সিলিন্ডার উধাও, চড়া দামে কালোবাজারে এলপি গ্যাস
পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলায় হঠাৎ করেই উধাও হয়ে গেছে বোতলজাত এলপি গ্যাসের সিলিন্ডার। বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় সাধারণ ক্রেতারা গ্যাস পাচ্ছেন না, আর কোথাও সীমিত পরিমাণে মিললেও নির্ধারিত দামের চেয়ে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা বেশি আদায় করা হচ্ছে। এতে করে রান্নাবান্না বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতির মুখে পড়েছেন উপজেলার হাজারো পরিবার। অভিযোগ উঠেছে, সংকটকে পুঁজি করে একটি চক্র গ্যাস মজুত ও কালোবাজারি করছে, অথচ প্রশাসনের তদারকি কার্যত চোখে পড়ছে না।
ঈশ্বরদীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ গ্যাস বিক্রয় কেন্দ্রে সিলিন্ডার নেই। অনেক দোকানে “গ্যাস নেই” সাইনবোর্ড ঝুলতে দেখা যায়, আবার কেউ কেউ আড়ালে অতিরিক্ত দামে গ্যাস বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিক্রেতারা বলছেন, ডিলার পর্যায়ে কয়েক দিন ধরে সরবরাহ কম থাকায় তারা নতুন সিলিন্ডার পাচ্ছেন না। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে গ্যাস গোপনে মজুত রেখে বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, আগে যেখানে অনায়াসেই ১২ কেজির সিলিন্ডার পাওয়া যেত, এখন সেখানে দিনের পর দিন ঘুরেও গ্যাস মিলছে না। কোথাও পাওয়া গেলে সরকার নির্ধারিত দামের সঙ্গে অতিরিক্ত অর্থ দিতে বাধ্য করা হচ্ছে। এতে নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
ঈশ্বরদী পৌর এলাকার পূবটেংরী মহল্লার গৃহিণী দিলরুবা বেগম বলেন, গ্যাস না থাকায় সংসারের রান্নাবান্না বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। বাধ্য হয়ে কাঠ বা বিকল্প জ্বালানিতে রান্না করতে হচ্ছে, যা সময়সাপেক্ষ এবং ঝুঁকিপূর্ণ। মুলাডুলি এলাকার বাসিন্দা মাহবুবুর রহমান বলেন, চড়া দাম দিয়েও গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। পরিবারের খাবারের ব্যবস্থা করতে গিয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
এলপি গ্যাস বিক্রেতা চান্না মন্ডল দাবি করেন, কোম্পানি পর্যায়ে সরবরাহ ঘাটতি এবং চাহিদার তুলনায় কম বরাদ্দ পাওয়ায় এই সংকট তৈরি হয়েছে। তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন, যদি সরবরাহ সত্যিই কম হয়, তাহলে কীভাবে কিছু দোকানে গোপনে বেশি দামে গ্যাস বিক্রি হচ্ছে? এতে করে কালোবাজারির সন্দেহ আরও জোরালো হচ্ছে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, অতিরিক্ত দামে গ্যাস বিক্রির অভিযোগ থাকলেও বাজার তদারকিতে প্রশাসনের কোনো দৃশ্যমান ভূমিকা নেই। কোনো ভ্রাম্যমাণ আদালত বা নিয়মিত মনিটরিং না থাকায় সুযোগ নিচ্ছে অসাধু ব্যবসায়ীরা। ফলে সাধারণ মানুষ জিম্মি হয়ে পড়েছে একটি অনিয়ন্ত্রিত বাজার ব্যবস্থার কাছে।
ভুক্তভোগীরা দ্রুত এলপি গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক করা, মজুতদার ও কালোবাজারিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া এবং নির্ধারিত মূল্যে গ্যাস বিক্রি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় এই সংকট আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।