ব্যানার ছাড়াই গোদাগাড়ীতে জিয়ার শাহাদাৎ বার্ষিকীর অনুষ্ঠান
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ব্যানার না থাকাকে কেন্দ্র করে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলা ও পৌর বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দলের প্রতিষ্ঠাতার স্মরণে একটি সাধারণ ব্যানারও না থাকায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় ওঠে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার বিকেলে গোদাগাড়ী ডাইংপাড়া মোড়ে দলীয় কার্যালয়ের সামনে আলোচনা সভা, মিলাদ মাহফিল ও দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। তবে অনুষ্ঠানস্থলে কোনো ব্যানার না থাকায় উপস্থিত নেতাকর্মীদের অনেকেই অসন্তোষ প্রকাশ করেন। অনুষ্ঠান শেষে বিষয়টি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে একের পর এক পোস্ট ও মন্তব্য করতে শুরু করেন দলটির তৃণমূল নেতাকর্মীরা।
রোববার রাতে জিয়া সাংস্কৃতিক সংগঠন (জিসাস) গোদাগাড়ী পৌর শাখার সিনিয়র সহ-সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি পোস্ট দিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি লেখেন, দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাৎ বার্ষিকীর মতো গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে একটি সাধারণ ব্যানারও না থাকা শুধু হতাশাজনক নয়, বরং দলের ইতিহাস ও প্রতিষ্ঠাতার প্রতি অবহেলার বহিঃপ্রকাশ।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, যারা ভবিষ্যতে পৌরসভার মেয়র হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন, তাদের কাছ থেকে এমন অব্যবস্থাপনা অপ্রত্যাশিত। একই সঙ্গে তিনি গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে গোদাগাড়ীতে বিএনপির ভরাডুবির পেছনেও এমন অগোছালো নেতৃত্বকে দায়ী করেন।
জাহাঙ্গীর আলমের ওই পোস্টটি কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ব্যাপক সাড়া ফেলে। পোস্টে অসংখ্য নেতাকর্মী মন্তব্য করে নিজেদের ক্ষোভ প্রকাশ করেন। গোলাম কিবরিয়া নামে একজন মন্তব্যে লেখেন, ‘চরম সত্যটি সাহসিকতার সঙ্গে তুলে ধরার জন্য পোস্টকারীকে ধন্যবাদ। আমাদের মহান নেতার শাহাদাৎ বার্ষিকীর দিনে একটি ব্যানারও তৈরি করা যায়নি, এটি অত্যন্ত দুঃখজনক।’
কোরবান আলী নামে আরেকজন মন্তব্য করেন, ‘নিজেকেই অপরাধী মনে হচ্ছে। কিন্তু প্রতিবাদ করারও কোনো জায়গা নেই।’
মিনহাজ বাবু নামের একটি আইডি থেকে করা মন্তব্যে বলা হয়, ‘কিছু নেতা ব্যক্তিগত স্বার্থে দলকে ব্যবহার করছেন। সাধারণ নেতাকর্মীরা দলের বিপর্যয় দেখে কষ্ট পাচ্ছেন। দলের প্রতিষ্ঠাতার শাহাদাৎ বার্ষিকীতেও একটি ব্যানার না হওয়া দুঃখজনক।’
এদিকে কয়েকজন নেতাকর্মী অভিযোগ করেন, অনুষ্ঠান সম্পর্কে তাদের আগাম জানানো হয়নি। এমনকি অনেক ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মীকেও অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি বলে দাবি করা হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলার মাটিকাটা ইউনিয়নের এক ওয়ার্ড বিএনপি নেতা বলেন, ‘দলের অভ্যন্তরীণ এমন সমন্বয়হীনতা ও অব্যবস্থাপনার কারণেই নির্বাচনে ভরাডুবি হয়েছে। যোগ্য প্রার্থী থাকা সত্ত্বেও দল কাঙ্ক্ষিত ফল পায়নি।’
দলীয় সূত্র জানায়, অনুষ্ঠানের আয়োজক ছিলেন গোদাগাড়ী পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী গোলাম কিবরিয়া রুলু। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও রাজশাহী-১ আসনের সাবেক বিএনপি প্রার্থী মেজর জেনারেল (অব.) শরীফ উদ্দীন। এছাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুস সালাম সাওয়াল, সাধারণ সম্পাদক আনারুল ইসলাম, সাবেক মেয়র আনারুল চৌধুরী, পৌর যুবদলের আহ্বায়ক মাহবুবুর রহমান বিপ্লবসহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
তবে অনুষ্ঠানে পৌর বিএনপির সভাপতি মজিবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন না বলে জানা গেছে।
ব্যানার না থাকা এবং নেতাকর্মীদের যথাযথভাবে অবহিত না করার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া রুলু বলেন, ‘ঈদের ছুটির কারণে কোথাও প্রেস বা ডিজিটাল ছাপাখানা খোলা ছিল না। ব্যানার তৈরির জন্য আমরা চেষ্টা করেছি, এমনকি রাজশাহী পর্যন্ত গিয়েছিলাম। কিন্তু কোনো প্রতিষ্ঠান খোলা না থাকায় ব্যানার করা সম্ভব হয়নি।’