ছুটিতে ফেরার কথা ছিল জীবিত, কফিনবন্দি হয়ে ফিরলেন সেনাসদস্য রিফাত
চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে ট্যাংক ফায়ারিং অনুশীলনের সময় অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্য সৈনিক তাসনিম রিফাতকে পূর্ণ সামরিক মর্যাদায় দাফন করা হয়েছে। রাজশাহীর পবা উপজেলার দামকুড়া ইউনিয়নের বিন্দারামপুর গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে মরহুমের মায়ের কবরের পাশেই তাঁকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।
গত বুধবার দুপুরে চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে ট্যাংক ফায়ারিং অনুশীলনের সময় একটি গোলার অনাকাঙ্ক্ষিত বিস্ফোরণ ঘটে। এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আর্মড কোরের ১৫ স্বতন্ত্র সাঁজোয়া স্কোয়াড্রনের সদস্য সৈনিক তাসনিম রিফাতসহ দুই সেনাসদস্য ঘটনাস্থলেই শাহাদাতবরণ করেন।
এদিকে বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি বিশেষ হেলিকপ্টারযোগে রিফাতের মরদেহ রাজশাহী সেনানিবাসে নিয়ে আসা হয়। সেখান থেকে যথাযথ আনুষ্ঠানিকতা শেষে সড়কপথে মরদেহবাহী গাড়ি পবার বিন্দারামপুর গ্রামে পৌঁছালে স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র শোকের ছায়া নেমে আসে। দীর্ঘদিনের কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন শেষে জীবিত অবস্থায় ছুটিতে বাড়ি ফেরার কথা থাকলেও কফিনবন্দি নিথর দেহ ফিরে আসায় কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজনরা।
বাদ জোহর স্থানীয় ঈদগাহ মাঠে সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে তাসনিম রিফাতের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, সেনা কর্মকর্তা ও সদস্যবৃন্দ, আত্মীয়স্বজন এবং হাজারো গ্রামবাসী অংশ নেন। পবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইবনুল আবেদীন জানান, জানাজা শেষে সেনাবাহিনীর একটি চৌকস দল তাঁকে গার্ড অব অনার ও পূর্ণ সামরিক সম্মাননা প্রদান করে। পরবর্তীতে পারিবারিক কবরস্থানে প্রায় তিন বছর আগে মারা যাওয়া মায়ের কবরের পাশেই তাঁর মরদেহ দাফন করা হয়।
মাত্র ২৮ বছর বয়সী তাসনিম রিফাত প্রায় এক দশক ধরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে অত্যন্ত নিষ্ঠা ও সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। চার ভাইবোনের মধ্যে তিনি ছিলেন দ্বিতীয়। মৃত্যুকালে তিনি মা-হারা আড়াই বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান, স্ত্রী, বাবা ও অসংখ্য শুভাকাঙ্ক্ষী রেখে গেছেন।
হঠাৎ সন্তানকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন বাবা আসাদুল ইসলাম। অশ্রুসজল চোখে তিনি জানান, বুধবার ছিল ছেলের ট্যাংক ফায়ারিং অনুশীলনের শেষ দিন। বৃহস্পতিবার বগুড়া সেনানিবাসে রিপোর্ট করে শুক্রবার তাঁর আনুষ্ঠানিকভাবে ছুটিতে বাড়ি আসার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত দিনের এক দিন আগেই সন্তান ঘরে ফিরল, তবে লাশ হয়ে। ভবিষ্যতেও সামরিক মহড়ায় এমন অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা এড়াতে সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আকুতি জানান শোকাহত এই পিতা।