রাজশাহী রেঞ্জে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সেরা চাঁপাইনবাবগঞ্জ
মাদক ও চোরাচালানের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ ভূমিকা রাখায় রাজশাহী রেঞ্জের মাসিক অপরাধ সভায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পুলিশ প্রথম স্থান অর্জন করেছে।
বুধবার (১২ আগস্ট) রাজশাহী রেঞ্জের মাসিক অপরাধ সভায় জুলাই ২০২৬ মাসের অপরাধ পরিস্থিতি ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে জেলার কার্যক্রম পর্যালোচনা শেষে চাঁপাইনবাবগঞ্জকে শ্রেষ্ঠ জেলা হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। এ সময় শ্রেষ্ঠত্বের সম্মাননা পুরস্কার গ্রহণ করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস।
জানা গেছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলাকে মাদক ও চোরাচালানমুক্ত রাখতে জুলাই মাসজুড়ে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে ধারাবাহিকভাবে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসব অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে মোট ২০৬টি মামলা দায়ের এবং ৮৫৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
অভিযানকালে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে ৪ কেজি ১৬৮ দশমিক ৫ গ্রাম হেরোইন, ৮ হাজার ৬২২ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ৯ কেজি ১০৫ গ্রাম গাঁজা, ৪৪৯ বোতল স্কাফ সিরাপ, এক বোতল বিদেশি মদ, ৫৬১ লিটার চোলাই মদ এবং ৩৫৫ লিটার ওয়াশ।
এছাড়া চোরাচালানবিরোধী অভিযানে ৮৬টি ভারতীয় মোবাইল ফোন, ভারতীয় বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ও একটি পিকআপ উদ্ধার করা হয়েছে।
মাদক ও চোরাচালানের বিরুদ্ধে পুলিশের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে ধারাবাহিক অভিযান ও কার্যকর ভূমিকার স্বীকৃতিস্বরূপ রাজশাহী রেঞ্জের মাসিক অপরাধ সভায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পুলিশ প্রথম স্থান অর্জন করে।
এ উপলক্ষে রাজশাহী রেঞ্জের সম্মানিত ডিআইজি মোঃ আশিক সাঈদ-এর কাছ থেকে সম্মাননা পুরস্কার গ্রহণ করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস।
পুরস্কার অর্জনের বিষয়ে পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস বলেন, “পুলিশ সুপারের দিক-নির্দেশনায় জেলা পুলিশের সকল কর্মকর্তা ও সদস্য আন্তরিকতা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করায় এ অর্জন সম্ভব হয়েছে। এই পুরস্কার জেলা পুলিশের প্রত্যেক সদস্যের মনোবল আরও বাড়াবে এবং ভবিষ্যতে আরও ভালোভাবে দায়িত্ব পালনে অনুপ্রেরণা জোগাবে।”
তিনি আরও বলেন, “মাদক ও চোরাচালানের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে। জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং অপরাধমুক্ত চাঁপাইনবাবগঞ্জ গড়তে পুলিশ সদস্যদের আরও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।”
এ সময় তিনি জেলা পুলিশের সকল কর্মকর্তা ও সদস্যকে আন্তরিকভাবে কাজ করার জন্য ধন্যবাদ জানান এবং সাফল্যের এ ধারা ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
জেলা পুলিশের এমন অর্জনে স্থানীয় সচেতন মহলও সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, মাদক ও চোরাচালানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের পাশাপাশি নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকলে সীমান্তবর্তী এ জেলার অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আরও ইতিবাচক ফলাফল আসবে।
পুলিশের আহ্বান-মাদককে না বলুন, জীবনকে হ্যাঁ বলুন।