শনিবার , ১৬ মে ২০২৬
হোমআজকের শীর্ষ সংবাদভুয়া কাগজ, অবৈধ অবস্থান ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
বাংলাদেশিদের ভিসা সমস্যার মূল কারণ

ভুয়া কাগজ, অবৈধ অবস্থান ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

favicon
স্টাফ রিপোর্টার :
ভুয়া কাগজ, অবৈধ অবস্থান ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
বাংলাদেশিরা উচ্চশিক্ষা, কর্মী বা পর্যটন ভিসায় দেশের বাইরে যেতে গেলে নানা ধরনের জটিলতার সম্মুখীন হচ্ছেন। ঝিনাইদহের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম অস্ট্রেলিয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেলেও সব নথি যাচাই করেও ভিসা পাননি। ঢাকার মোহাম্মদপুরের মোহাইমিনুল খান ও তার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ ভিসা পাওয়ার চেষ্টা করছেন, কিন্তু ভিসার জটিলতা বেড়ে যাওয়ায় সফল হননি।

ভিসা না পাওয়ার পিছনে প্রধান কারণগুলোর মধ্যে ভুয়া কাগজপত্রের ব্যবহার অন্যতম। অনেক আবেদনকারীর শিক্ষাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতার সনদ, প্রশিক্ষণ সার্টিফিকেট এবং ব্যাংক স্টেটমেন্টে ভুয়া কাগজ জমা দেয়ার প্রবণতা রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, দালাল বা মধ্যসত্ত্বভোগীরা তৈরি করা নথির ওপর অনেকেই নির্ভর করছেন। এছাড়া কেউ কেউ ভ্রমণ ভিসা নিয়ে অন্য দেশে চলে যাওয়া বা মেয়াদ উত্তীর্ণের পরও অবৈধভাবে থাকা করছেন, যা বৈধভাবে আবেদন করা অন্যদেরও ক্ষতি করছে।

দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সুশাসন প্রেক্ষাপটও ভিসা প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করছে। দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা এবং সুশাসনের অভাব আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে প্রভাবিত করছে। এছাড়া দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কও ভিসা প্রদানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ইউরোপ ও আমেরিকার দেশগুলো ভিসা দেওয়ার হার কমিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের বেশিরভাগ দেশ বাংলাদেশি শ্রমিক নিয়োগ বন্ধ রেখেছে। অস্ট্রেলিয়া, জাপান ও সিঙ্গাপুরে শিক্ষার্থী ও কর্মী ভিসার সংখ্যা নগণ্য। থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের ভিসাও বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করছে, এবং পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বাস্তবতার কারণে বাংলাদেশের নাগরিকদের ভিসা দেওয়ার হার কমিয়েছে।

ফলস্বরূপ, দেশে ফেরত পাঠানোর ঘটনা বেড়ে গেছে। ব্র্যাক মাইগ্রেশন সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবছর প্রায় এক লাখ বাংলাদেশিকে বিভিন্ন কারণে দেশে ফেরত পাঠানো হয়। শুধু ইউরোপ থেকে গত আট বছরে চার হাজারের বেশি বাংলাদেশি ফেরত এসেছেন। যুক্তরাষ্ট্রেও ট্রাম্প প্রশাসনের সময়ে অন্তত তিনশজন বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভুয়া কাগজ, অবৈধ অবস্থান এবং আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক ও অভ্যন্তরীণ বাস্তবতা মিলিতভাবে বাংলাদেশের নাগরিকদের বিদেশে যাত্রা কঠিন করেছে। ব্র্যাক মাইগ্রেশন এন্ড ইয়ুথ প্ল্যাটফর্মের শরিফুল হাসান বলেন, এসব কারণে বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রক্রিয়া জটিল হয়ে গেছে। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনও উল্লেখ করেন, এটি দেশের দায়ও-পুরো সিস্টেমে সমস্যা আছে। সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সি ফয়েজ আহমেদ বলেন, ব্যক্তিগত ভুল তথ্য ও বিদেশে অনিয়ম বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে, ফলে পরবর্তীতে বিদেশে ভিসা দেওয়া আরও কঠিন হয়ে যাচ্ছে।

শেষ পর্যন্ত, বাংলাদেশিদের ভিসা সমস্যা শুধুমাত্র ব্যক্তিগত দায়ের বিষয় নয়, রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটের সঙ্গে জড়িত। ভুয়া কাগজ, অবৈধ অবস্থান এবং রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা মিলিতভাবে দেশের নাগরিকদের বিদেশে যাত্রাকে সীমিত করেছে, এবং সমস্যার সমাধান করতে হলে ব্যক্তি ও রাষ্ট্র উভয়ের দায়বদ্ধতার প্রয়োজন রয়েছে।
ভুয়া কাগজ, অবৈধ অবস্থান ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
বাংলাদেশিদের ভিসা সমস্যার মূল কারণ
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
দৈনিক উপচার
 শনিবার , ১৬ মে ২০২৬
হোমআজকের শীর্ষ সংবাদভুয়া কাগজ, অবৈধ অবস্থান ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
বাংলাদেশিদের ভিসা সমস্যার মূল কারণ

ভুয়া কাগজ, অবৈধ অবস্থান ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

favicon
স্টাফ রিপোর্টার :
ভুয়া কাগজ, অবৈধ অবস্থান ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
বাংলাদেশিরা উচ্চশিক্ষা, কর্মী বা পর্যটন ভিসায় দেশের বাইরে যেতে গেলে নানা ধরনের জটিলতার সম্মুখীন হচ্ছেন। ঝিনাইদহের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম অস্ট্রেলিয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেলেও সব নথি যাচাই করেও ভিসা পাননি। ঢাকার মোহাম্মদপুরের মোহাইমিনুল খান ও তার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ ভিসা পাওয়ার চেষ্টা করছেন, কিন্তু ভিসার জটিলতা বেড়ে যাওয়ায় সফল হননি।

ভিসা না পাওয়ার পিছনে প্রধান কারণগুলোর মধ্যে ভুয়া কাগজপত্রের ব্যবহার অন্যতম। অনেক আবেদনকারীর শিক্ষাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতার সনদ, প্রশিক্ষণ সার্টিফিকেট এবং ব্যাংক স্টেটমেন্টে ভুয়া কাগজ জমা দেয়ার প্রবণতা রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, দালাল বা মধ্যসত্ত্বভোগীরা তৈরি করা নথির ওপর অনেকেই নির্ভর করছেন। এছাড়া কেউ কেউ ভ্রমণ ভিসা নিয়ে অন্য দেশে চলে যাওয়া বা মেয়াদ উত্তীর্ণের পরও অবৈধভাবে থাকা করছেন, যা বৈধভাবে আবেদন করা অন্যদেরও ক্ষতি করছে।

দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সুশাসন প্রেক্ষাপটও ভিসা প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করছে। দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা এবং সুশাসনের অভাব আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে প্রভাবিত করছে। এছাড়া দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কও ভিসা প্রদানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ইউরোপ ও আমেরিকার দেশগুলো ভিসা দেওয়ার হার কমিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের বেশিরভাগ দেশ বাংলাদেশি শ্রমিক নিয়োগ বন্ধ রেখেছে। অস্ট্রেলিয়া, জাপান ও সিঙ্গাপুরে শিক্ষার্থী ও কর্মী ভিসার সংখ্যা নগণ্য। থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের ভিসাও বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করছে, এবং পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বাস্তবতার কারণে বাংলাদেশের নাগরিকদের ভিসা দেওয়ার হার কমিয়েছে।

ফলস্বরূপ, দেশে ফেরত পাঠানোর ঘটনা বেড়ে গেছে। ব্র্যাক মাইগ্রেশন সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবছর প্রায় এক লাখ বাংলাদেশিকে বিভিন্ন কারণে দেশে ফেরত পাঠানো হয়। শুধু ইউরোপ থেকে গত আট বছরে চার হাজারের বেশি বাংলাদেশি ফেরত এসেছেন। যুক্তরাষ্ট্রেও ট্রাম্প প্রশাসনের সময়ে অন্তত তিনশজন বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভুয়া কাগজ, অবৈধ অবস্থান এবং আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক ও অভ্যন্তরীণ বাস্তবতা মিলিতভাবে বাংলাদেশের নাগরিকদের বিদেশে যাত্রা কঠিন করেছে। ব্র্যাক মাইগ্রেশন এন্ড ইয়ুথ প্ল্যাটফর্মের শরিফুল হাসান বলেন, এসব কারণে বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রক্রিয়া জটিল হয়ে গেছে। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনও উল্লেখ করেন, এটি দেশের দায়ও-পুরো সিস্টেমে সমস্যা আছে। সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সি ফয়েজ আহমেদ বলেন, ব্যক্তিগত ভুল তথ্য ও বিদেশে অনিয়ম বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে, ফলে পরবর্তীতে বিদেশে ভিসা দেওয়া আরও কঠিন হয়ে যাচ্ছে।

শেষ পর্যন্ত, বাংলাদেশিদের ভিসা সমস্যা শুধুমাত্র ব্যক্তিগত দায়ের বিষয় নয়, রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটের সঙ্গে জড়িত। ভুয়া কাগজ, অবৈধ অবস্থান এবং রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা মিলিতভাবে দেশের নাগরিকদের বিদেশে যাত্রাকে সীমিত করেছে, এবং সমস্যার সমাধান করতে হলে ব্যক্তি ও রাষ্ট্র উভয়ের দায়বদ্ধতার প্রয়োজন রয়েছে।
ভুয়া কাগজ, অবৈধ অবস্থান ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
বাংলাদেশিদের ভিসা সমস্যার মূল কারণ
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬