শুক্রবার , ১৪ আগস্ট ২০২৬
হোমআজকের শীর্ষ সংবাদছাত্রনেতা থেকে রাষ্ট্রপ্রধানের পথে
মির্জা ফখরুলের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন

ছাত্রনেতা থেকে রাষ্ট্রপ্রধানের পথে

favicon
উপচার ডেস্ক :-
ছাত্রনেতা থেকে রাষ্ট্রপ্রধানের পথে
বিএনপির বর্ষীয়ান রাজনৈতিক নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

ঠাকুরগাঁওয়ের পৌর চেয়ারম্যান থেকে সংসদ সদস্য, দীর্ঘ সময় ধরে বিএনপির মহাসচিব এবং সবশেষ মন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের পর এবার দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ রাষ্ট্রপতি হওয়ার পথে এগিয়ে চলেছেন বর্ষীয়ান রাজনৈতিক নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছাত্ররাজনীতি, শিক্ষকতা এবং সরকারি চাকরির পাট চুকিয়ে জাতীয় রাজনীতির শীর্ষে পৌঁছানো এই নেতার জীবন নানা সংগ্রাম, ত্যাগ ও সফলতার এক অনন্য দলিল।


ছাত্ররাজনীতি ও রাজনৈতিক শেকড় :-

১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁও শহরের কালিবাড়ি এলাকায় জন্ম নেওয়া মির্জা ফখরুলের শিক্ষাজীবন শুরু হয় নিজ জেলায়। এরপর ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক শেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ষাটের দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় তাঁর রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় বামপন্থী ছাত্ররাজনীতির মাধ্যমে। তিনি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন এবং সংগঠনটির এস এম হল শাখার সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৯ সালের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ইউনিয়নের নেতৃত্বে ছিলেন তিনি। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে সে সময় তাঁকে কারাভোগও করতে হয়।


শিক্ষকতা ও সরকারি চাকরি থেকে মূলধারার রাজনীতি :-


শিক্ষা জীবন শেষে ১৯৭২ সালে ঢাকা কলেজে অর্থনীতির প্রভাষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন মির্জা ফখরুল। পরবর্তীতে বিভিন্ন সরকারি কলেজে শিক্ষকতার পাশাপাশি ১৯৭৯ সালে তৎকালীন উপপ্রধানমন্ত্রী এস এ বারীর একান্ত সচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘ পেশাজীবনের পর ১৯৮৬ সালে সরকারি চাকরি ছেড়ে তিনি পুরোপুরি সক্রিয় রাজনীতিতে নাম লেখান। এর ধারাবাহিকতায় ১৯৮৮ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ঠাকুরগাঁও পৌরসভা নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেন। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সময় তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে (বিএনপি) যোগ দেন এবং ১৯৯২ সালে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হন।


আন্দোলন, কারাবাস ও নেতৃত্ব:-

২০০৯ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মির্জা ফখরুল। পরবর্তীতে ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের কৃষি এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ২০১১ সালে দলের তৎকালীন মহাসচিব খন্দকার দেলওয়ার হোসেনের মৃত্যুর পর তিনি ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পান এবং ২০১৬ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে দলের মহাসচিব নিযুক্ত হন। রাজনৈতিক সংকটে ও প্রতিকূল পরিস্থিতিতে দলের হাল ধরে রাখা এই নেতার জীবনে রয়েছে দীর্ঘ কারাবাসের ইতিহাস। বিরোধী দলের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে তিনি জীবনে বিভিন্ন সময়ে সব মিলিয়ে প্রায় সাড়ে চার শ দিন কারাবরণ করেছেন।


ব্যক্তিগত জীবন ও পারিবারিক পরিচয়:-

ব্যক্তিগত জীবনে মির্জা ফখরুল এক কন্যার জনক হলেও পারিবারিক পরিমণ্ডলে তিনি স্ত্রী রাহাত আরা বেগম এবং দুই কন্যা মির্জা শামারুহ ও মির্জা সাফারুহকে নিয়ে সংসার জীবন কাটিয়েছেন। তাঁর স্ত্রী একটি বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। বড় মেয়ে অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী এবং ছোট মেয়ে ঢাকায় শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত আছেন। রাজনীতির মাঠে সবসময় ব্যস্ত সময় পার করায় পরিবারকে পর্যাপ্ত সময় দিতে না পারার আক্ষেপ তাঁর মনে আজও গভীর দাগ কাটে।


নতুন সাংবিধানিক অধ্যায় :-


চলমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। সুদীর্ঘ পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে মাঠের রাজনীতি, আপসহীন আন্দোলন এবং সাংগঠনিক দক্ষতা প্রদর্শনকারী এই নেতার রাষ্ট্রপতি পদে আসীন হওয়া বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা করতে যাচ্ছে।

ছাত্রনেতা থেকে রাষ্ট্রপ্রধানের পথে
মির্জা ফখরুলের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
১৩ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উপচার
 শুক্রবার , ১৪ আগস্ট ২০২৬
হোমআজকের শীর্ষ সংবাদছাত্রনেতা থেকে রাষ্ট্রপ্রধানের পথে
মির্জা ফখরুলের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন

ছাত্রনেতা থেকে রাষ্ট্রপ্রধানের পথে

favicon
উপচার ডেস্ক :-
ছাত্রনেতা থেকে রাষ্ট্রপ্রধানের পথে
বিএনপির বর্ষীয়ান রাজনৈতিক নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

ঠাকুরগাঁওয়ের পৌর চেয়ারম্যান থেকে সংসদ সদস্য, দীর্ঘ সময় ধরে বিএনপির মহাসচিব এবং সবশেষ মন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের পর এবার দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ রাষ্ট্রপতি হওয়ার পথে এগিয়ে চলেছেন বর্ষীয়ান রাজনৈতিক নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছাত্ররাজনীতি, শিক্ষকতা এবং সরকারি চাকরির পাট চুকিয়ে জাতীয় রাজনীতির শীর্ষে পৌঁছানো এই নেতার জীবন নানা সংগ্রাম, ত্যাগ ও সফলতার এক অনন্য দলিল।


ছাত্ররাজনীতি ও রাজনৈতিক শেকড় :-

১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁও শহরের কালিবাড়ি এলাকায় জন্ম নেওয়া মির্জা ফখরুলের শিক্ষাজীবন শুরু হয় নিজ জেলায়। এরপর ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক শেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ষাটের দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় তাঁর রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় বামপন্থী ছাত্ররাজনীতির মাধ্যমে। তিনি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন এবং সংগঠনটির এস এম হল শাখার সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৯ সালের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ইউনিয়নের নেতৃত্বে ছিলেন তিনি। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে সে সময় তাঁকে কারাভোগও করতে হয়।


শিক্ষকতা ও সরকারি চাকরি থেকে মূলধারার রাজনীতি :-


শিক্ষা জীবন শেষে ১৯৭২ সালে ঢাকা কলেজে অর্থনীতির প্রভাষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন মির্জা ফখরুল। পরবর্তীতে বিভিন্ন সরকারি কলেজে শিক্ষকতার পাশাপাশি ১৯৭৯ সালে তৎকালীন উপপ্রধানমন্ত্রী এস এ বারীর একান্ত সচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘ পেশাজীবনের পর ১৯৮৬ সালে সরকারি চাকরি ছেড়ে তিনি পুরোপুরি সক্রিয় রাজনীতিতে নাম লেখান। এর ধারাবাহিকতায় ১৯৮৮ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ঠাকুরগাঁও পৌরসভা নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেন। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সময় তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে (বিএনপি) যোগ দেন এবং ১৯৯২ সালে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হন।


আন্দোলন, কারাবাস ও নেতৃত্ব:-

২০০৯ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মির্জা ফখরুল। পরবর্তীতে ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের কৃষি এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ২০১১ সালে দলের তৎকালীন মহাসচিব খন্দকার দেলওয়ার হোসেনের মৃত্যুর পর তিনি ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পান এবং ২০১৬ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে দলের মহাসচিব নিযুক্ত হন। রাজনৈতিক সংকটে ও প্রতিকূল পরিস্থিতিতে দলের হাল ধরে রাখা এই নেতার জীবনে রয়েছে দীর্ঘ কারাবাসের ইতিহাস। বিরোধী দলের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে তিনি জীবনে বিভিন্ন সময়ে সব মিলিয়ে প্রায় সাড়ে চার শ দিন কারাবরণ করেছেন।


ব্যক্তিগত জীবন ও পারিবারিক পরিচয়:-

ব্যক্তিগত জীবনে মির্জা ফখরুল এক কন্যার জনক হলেও পারিবারিক পরিমণ্ডলে তিনি স্ত্রী রাহাত আরা বেগম এবং দুই কন্যা মির্জা শামারুহ ও মির্জা সাফারুহকে নিয়ে সংসার জীবন কাটিয়েছেন। তাঁর স্ত্রী একটি বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। বড় মেয়ে অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী এবং ছোট মেয়ে ঢাকায় শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত আছেন। রাজনীতির মাঠে সবসময় ব্যস্ত সময় পার করায় পরিবারকে পর্যাপ্ত সময় দিতে না পারার আক্ষেপ তাঁর মনে আজও গভীর দাগ কাটে।


নতুন সাংবিধানিক অধ্যায় :-


চলমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। সুদীর্ঘ পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে মাঠের রাজনীতি, আপসহীন আন্দোলন এবং সাংগঠনিক দক্ষতা প্রদর্শনকারী এই নেতার রাষ্ট্রপতি পদে আসীন হওয়া বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা করতে যাচ্ছে।

ছাত্রনেতা থেকে রাষ্ট্রপ্রধানের পথে
মির্জা ফখরুলের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
১৩ আগস্ট ২০২৬