অস্থিরতা সৃষ্টিকারীদের চিহ্নিত করে বিচারের মুখোমুখি করার আহ্বান বিএনপির
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে রাজপথে কোনো মারামারি বা সংঘাতের মাধ্যমে নয়, বরং আদর্শিক ও রাজনৈতিকভাবেই মোকাবিলা করবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। মঙ্গলবার সকালে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন ও ফাতিহা পাঠ শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এ প্রত্যয় ব্যক্ত করেন দলের স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে এ দেশের বীর জনতা স্বৈরাচারকে বিতাড়িত করতে সক্ষম হয়েছে। কেউ কেউ স্বৈরাচারের পলায়নকে স্বেচ্ছায় যাওয়া বলে দাবি করার চেষ্টা করলেও বাস্তবতা হলো—তীব্র গণআন্দোলন এবং রাজপথের উত্তাল জনস্রোতের মুখে টিকতে না পেরেই তাদের বিদায় নিতে হয়েছে। তবে শীর্ষ নেতৃত্ব পালিয়ে গেলেও স্বৈরাচারী মানসিকতা ও চরিত্র ধারণকারী একটি চক্র এখনো সমাজের নানা স্তরে ঘাপটি মেরে রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বিএনপির এই নীতি-নির্ধারক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ভোরবেলা ককটেল বিস্ফোরণ, চোরাগোপ্তা বোমা হামলা ও নানা অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে জনজীবনে কৃত্রিম অস্থিরতা তৈরির অপচেষ্টা চলছে। এসব উসকানির মূল উদ্দেশ্য হলো দেশের চলমান গণতান্ত্রিক রূপান্তর ও গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করা। তবে দেশের মানুষকে আশ্বস্ত করে তিনি স্পষ্ট করেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা অতন্দ্র প্রহরীর মতো জনগণের পাশে রয়েছে এবং কোনো অশুভ শক্তিকেই জনগণের গণতান্ত্রিক বিজয় নস্যাৎ করতে দেওয়া হবে না।
নাগরিকদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সাংবিধানিক দায়িত্ব প্রশাসনের ওপর ন্যস্ত রয়েছে উল্লেখ করে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান, যারা নেপথ্যে থেকে নাশকতা ও অস্থিরতা তৈরির চক্রান্তে লিপ্ত, তাদের অবিলম্বে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং নিরপেক্ষ বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। একই সঙ্গে অপতৎপরতা রুখতে সাধারণ জনগণকেও সজাগ ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি। জিয়াউর রহমানের আদর্শের কথা স্মরণ করে তিনি দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্টের মূল চেতনা—বহুদলীয় গণতন্ত্র, জাতীয় স্বাধীনতা ও রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠার যে শুভ সূচনা অর্জিত হয়েছে, তা যেকোনো মূল্যে সমুন্নত রাখা হবে।