থীম ওমর প্লাজা পরিচালনা নিয়ে জটিলতা সমঝোতা ভঙ্গ ও মামলার অভিযোগ
রাজশাহীর থীম ওমর প্লাজা পরিচালনা নিয়ে দীর্ঘদিনের জটিলতা, সমঝোতা ভঙ্গ, মামলা এবং আর্থিক ক্ষতির অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছে মেসার্স জাকির এন্টারপ্রাইজ। গতকাল মঙ্গলবার রাজশাহী প্রেসক্লাবে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে প্লাজা পরিচালনা সংক্রান্ত পুরো ঘটনাপ্রবাহ, চুক্তি, মধ্যস্থতা ও পরবর্তী বিরোধের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়।
লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, গত ৪ আগস্ট ২০২৪ সালে থীম ওমর প্লাজার চেয়ারম্যান, সাবেক জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও তৎকালীন কেন্দ্রীয় সরকারের এমপি ওমর ফারুক চৌধুরী এবং মেসার্স জাকির এন্টারপ্রাইজের কর্ণধার জাকিরুল ইসলাম-এর মধ্যে একটি অ-প্রত্যাহারযোগ্য আম-মোক্তারনামা সম্পাদিত হয়। ওই আম-মোক্তারনামা অনুযায়ী আগামী ২৫ বছরের জন্য থীম ওমর প্লাজা পরিচালনা ও নিজ অংশের দোকান ভাড়ার বিনিময়ে জাকির এন্টারপ্রাইজের কাছ থেকে ২ কোটি টাকা নগদ এবং অবশিষ্ট অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রয় বাবদ আরও ১ কোটি টাকা নগদ গ্রহণ করা হয় বলে দাবি করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ওই আম-মোক্তারনামার ভিত্তিতে গত ৫ জানুয়ারি ২০২৬ সালে জাকির এন্টারপ্রাইজ আনুষ্ঠানিকভাবে থীম ওমর প্লাজার পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করে। দায়িত্ব নেওয়ার পর বন্ধ থাকা চলন্ত সিঁড়িসহ অন্যান্য সেবা পুনরায় চালু করা হয়, যাতে ব্যবসায়ীরা স্বাভাবিকভাবে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারেন।
এরপর থীম রিয়েল এস্টেটের কর্মকর্তারা আম-মোক্তারনামা পর্যালোচনা করে জানান, অফিস পরিচালনার দায়ভার আর তাদের নেই। তারা চাবি হস্তান্তর করে অফিস ত্যাগ করেন, যার ভিডিও ফুটেজ সংরক্ষিত রয়েছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়।
জাকির এন্টারপ্রাইজ জানায়, ৬ জানুয়ারি ২০২৬ সালে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি রবিউল আলম মিলু ও মাইনুল হক হারুর মধ্যস্থতায় থীম রিয়েল এস্টেটের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও আইনজীবীদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকগুলোতে জাকির এন্টারপ্রাইজ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী বা তার ওয়ারিশদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার আগ্রহ প্রকাশ করলেও থীম রিয়েল এস্টেটের প্রতিনিধিরা তাতে অনীহা প্রকাশ করেন।
পরবর্তীতে ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ সালে ঢাকায় চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীর বড় জামাতা শোভন জামান স্থানীয় দুই জনপ্রতিনিধির মধ্যস্থতায় বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দেন। এর ধারাবাহিকতায় দুই দিন ঢাকায় বৈঠকের পর একটি দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা হয়। সমঝোতা অনুযায়ী স্থানীয় অভিভাবক হিসেবে রবিউল আলম মিলু ও মাইনুল হক হারু দায়িত্ব পালন করবেন, থীম রিয়েল এস্টেট অফিস পরিচালনা করবে এবং জাকির এন্টারপ্রাইজ মার্কেট পরিচালনার দায়িত্বে থাকবে।
এই সমঝোতার ভিত্তিতে ২০ জানুয়ারি ২০২৬ রাত ১২টার দিকে থীম রিয়েল এস্টেটের সিইও, চিফ ইঞ্জিনিয়ারসহ সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর উপস্থিতিতে অফিস হস্তান্তর সম্পন্ন হয়। এ সময় সিইও সবকিছু আগের মতোই ঠিকঠাক আছে বলে সন্তোষ প্রকাশ করেন বলে দাবি করা হয়।
তবে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, সবকিছু স্বাভাবিকভাবে চলার মধ্যেই হঠাৎ করে থীম রিয়েল এস্টেটের পক্ষ থেকে গোদাগাড়ির এক মাদক সম্রাটের সহযোগী হিসেবে পরিচিত আসাদ নামের এক ব্যক্তিকে বাদী করে দুটি মামলা দায়ের করা হয়। এতে স্থানীয় অভিভাবক, ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টরা ক্ষুব্ধ হন এবং জাকির এন্টারপ্রাইজ ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে।
জাকির এন্টারপ্রাইজের দাবি, যেখানে স্বয়ং চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করে মার্কেট পরিচালনায় কোনো আপত্তি নেই বলে জানিয়েছেন, সেখানে মামলা দায়ের এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও পরিকল্পিত। এ বিষয়ে পুনরায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের শরণাপন্ন হলে ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সালে রবিউল আলম মিলু ও মাইনুল হক হারুর উপস্থিতিতে আবারও একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের পর থীম রিয়েল এস্টেট নিজেদের ভুল স্বীকার করে কার্যক্রম বন্ধ করে চাবি হস্তান্তর করে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
এছাড়া ৭ ও ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সালে শোভন জামানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক হলেও কোনো স্থায়ী সমাধান আসেনি। জাকির এন্টারপ্রাইজ স্পষ্টভাবে জানায়, দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া বিভ্রান্তিকর বক্তব্য প্রত্যাহার এবং ৩ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ ছাড়া তারা কোনো সমঝোতায় যাবে না।
সংবাদ সম্মেলনের শেষাংশে জাকির এন্টারপ্রাইজ জানায়, তারা সম্মান ও মর্যাদাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষায় আইনানুগভাবে ব্যবসা পরিচালনা করতে বদ্ধপরিকর এবং প্রয়োজনে আইনি লড়াই চালিয়ে যাবে।