ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সবুজ পৃথিবী গড়ার অঙ্গীকার
'বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ'—এই স্লোগানকে কেন্দ্র করে রাজশাহীতে আয়োজিত ১৫ দিনব্যাপী বিভাগীয় বৃক্ষমেলা-২০২৬-এর আনুষ্ঠানিক যবনিকা টানা হয়েছে। সোমবার (১০ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৩টায় নগরীর ঐতিহ্যবাহী নজরুল ভিলেজ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পক্ষকালব্যাপী এই সফল মেলার সমাপ্তি ঘটে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিভাগীয় কমিশনার ড.আ.ন.ম বজলুর রশিদ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণের অপরিসীম ভূমিকার কথা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ, সবুজ ও টেকসই বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিতে কেবল সরকারি উদ্যোগই যথেষ্ট নয়; বরং বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমকে সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে একটি সার্বিক সামাজিক আন্দোলনে রূপান্তর করতে হবে।
রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাপনী সভায় পরিবেশ সংরক্ষণে বৃক্ষকে মানবজাতির অন্যতম প্রধান রক্ষাকবচ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
জেলা প্রশাসক তাঁর বক্তব্যে বলেন, পরিবেশের স্বাভাবিক ভারসাম্য টিকিয়ে রাখার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বৃক্ষরোপণ ও রোপণকৃত বৃক্ষের সঠিক যত্ন নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। বৃক্ষরোপণ অভিযানকে আরও গতিশীল ও সফল করতে তিনি ব্যাপক জনসচেতনতা সৃষ্টির ওপর বিশেষ জোর দেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান ও উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী রেঞ্জের উপ-মহাপুলিশ পরিদর্শক (ডিআইজি) মোঃ আশিক সাঈদ, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার ফারুক হোসেন, বগুড়া সামাজিক বন অঞ্চলের বন সংরক্ষক মুহাম্মদ সুবেদার ইসলাম এবং রাজশাহী সামাজিক বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ড. মোঃ জাহাঙ্গীর আলম।
সমাপনী আয়োজনের মূল আকর্ষণ ছিল পুরস্কার বিতরণী পর্ব। মেলায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণকারী নার্সারিগুলোর মধ্যে উদ্ভাবন ও উন্নত চারা প্রদর্শনের ভিত্তিতে শ্রেষ্ঠ নার্সারি মালিকদের বিশেষ সম্মাননা ও পুরস্কার প্রদান করা হয়। এছাড়া বৃক্ষমেলা উপলক্ষে আয়োজিত চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিশু-কিশোরদের হাতে ক্রেস্ট ও সনদ তুলে দেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি। অতিথিবৃন্দ আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের মেলা প্রতিবছর তরুণ ও সাধারণ জনগোষ্ঠীকে প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষায় আরও বেশি অনুপ্রাণিত করবে।