আড়ানীর ৩ কোটি টাকার রেলওয়ে প্রকল্প নিয়ে এমপি চাঁদকে ঘিরে বিতর্ক ও পাল্টা দাবি
রাজশাহীর বাঘা-চারঘাট আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সাঈদ চাঁদকে ঘিরে আড়ানী রেলস্টেশনের প্রায় তিন কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। ঠিকাদার পক্ষের অভিযোগ, দলীয় লোকদের অংশীদার না করায় এমপি সরাসরি স্টেশনে গিয়ে কাজ বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন। তবে ঠিকাদারের প্রতিনিধি এ অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন।
জানা গেছে, ঢাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বিশ্বাস কনস্ট্রাকশন আড়ানী রেলস্টেশনের এক নম্বর লাইনের প্রায় ৬৩০ মিটার অংশে পুরনো কাঠের স্লিপার অপসারণ করে নতুন কংক্রিটের স্লিপার ও পাথর বসানোর কাজ করছে। প্রকল্পটির ঠিকাদার আফসার আলী বিশ্বাস ও আশরাফ উদ্দিন। গত ২৭ এপ্রিল কাজ শুরু হয় এবং ইতোমধ্যে পুরনো স্লিপার অপসারণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। প্রায় তিন কোটি টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পে এখন পর্যন্ত আড়াই কোটি টাকার মতো বিনিয়োগ হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
ঠিকাদার আশরাফ উদ্দিন অভিযোগ করেন, কাজ শুরুর পর থেকেই বিএনপি ও যুবদলের পরিচয়ে কিছু ব্যক্তি তাদের কাছে গিয়ে অংশীদারিত্ব দাবি করে এবং নির্দিষ্ট জায়গা থেকে নির্মাণসামগ্রী কেনার জন্য চাপ দেয়। বিষয়টি না মানায় স্থানীয়ভাবে চাপ বাড়ে। তার দাবি, এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার দিবাগত রাতে এমপি আবু সাঈদ চাঁদ আড়ানী স্টেশনে গিয়ে সাইট ম্যানেজারকে ডেকে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন।
তিনি বলেন, প্রায় আড়াই কোটি টাকা বিনিয়োগ করে কাজ চালিয়ে নেওয়া অবস্থায় হঠাৎ কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন তারা এবং এখন কেউ কাজ চালাতে সাহস পাচ্ছে না।
প্রকল্পের সাইট ম্যানেজার মো. ডাবলু এ বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি শুধু বলেন, এ বিষয়ে কথা বলতে গেলে সমস্যা হতে পারে, আপনারা নিজেরাই খোঁজ নিন।
অন্যদিকে অভিযোগের বিষয়ে জানতে এমপি আবু সাঈদ চাঁদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায় এবং হোয়াটসঅ্যাপেও সাড়া মেলেনি। তবে তার ব্যক্তিগত সহকারী জালাল উদ্দিন দাবি করেন, এমপি কাজ বন্ধ করতে বলেননি বরং কাজ সঠিকভাবে সম্পন্ন করার কথাই বলেছেন। তিনি আরও বলেন, বড় প্রকল্প হওয়ায় স্থানীয় কিছু লোককে কাজে যুক্ত করার বিষয়ে এমপি মত দিয়েছেন।
এদিকে কাজ মাঝপথে বন্ধ থাকায় রেল চলাচল নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। পুরনো স্লিপার ইতোমধ্যে অপসারণ হওয়ায় লাইনে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলে জানান পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক ফরিদ আহমেদ। তিনি বলেন, কাজ বন্ধ থাকলে শিডিউল বিপর্যয় ঘটতে পারে, বিষয়টি দ্রুত সমাধান করা প্রয়োজন।
তবে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আহসান জাবিরের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এই ঘটনার মধ্যেই রবিবার বিকেলে আড়ানী রেলস্টেশনের পাশে সংবাদ সম্মেলন করেন ঠিকাদারের প্রতিনিধি ও ম্যানেজার আব্দুল্লাহ আল হাসান ডাবলু। সেখানে তিনি এমপি চাঁদকে জড়িয়ে অংশীদারিত্ব চাওয়ার অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, কিছু সংবাদমাধ্যম রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশ করেছে এবং এটি এমপির মানহানির চেষ্টা।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন আড়ানী পৌর বিএনপির নেতৃবৃন্দও।
সব মিলিয়ে একদিকে ঠিকাদার পক্ষের অভিযোগ, অন্যদিকে প্রতিনিধি ও রাজনৈতিক পক্ষের অস্বীকার—দুই ভিন্ন অবস্থানে আড়ানীর রেল উন্নয়ন প্রকল্প ঘিরে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি রাজনৈতিক প্রভাব, ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণ ও উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নকে ঘিরে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।