: চ্যাম্পিয়ন তানোর পৌরসভা
বিলুপ্তপ্রায় আবহমান গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী ক্রীড়া সংস্কৃতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে এবং যুবসমাজকে অবক্ষয়মুক্ত রাখতে রাজশাহীর তানোরে অনুষ্ঠিত হয়েছে দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য কাবাডি প্রতিযোগিতা। তানোর থানা পুলিশিং কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত এই ক্রীড়াযজ্ঞে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর কামারগাঁ ইউনিয়নকে পরাজিত করে শিরোপা নিজেদের করে নিয়েছে তানোর পৌরসভা দল।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত উপজেলা ডাকবাংলো মাঠে উৎসবমুখর পরিবেশে এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌরসভার বাছাইকৃত দলগুলোর অংশগ্রহণে পুরো মাঠজুড়ে তৈরি হয় তীব্র উত্তেজনা ও আনন্দঘন পরিবেশ। স্থানীয় ক্রীড়ামোদী দর্শকদের উপস্থিতিতে মুখরিত হয়ে ওঠে ডাকবাংলো প্রাঙ্গণ। তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ফাইনাল ম্যাচে কামারগাঁ ইউনিয়ন দলকে পরাস্ত করে তানোর পৌরসভা চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে।
প্রতিযোগিতা শেষে আয়োজিত সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তানোর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহমুদুল হাসান। যুবসমাজকে ইতিবাচক ধারায় পরিচালনার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, খেলাধুলা কেবল শরীরচর্চা বা বিনোদনের উপকরণ নয়, বরং একটি আদর্শ ও সুশৃঙ্খল সমাজ গঠনের অন্যতম নিয়ামক। যুবসমাজকে মাদক, সন্ত্রাস ও আধুনিক জীবনের অনাকাঙ্ক্ষিত অবক্ষয় থেকে রক্ষা করতে হলে তাদেরকে উন্মুক্ত খেলার মাঠে ফিরিয়ে আনার বিকল্প নেই। পুলিশের মূল দায়িত্ব যেমন আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা, তেমনি নাগরিক সমাজের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সেতুবন্ধন তৈরি করাও একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। তানোর থানা পুলিশিং কমিটি সবসময় মানবিক ও সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে বিশ্বাসী। তিনি আরও উল্লেখ করেন, স্থানীয় যুবসমাজের মধ্যে পারস্পরিক ঐক্য, শৃঙ্খলা ও ভ্রাতৃত্ববোধ সুদৃঢ় করতে এবং এলাকাকে নিরাপদ ও ক্রীড়াবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তানোর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাসুদ রানা, বাঁধাইড় ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি গোলাম রাব্বানী এবং তানোর থানা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মাসুদ করিমসহ এলাকার বিভিন্ন স্তরের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। সমগ্র আয়োজনটির সঞ্চালনায় ছিলেন তানোর সাংবাদিক ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব এম রায়হান আলী। টুর্নামেন্টের বিভিন্ন ম্যাচ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে পরিচালনা করেন প্রধান রেফারি আব্দুল বারী মাস্টার, সহকারী রেফারি হাফিজুর রহমান ও সোহরাব হোসেন। খেলা শেষে আমন্ত্রিত অতিথিরা বিজয়ী চ্যাম্পিয়ন দল ও রানার্সআপ দলের খেলোয়াড়দের হাতে ট্রফি ও পুরস্কার তুলে দেন। পুলিশের এমন ক্রীড়া উদ্যোগকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করে স্থানীয় বাসিন্দারা ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।