ভোটের আগে নাগরিকের মুখোমুখি প্রার্থীরা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে রাজশাহী-৩ আসনের ভোটারদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো এবং প্রার্থীদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে ব্যতিক্রমী আয়োজন করেছে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে পবা উপজেলার নওহাটা সরকারি স্কুল মাঠে ‘একটি রাষ্ট্রের নাগরিকের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদ নাই’ শীর্ষক জনগণের মুখোমুখি অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে সাধারণ মানুষ সরাসরি প্রার্থীদের প্রশ্ন করার সুযোগ পান এবং উপস্থিত প্রার্থীরা সেসব প্রশ্নের উত্তর দেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে অঙ্গীকারনামা ও শপথ বাক্য পাঠ করেন সুজন রাজশাহী জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল আলম মাসুদ। এতে সভাপতিত্ব করেন পবা উপজেলা সুজনের সভাপতি সাদিকুল ইসলাম মেজো এবং অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন সুজনের রাজশাহী বিভাগীয় সমন্বয়কারী মিজানুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সুজন রাজশাহী জেলা কমিটির সভাপতি আহাম্মেদ শফি উদ্দিন, মহানগর সভাপতি পিয়ার বক্স, মোহনপুর উপজেলা সভাপতি আসাদ আলী, পবা উপজেলা সাধারণ সম্পাদক সোহেল মাহবুব এবং মোহনপুর উপজেলা সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলীম।
বক্তারা বলেন, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নাগরিকের মতামত ও অধিকারই সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ। ভোটের আগে জনগণের প্রশ্নের মুখোমুখি হওয়া প্রার্থীদের নৈতিক দায়িত্ব এবং এ ধরনের আয়োজন নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও অংশগ্রহণমূলক করে তোলে বলেও তারা মত প্রকাশ করেন।
রাজশাহী সিটি করপোরেশনের চারপাশ এবং নওগাঁ জেলার মান্দা সীমান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত রাজশাহী-৩ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ২৩ হাজার ১৯৯ জন। এই আসনে ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও মূল লড়াই বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী শফিকুল হক মিলন এবং জামায়াতে ইসলামীর দাড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদের মধ্যে বলে আলোচনা রয়েছে। তবে এই দুই প্রার্থীসহ আমজনতা পার্টির প্রার্থী সাঈদ পারভেজ জনগণের মুখোমুখি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর করেন জেলার একমাত্র নারী স্বতন্ত্র প্রার্থী হাবিবা খাতুন, জাতীয় পার্টির প্রার্থী আফজাল হোসেন এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী ফজলুল রহমান। এ সময় উপস্থিত ভোটাররা উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কর্মসংস্থান, দুর্নীতি দমন ও নারীর অধিকারসহ বিভিন্ন বিষয়ে সরাসরি প্রশ্ন করেন।
নওহাটা পৌর এলাকার বাসিন্দা শাহীন আলীর প্রশ্নের জবাবে স্বতন্ত্র প্রার্থী হাবিবা খাতুন বলেন, নির্বাচিত হলে নারীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, নিরাপত্তা জোরদার এবং সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধিতে অগ্রাধিকারভিত্তিতে কাজ করবেন।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ভোটের আগে নাগরিকদের সরাসরি প্রশ্ন করার সুযোগ করে দিয়ে সুজনের এই উদ্যোগ রাজশাহী-৩ আসনের নির্বাচনী পরিবেশে গণতান্ত্রিক চর্চার একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।