অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে ধীরগতি নিয়ে ক্ষোভ
বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির সম্প্রতি দেশব্যাপী সন্ত্রাস, মাদক, চাঁদাবাজি ও কিশোর গ্যাং নির্মূলে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির ঘোষণা দিয়েছেন। একই ধারাবাহিকতায় রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) নবনিযুক্ত কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবিরও অপরাধমুক্ত ও নিরাপদ রাজশাহী গড়ার লক্ষ্যে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। তবে এরই মধ্যে ঈদের দিন রাজশাহীর কাশিয়াডাঙ্গা এলাকায় সংঘটিত সহিংসতার ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ ও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
জাতীয় ও স্থানীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংঘর্ষের ঘটনা প্রকাশিত হলেও পুরো ঘটনার পেছনের কারণ এবং পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে এখনো আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয় সূত্র, প্রত্যক্ষদর্শী এবং সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ অনুযায়ী জানা যায়, ঈদের আগের রাতে কাশিয়াডাঙ্গার একটি চায়ের দোকানের সামনে রাকিব নামে এক যুবকের সঙ্গে স্থানীয় কয়েকজনের বাকবিতণ্ডার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, ওই সময় রাকিব নেশাগ্রস্ত অবস্থায় স্থানীয় যুবক মামুনকে গালিগালাজ ও ধাক্কা দেন। ঘটনাটি নিয়ে প্রতিবাদ করতে গেলে রুমন নামের আরেক যুবকও মারধরের শিকার হন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরবর্তীতে বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেন স্থানীয় বিএনপি নেতা বুলবুল। অভিযোগ অনুযায়ী, ঈদের দিন সন্ধ্যায় কাশিয়াডাঙ্গার একটি বিএনপি কার্যালয়ে সালিশের উদ্দেশ্যে গেলে সেখানে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
স্থানীয়দের দাবি, সংঘর্ষের সময় দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করা হয় এবং এতে বুলবুলসহ একাধিক ব্যক্তি আহত হন। আহতদের মধ্যে মামুন, সোহেল, নয়ন, মিনু, রহিমা বেগম ও মনি নামের কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। আহতদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, সংঘর্ষের পর আহত পক্ষের লোকজন চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে গেলে তাদের এলাকায় পুনরায় হামলার চেষ্টা চালানো হয়। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত পক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় বিএনপি নেতা বুলবুল বাদী হয়ে কাশিয়াডাঙ্গা থানায় মামলা দায়ের করেছেন। অন্যদিকে রাকিবের পক্ষ থেকেও একটি মামলা গ্রহণ করেছে পুলিশ। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, সংঘর্ষে আহত ব্যক্তিদের বাড়িতে একাধিকবার অভিযান চালানো হলেও মূল অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে দৃশ্যমান তৎপরতা দেখা যায়নি।
স্থানীয় সূত্র আরও দাবি করেছে, সংঘর্ষের পর রাকিবের বাড়ির নিকটবর্তী এলাকা থেকে দেশীয় অস্ত্র ও পেট্রোলবোমা উদ্ধার করা হলেও এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সরাসরি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। যদিও এ বিষয়ে পুলিশের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে গত ১ জুন ২০২৬ তারিখে রাজশাহী মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সাদ্দাম হোসেন রাকিব পক্ষের মামলায় গ্রেপ্তার বা অভিযুক্ত কয়েকজনকে জামিন প্রদান করেন। একই সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।
কাশিয়াডাঙ্গা এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করেছেন, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরহাদের নেতৃত্বে পুলিশ আহতদের বাড়িতে অভিযান চালালেও সংঘর্ষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে তৎপরতা দেখায়নি। তাদের দাবি, অভিযুক্তদের অনেকেই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং এ কারণেই পুলিশ পক্ষপাতমূলক আচরণ করেছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে পুলিশ প্রশাসনের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে কাশিয়াডাঙ্গা থানার ওসি ফরহাদ বা রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্যও এখনো জানা যায়নি। অভিযোগগুলোর বিষয়ে তাদের প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে।
স্থানীয়দের দাবি, সংঘর্ষের ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে এলাকায় শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক।
(পরবর্তী পর্বে ঘটনার আরও বিস্তারিত অনুসন্ধান ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য প্রকাশ করা হবে।)