মাটির নিচে সাজিদ-আর ওপরে দাঁড়িয়ে আছে আমাদের অপরাধ আর বিবেকের ভয়াল পরাজয়
রাজশাহীর তানোরের কোয়েলহাট পূর্বপাড়া গ্রামের সেই গর্তের সামনে এখন একটা জাতির বুক কাঁপছে।
এরই মধ্যে ৩০ ঘণ্টা পেরিয়ে গেছে। তবুও দুই বছরের সাজিদকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
গতকাল বুধবার দুপুরে মায়েরসাথে হাটতে হাটতে সাজিদ যে গভীর গর্তে পড়ে যায়, সে গর্ত শুধু একটি ছোট্ট শিশুকে গিলে নেয়নি-সে গর্ত আজ আমাদের সমাজের লোভ, অবহেলা আর নিষ্ঠুর দায়িত্বহীনতার নগ্ন চিত্র সামনে এনে দাঁড় করিয়েছে।
গতকাল বিকেল থেকেই ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা লড়ছে জীবন-মৃত্যুর সময়ের বিরুদ্ধে।
প্রচণ্ড ঝুঁকি, সীমাহীন ক্লান্তি, যন্ত্রপাতির সীমাবদ্ধতা-সবকিছু উপেক্ষা করে তারা চেষ্টা করে যাচ্ছে সাজিদকে ফিরিয়ে আনার।
মায়ের কান্না,পরিবারের স্তব্ধ মুখ, গ্রামের নিঃশব্দ অপেক্ষা-সব মিলিয়ে তানোর এখন এক বিশাল শোকের মাঠ।
কিন্তু এই শোকের ভেতরেই লুকিয়ে আছে এক ভয়ানক সত্য।
পানি উত্তোলন নিষিদ্ধ এলাকায় গত বছর এক ব্যক্তি খুঁড়ে গেছে একটার পর একটা গভীর নলকূপ।
যে দু’টিতে পানি উঠেছে-সেগুলো দিয়ে এখন তার আয় চলে।
আর যে তিনটি কূপে পানি ওঠেনি-সেগুলো সিল না করে, ভরাট না করে,
খড় দিয়ে ঢেকে, আলগা মাটি চাপা দিয়ে রেখে গেছে মাটির নিচে বোমার মতো।
যা আজ সেই নির্মম ফাঁদে পরিণত হয়েছে-দুই বছরের সাজিদের জন্য।
এটা দুর্ঘটনা নয়।
এটা অপরাধ।
এটা মানবতার প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা।
আরও ভয়াবহ হলো:-
যে ব্যক্তি এসব কূপ খুঁড়েছিল, এখন সে নাকি পরিবারসহ লাপাত্তা।
যেন শিশুদের জীবনের ওপরে মাটি চাপা দিয়ে পালিয়ে গেছে দায় এড়ানোর ভূত হয়ে।
কিন্তু কেবল একজন মানুষের দিকে আঙুল তুললে দায়িত্ব শেষ হয় না।
প্রশ্ন হলো?
সরকারি সংস্থাগুলো কি জানত না যে নিষিদ্ধ এলাকায় এভাবে অবৈধ কূপ খোঁড়া হচ্ছে?
যদি জানত, তাহলে ব্যবস্থা নেয়নি কেন?
আর যদি না জানত-তাহলে এই অন্যমনস্কতা, এই অক্ষমতা-এটাও কি অপরাধ নয়?
একটি শিশু আজ মৃত্যুর মুখোমুখি-আর এর পেছনে আছে বছরের পর বছর গাফিলতি।
আজ তানোরের বাতাসে শুধু উদ্ধারযজ্ঞের শব্দ নেই! আছে টেনে টেনে ওঠা নিঃশ্বাস, ভাঙা মানুষের কান্না, আর এক মায়ের অসহায়তার বেদনাময় চিৎকার।
দুই বছরের একটি শিশু-যার হাত ধরেই পৃথিবীকে নতুন করে চিনতে কথা। সে আজ মাটির নিচে আটকে। এই সত্য উচ্চারণ করলেই যে কারও চোখ ভিজে ওঠার কথা।
আমরা চাই সাজিদ বেঁচে ফিরুক।
আমরা চাই সে আবার মায়ের কোলের গরম আলিঙ্গনে ফিরে যাক।
আমরা চাই এই অপেক্ষার দীর্ঘ যন্ত্রণা সুখের অশ্রুতে শেষ হোক।
কিন্তু সেই সঙ্গে আরেকটি দাবি আজ আকাশের নিচে, মানুষের বুকের ভেতর আগুন হয়ে জ্বলছে!
এই অবহেলার পেছনে যারা দায়ী, তাদের কঠোরতম শাস্তি হোক। যাতে আর কোনো শিশু নিষিদ্ধ কূপের ফাঁদে না পড়ে। যাতে আর কোনো মা গর্তের পাশে দাঁড়িয়ে নিজের সন্তানকে ডাকতে ডাকতে ভেঙে না পড়ে।
সাজিদ এখন শুধু একটি নাম নয়!
সে আমাদের বিবেক।
সে আমাদের অপরাধবোধ।
সে আমাদের চোখের জল।
প্রার্থনা করি!
সাজিদ ফিরে আসুক।
আর এই অমানবিক অবহেলার বিরুদ্ধে রাষ্ট্র জেগে উঠুক-দ্রুত, নির্মমভাবে, নিঃশর্তে।
এরই মধ্যে ৩০ ঘণ্টা পেরিয়ে গেছে। তবুও দুই বছরের সাজিদকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
গতকাল বুধবার দুপুরে মায়েরসাথে হাটতে হাটতে সাজিদ যে গভীর গর্তে পড়ে যায়, সে গর্ত শুধু একটি ছোট্ট শিশুকে গিলে নেয়নি-সে গর্ত আজ আমাদের সমাজের লোভ, অবহেলা আর নিষ্ঠুর দায়িত্বহীনতার নগ্ন চিত্র সামনে এনে দাঁড় করিয়েছে।
গতকাল বিকেল থেকেই ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা লড়ছে জীবন-মৃত্যুর সময়ের বিরুদ্ধে।
প্রচণ্ড ঝুঁকি, সীমাহীন ক্লান্তি, যন্ত্রপাতির সীমাবদ্ধতা-সবকিছু উপেক্ষা করে তারা চেষ্টা করে যাচ্ছে সাজিদকে ফিরিয়ে আনার।
মায়ের কান্না,পরিবারের স্তব্ধ মুখ, গ্রামের নিঃশব্দ অপেক্ষা-সব মিলিয়ে তানোর এখন এক বিশাল শোকের মাঠ।
কিন্তু এই শোকের ভেতরেই লুকিয়ে আছে এক ভয়ানক সত্য।
পানি উত্তোলন নিষিদ্ধ এলাকায় গত বছর এক ব্যক্তি খুঁড়ে গেছে একটার পর একটা গভীর নলকূপ।
যে দু’টিতে পানি উঠেছে-সেগুলো দিয়ে এখন তার আয় চলে।
আর যে তিনটি কূপে পানি ওঠেনি-সেগুলো সিল না করে, ভরাট না করে,
খড় দিয়ে ঢেকে, আলগা মাটি চাপা দিয়ে রেখে গেছে মাটির নিচে বোমার মতো।
যা আজ সেই নির্মম ফাঁদে পরিণত হয়েছে-দুই বছরের সাজিদের জন্য।
এটা দুর্ঘটনা নয়।
এটা অপরাধ।
এটা মানবতার প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা।
আরও ভয়াবহ হলো:-
যে ব্যক্তি এসব কূপ খুঁড়েছিল, এখন সে নাকি পরিবারসহ লাপাত্তা।
যেন শিশুদের জীবনের ওপরে মাটি চাপা দিয়ে পালিয়ে গেছে দায় এড়ানোর ভূত হয়ে।
কিন্তু কেবল একজন মানুষের দিকে আঙুল তুললে দায়িত্ব শেষ হয় না।
প্রশ্ন হলো?
সরকারি সংস্থাগুলো কি জানত না যে নিষিদ্ধ এলাকায় এভাবে অবৈধ কূপ খোঁড়া হচ্ছে?
যদি জানত, তাহলে ব্যবস্থা নেয়নি কেন?
আর যদি না জানত-তাহলে এই অন্যমনস্কতা, এই অক্ষমতা-এটাও কি অপরাধ নয়?
একটি শিশু আজ মৃত্যুর মুখোমুখি-আর এর পেছনে আছে বছরের পর বছর গাফিলতি।
আজ তানোরের বাতাসে শুধু উদ্ধারযজ্ঞের শব্দ নেই! আছে টেনে টেনে ওঠা নিঃশ্বাস, ভাঙা মানুষের কান্না, আর এক মায়ের অসহায়তার বেদনাময় চিৎকার।
দুই বছরের একটি শিশু-যার হাত ধরেই পৃথিবীকে নতুন করে চিনতে কথা। সে আজ মাটির নিচে আটকে। এই সত্য উচ্চারণ করলেই যে কারও চোখ ভিজে ওঠার কথা।
আমরা চাই সাজিদ বেঁচে ফিরুক।
আমরা চাই সে আবার মায়ের কোলের গরম আলিঙ্গনে ফিরে যাক।
আমরা চাই এই অপেক্ষার দীর্ঘ যন্ত্রণা সুখের অশ্রুতে শেষ হোক।
কিন্তু সেই সঙ্গে আরেকটি দাবি আজ আকাশের নিচে, মানুষের বুকের ভেতর আগুন হয়ে জ্বলছে!
এই অবহেলার পেছনে যারা দায়ী, তাদের কঠোরতম শাস্তি হোক। যাতে আর কোনো শিশু নিষিদ্ধ কূপের ফাঁদে না পড়ে। যাতে আর কোনো মা গর্তের পাশে দাঁড়িয়ে নিজের সন্তানকে ডাকতে ডাকতে ভেঙে না পড়ে।
সাজিদ এখন শুধু একটি নাম নয়!
সে আমাদের বিবেক।
সে আমাদের অপরাধবোধ।
সে আমাদের চোখের জল।
প্রার্থনা করি!
সাজিদ ফিরে আসুক।
আর এই অমানবিক অবহেলার বিরুদ্ধে রাষ্ট্র জেগে উঠুক-দ্রুত, নির্মমভাবে, নিঃশর্তে।