শুক্রবার , ০৫ জুন ২০২৬
হোমআজকের শীর্ষ সংবাদচারঘাটে আওয়ামী লীগ নেতার নেতৃত্বে সংখ্যালঘু পরিবারে তাণ্ডব
বাড়ি ভাঙচুর, লুট ও প্রাণনাশের হুমকি

চারঘাটে আওয়ামী লীগ নেতার নেতৃত্বে সংখ্যালঘু পরিবারে তাণ্ডব

নিরাপত্তাহীনতায় পলাতক পরিবার-রাষ্ট্রের সুরক্ষা কোথায়?
favicon
স্টাফ রিপোর্টার :
চারঘাটে আওয়ামী লীগ নেতার নেতৃত্বে সংখ্যালঘু পরিবারে তাণ্ডব

রাজশাহীর চারঘাট উপজেলায় একটি সংখ্যালঘু হিন্দু পরিবারের বসতবাড়িতে সংঘবদ্ধ হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও প্রাণনাশের হুমকির ঘটনা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘনের নজির সৃষ্টি করেছে। এ ঘটনায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে চারঘাট মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলেও ভুক্তভোগী পরিবার এখনো চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে।

অভিযোগকারী শমের কর্মকার (৩০) চারঘাট উপজেলার নন্দনগাছি এলাকায় প্রায় ১৫ শতাংশ জমির ওপর নির্মিত নিজ বসতবাড়িতে স্ত্রী ও দুই শিশু সন্তানসহ দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছেন। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এই পরিবারটি বর্তমানে প্রাণভয়ে নিজ ঘর ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে-যা সংবিধানে প্রদত্ত নাগরিক নিরাপত্তার মৌলিক অধিকারের সরাসরি ব্যত্যয়।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়, অভিযুক্ত তোজাম্মেল সরদহ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতা এবং পলাতক ইউপি চেয়ারম্যান হাসানুজ্জামান মধুর ক্যাডার হিসেবে এলাকায় পরিচিত। তার সহযোগী হিসেবে আয়নাল, হাসিবুল, মমিন, হাসেম ও রঞ্জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে সংখ্যালঘু পরিবারের বসতভিটা দখলের উদ্দেশ্যে ভয়ভীতি ও হুমকির অভিযোগ রয়েছে।

ভুক্তভোগীর ভাষ্যমতে, গত ৯ ফেব্রুয়ারি সকালে পরিবারের পুরুষ সদস্য কর্মস্থলে এবং নারী সদস্য বাড়ির বাইরে থাকাকালে পরিকল্পিতভাবে সংঘবদ্ধ হামলা চালানো হয়। এ সময় বাড়ির টিনের ছাউনি, দরজা-জানালা খুলে ফেলে ফ্রিজ, টিভি, চুলা, খাট, ড্রেসিং টেবিল ও সাইকেলসহ প্রয়োজনীয় গৃহস্থালি সামগ্রী ভাঙচুর ও লুট করা হয়। অভিযোগে প্রায় ৯০ হাজার টাকা নগদ ও স্বর্ণালংকার লুটের কথাও উল্লেখ রয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় শমের কর্মকার বাড়িতে ফিরলে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পুনরায় সেখানে হাজির হয়। এক পর্যায়ে মো. রাশেদ তার গলায় চাকু ধরে জোরপূর্বক খালি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করিয়ে নেয় এবং বাড়ি ছেড়ে না গেলে পুরো পরিবারকে হত্যা করা হবে বলে প্রকাশ্যে হুমকি দেয়। এই ঘটনা জোরপূর্বক স্বাক্ষর আদায় ও প্রাণনাশের হুমকি দুটি ক্ষেত্রেই গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল।

ঘটনার পর থেকে ভুক্তভোগী পরিবারটি স্থায়ী নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। নারী ও শিশুদের নিয়ে পরিবারটি নিজ বসতভূমি ছাড়তে বাধ্য হওয়ায় মানবাধিকারকর্মীরা এটিকে ‘ভয় সৃষ্টি করে উচ্ছেদ’ (ঋড়ৎপবফ উরংঢ়ষধপবসবহঃ) হিসেবে দেখছেন।
ভুক্তভোগী শমের কর্মকার বলেন,আমাদের ঘরবাড়ি ভেঙে সব লুট করে নিয়েছে। এখন পরিবার নিয়ে চরম আতঙ্কে আছি। আমরা শুধু বিচার চাই না আমরা বেঁচে থাকার নিরাপত্তা চাই।

এ ঘটনায় চারঘাট উপজেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি শ্রী স্বপন কুমার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন,সংখ্যালঘু পরিবারে ওপর এ ধরনের সশস্ত্র হামলা ও লুটপাট রাষ্ট্রের জন্য লজ্জাজনক। জুলাই-আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পরও যদি সংখ্যালঘুরা নিরাপদ না থাকে, তবে রাষ্ট্রের সুরক্ষা ব্যবস্থা প্রশ্নবিদ্ধ। আমরা জানমালের নিরাপত্তা ও দ্রুত বিচার চাই।

অভিযুক্ত তোজাম্মেল হক দাবি করেন,বাড়ির জায়গাটি আমি সমর কর্মকারের চাচার কাছ থেকে কিনেছি। দখল নেওয়ার জন্য উপরের অংশ ভেঙে এনেছি। ওই জায়গায় যা কিছু ছিল, সব আমার।

তবে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি নিমপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান এই দাবিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে বলেন, দু পক্ষের অভিযোগ শুনে আসন্ন নির্বাচনের পরে বিষয়টি সমাধানের জন্য দু পক্ষকে জানানো হয়েছিল। কিন্তু তোজাম কাউকে না জানিয়ে সমর কর্মকারের বাড়িতে হামলা চালিয়ে লুটপাট করেছে। এর আগেও তোজাম সংখ্যালঘু পরিবারের উপরে নির্যাতনের কারণে তাকে বেঁধে রাখা হয়েছিল। সংখ্যালঘু পরিবারের উপরে নির্যাতন করা তারা কাছে স্বাভাবিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নিতে আমি প্রশাসনকে অনুরোধ জানাবো।

চারঘাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হেলাল উদ্দিন ফারুকী বলেন,একটি হিন্দু পরিবারের বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ পেয়েছি। আমরা বিষয়টি তদন্ত করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবো।

মানবাধিকারকর্মীদের মতে, সংখ্যালঘু পরিবারের ওপর এমন হামলা শুধু একটি ফৌজদারি অপরাধ নয় এটি সংবিধান, মানবাধিকার সনদ ও রাষ্ট্রের সুরক্ষা প্রদানের দায়ের সরাসরি ব্যর্থতা। তারা অবিলম্বে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার, ভুক্তভোগী পরিবারকে নিরাপত্তা প্রদান এবং লুট হওয়া মালামাল উদ্ধারের জোর দাবি জানিয়েছেন।

চারঘাটে আওয়ামী লীগ নেতার নেতৃত্বে সংখ্যালঘু পরিবারে তাণ্ডব
বাড়ি ভাঙচুর, লুট ও প্রাণনাশের হুমকি
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
দৈনিক উপচার
 শুক্রবার , ০৫ জুন ২০২৬
হোমআজকের শীর্ষ সংবাদচারঘাটে আওয়ামী লীগ নেতার নেতৃত্বে সংখ্যালঘু পরিবারে তাণ্ডব
বাড়ি ভাঙচুর, লুট ও প্রাণনাশের হুমকি

চারঘাটে আওয়ামী লীগ নেতার নেতৃত্বে সংখ্যালঘু পরিবারে তাণ্ডব

নিরাপত্তাহীনতায় পলাতক পরিবার-রাষ্ট্রের সুরক্ষা কোথায়?
favicon
স্টাফ রিপোর্টার :
চারঘাটে আওয়ামী লীগ নেতার নেতৃত্বে সংখ্যালঘু পরিবারে তাণ্ডব

রাজশাহীর চারঘাট উপজেলায় একটি সংখ্যালঘু হিন্দু পরিবারের বসতবাড়িতে সংঘবদ্ধ হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও প্রাণনাশের হুমকির ঘটনা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘনের নজির সৃষ্টি করেছে। এ ঘটনায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে চারঘাট মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলেও ভুক্তভোগী পরিবার এখনো চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে।

অভিযোগকারী শমের কর্মকার (৩০) চারঘাট উপজেলার নন্দনগাছি এলাকায় প্রায় ১৫ শতাংশ জমির ওপর নির্মিত নিজ বসতবাড়িতে স্ত্রী ও দুই শিশু সন্তানসহ দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছেন। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এই পরিবারটি বর্তমানে প্রাণভয়ে নিজ ঘর ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে-যা সংবিধানে প্রদত্ত নাগরিক নিরাপত্তার মৌলিক অধিকারের সরাসরি ব্যত্যয়।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়, অভিযুক্ত তোজাম্মেল সরদহ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতা এবং পলাতক ইউপি চেয়ারম্যান হাসানুজ্জামান মধুর ক্যাডার হিসেবে এলাকায় পরিচিত। তার সহযোগী হিসেবে আয়নাল, হাসিবুল, মমিন, হাসেম ও রঞ্জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে সংখ্যালঘু পরিবারের বসতভিটা দখলের উদ্দেশ্যে ভয়ভীতি ও হুমকির অভিযোগ রয়েছে।

ভুক্তভোগীর ভাষ্যমতে, গত ৯ ফেব্রুয়ারি সকালে পরিবারের পুরুষ সদস্য কর্মস্থলে এবং নারী সদস্য বাড়ির বাইরে থাকাকালে পরিকল্পিতভাবে সংঘবদ্ধ হামলা চালানো হয়। এ সময় বাড়ির টিনের ছাউনি, দরজা-জানালা খুলে ফেলে ফ্রিজ, টিভি, চুলা, খাট, ড্রেসিং টেবিল ও সাইকেলসহ প্রয়োজনীয় গৃহস্থালি সামগ্রী ভাঙচুর ও লুট করা হয়। অভিযোগে প্রায় ৯০ হাজার টাকা নগদ ও স্বর্ণালংকার লুটের কথাও উল্লেখ রয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় শমের কর্মকার বাড়িতে ফিরলে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পুনরায় সেখানে হাজির হয়। এক পর্যায়ে মো. রাশেদ তার গলায় চাকু ধরে জোরপূর্বক খালি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করিয়ে নেয় এবং বাড়ি ছেড়ে না গেলে পুরো পরিবারকে হত্যা করা হবে বলে প্রকাশ্যে হুমকি দেয়। এই ঘটনা জোরপূর্বক স্বাক্ষর আদায় ও প্রাণনাশের হুমকি দুটি ক্ষেত্রেই গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল।

ঘটনার পর থেকে ভুক্তভোগী পরিবারটি স্থায়ী নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। নারী ও শিশুদের নিয়ে পরিবারটি নিজ বসতভূমি ছাড়তে বাধ্য হওয়ায় মানবাধিকারকর্মীরা এটিকে ‘ভয় সৃষ্টি করে উচ্ছেদ’ (ঋড়ৎপবফ উরংঢ়ষধপবসবহঃ) হিসেবে দেখছেন।
ভুক্তভোগী শমের কর্মকার বলেন,আমাদের ঘরবাড়ি ভেঙে সব লুট করে নিয়েছে। এখন পরিবার নিয়ে চরম আতঙ্কে আছি। আমরা শুধু বিচার চাই না আমরা বেঁচে থাকার নিরাপত্তা চাই।

এ ঘটনায় চারঘাট উপজেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি শ্রী স্বপন কুমার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন,সংখ্যালঘু পরিবারে ওপর এ ধরনের সশস্ত্র হামলা ও লুটপাট রাষ্ট্রের জন্য লজ্জাজনক। জুলাই-আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পরও যদি সংখ্যালঘুরা নিরাপদ না থাকে, তবে রাষ্ট্রের সুরক্ষা ব্যবস্থা প্রশ্নবিদ্ধ। আমরা জানমালের নিরাপত্তা ও দ্রুত বিচার চাই।

অভিযুক্ত তোজাম্মেল হক দাবি করেন,বাড়ির জায়গাটি আমি সমর কর্মকারের চাচার কাছ থেকে কিনেছি। দখল নেওয়ার জন্য উপরের অংশ ভেঙে এনেছি। ওই জায়গায় যা কিছু ছিল, সব আমার।

তবে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি নিমপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান এই দাবিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে বলেন, দু পক্ষের অভিযোগ শুনে আসন্ন নির্বাচনের পরে বিষয়টি সমাধানের জন্য দু পক্ষকে জানানো হয়েছিল। কিন্তু তোজাম কাউকে না জানিয়ে সমর কর্মকারের বাড়িতে হামলা চালিয়ে লুটপাট করেছে। এর আগেও তোজাম সংখ্যালঘু পরিবারের উপরে নির্যাতনের কারণে তাকে বেঁধে রাখা হয়েছিল। সংখ্যালঘু পরিবারের উপরে নির্যাতন করা তারা কাছে স্বাভাবিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নিতে আমি প্রশাসনকে অনুরোধ জানাবো।

চারঘাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হেলাল উদ্দিন ফারুকী বলেন,একটি হিন্দু পরিবারের বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ পেয়েছি। আমরা বিষয়টি তদন্ত করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবো।

মানবাধিকারকর্মীদের মতে, সংখ্যালঘু পরিবারের ওপর এমন হামলা শুধু একটি ফৌজদারি অপরাধ নয় এটি সংবিধান, মানবাধিকার সনদ ও রাষ্ট্রের সুরক্ষা প্রদানের দায়ের সরাসরি ব্যর্থতা। তারা অবিলম্বে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার, ভুক্তভোগী পরিবারকে নিরাপত্তা প্রদান এবং লুট হওয়া মালামাল উদ্ধারের জোর দাবি জানিয়েছেন।

চারঘাটে আওয়ামী লীগ নেতার নেতৃত্বে সংখ্যালঘু পরিবারে তাণ্ডব
বাড়ি ভাঙচুর, লুট ও প্রাণনাশের হুমকি
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬