মিথ্যা মামলায় এনজিও কর্মী কারাগারে, মানববন্ধনে স্ত্রীর আকুতি
রাজশাহীতে একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার (এনজিও) বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে ফিল্ড অফিসার রাকিবুল ইসলামকে কারাগারে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে। স্বামীর মুক্তি ও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন তার স্ত্রী নাজমা বেগম। মানববন্ধনে আবেগঘন বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, “একটি ষড়যন্ত্রমূলক মামলার কারণে আজ আমার স্বামী জেলখানায়, আর আমরা পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছি।”
সোমবার দুপুরে রাজশাহী কোর্ট চত্বরের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে আয়োজিত মানববন্ধনে রাকিবুলের পরিবারের সদস্য, স্বজন ও স্থানীয় কয়েকজন এলাকাবাসী অংশ নেন। এ সময় নাজমা বেগম সাংবাদিকদের জানান, তার স্বামী রাকিবুল ইসলাম “আর এস ডি পি” নামের একটি এনজিওতে ফিল্ড অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পরে এনজিওটির পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম তাকে ম্যানেজার পদে উন্নীত করার আশ্বাস দিয়ে গোদাগাড়ী শাখায় যোগদান করতে বলেন।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, গোদাগাড়ী শাখায় যোগদানের মাত্র তিন মাসের মাথায় পূর্বের ম্যানেজার সুজনের আত্মসাৎ করা প্রায় ১৭ লাখ টাকার দায় অন্যায়ভাবে তার স্বামীর ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়। এরপর পরিকল্পিতভাবে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হলে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায়।
মানববন্ধনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে নাজমা বেগম বলেন,
“আমার স্বামী একজন সৎ মানুষ। অন্যের দুর্নীতির দায় তার ঘাড়ে চাপিয়ে তাকে জেলে পাঠানো হয়েছে। স্বামী কারাগারে যাওয়ার পর আমাদের সংসার ভেঙে পড়েছে। সন্তানদের নিয়ে চরম কষ্টে দিন কাটাচ্ছি। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রকৃত দোষীদের বিচার চাই।”
মানববন্ধনে ৮বছরের শিশু রাদিবা কান্না জরিত কন্ঠে ফিরে পেতে চাই তার আদরের বাবাকে, বাবা জেলে নাওয়া খাওয়া ভুলে রাস্তার দিকে থাকিয়ে থাকে রাদিবা, দুপুরের খাবার সময় মমতামাখা হাতে আবারো খেতে ছোট্ট শিশু রাদিবা।
মানববন্ধন থেকে বক্তারা অভিযোগ করেন, প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করতে নিরীহ কর্মচারীকে বলির পাঁঠা বানানো হয়েছে। তারা অবিলম্বে রাকিবুল ইসলামের মুক্তি, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অভিযুক্ত এনজিও পরিচালক জাহাঙ্গীর আলমকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।