১৪ বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রে বাড়তি নিরাপত্তার আবেদন
রাজশাহীতে তীব্র গরমে বিদ্যুতের মারাত্মক ঘাটতি দেখা দেওয়ায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত সরবরাহ না পাওয়ায় মহানগরী ও জেলার বিভিন্ন উপজেলায় দফায় দফায় লোডশেডিং হচ্ছে। এতে স্থানীয় গ্রাহকদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে ইতোমধ্যে জেলার ১৪টি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রে প্রশাসনের কাছে অতিরিক্ত নিরাপত্তা চেয়েছে রাজশাহী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী জেলার পাঁচটি উপজেলায় বর্তমানে দিনে ও রাতে বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে ১১০ থেকে ১১৫ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মোটে ৮০ থেকে ৮৫ মেগাওয়াট। অর্থাৎ, প্রায় ২৫ শতাংশ বা ৩০ মেগাওয়াটের মতো ঘাটতি রয়েছে। এই ঘাটতি মোকাবিলা করতে গিয়েই শিডিউল অনুযায়ী বা অনিয়মিতভাবে বিভিন্ন এলাকায় বারবার লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
পরিস্থিতির ভয়াবহতা নিয়ে রাজশাহী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সিনিয়র ব্যবস্থাপক রবেন্দ্র চন্দ্র রায় জানান, লোডশেডিংকে কেন্দ্র করে যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে, সে জন্য জেলার ১৪টি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রে বাড়তি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
অন্যদিকে, রাজশাহী মহানগরীর অবস্থাও প্রায় একই রকম। নর্থ ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (নেসকো)-এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মাহবুবুল আলম চৌধুরী জানান, নগরীতে গড়ে ১৩৫ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ১১১ মেগাওয়াট। ফলে গড়ে প্রতিদিন ২৪ থেকে ৩০ মেগাওয়াট পর্যন্ত লোডশেডিং করতে হচ্ছে। ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে প্রতি ঘণ্টায় বিদ্যুতের চাহিদা ও সরবরাহের পরিমাণে তারতম্য ঘটায় পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।
প্রচণ্ড দাবদাহের মধ্যে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎহীন থাকায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। দ্রুত এই সংকট নিরসন না হলে জনরোষ আরও তীব্র হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।