শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার পেপারবুক প্রস্তুত
রাজধানীর পল্লবীতে আট বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামির ডেথ রেফারেন্স এবং জেল আপিল শুনানির সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে খুব শীঘ্রই এই চাঞ্চল্যকর মামলার শুনানি শুরু হতে যাচ্ছে।
বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি এবং মাগুরার শিশু আছিয়া হত্যা মামলার শুনানি শেষ হওয়ার পরপরই রামিসা হত্যা মামলার কার্যক্রম শুরু হবে। ইতোমধ্যে মামলার পেপারবুক হাইকোর্টে প্রস্তুত করা হয়েছে, ফলে আদালতের কার্যতালিকায় আসার পর শুনানি শুরু করতে আর কোনো বড় আনুষ্ঠানিকতা বাকি নেই।
এর আগে গত ৭ জুন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন আলোচিত এই মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। পাশাপাশি সোহেল রানাকে পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্না আক্তারকে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়। রায় ঘোষণার পর থেকেই আসামিরা কারাগারের কনডেম সেলে বন্দি রয়েছেন।
আইন অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য (ডেথ রেফারেন্স) মামলার যাবতীয় নথিপত্র উচ্চ আদালতে পাঠানো হয়। গত ৯ জুন পূর্ণাঙ্গ রায় ও ডেথ রেফারেন্সসহ মোট ৭২ পৃষ্ঠার নথি হাইকোর্টে এসে পৌঁছায়। পরবর্তীতে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী নিয়োগের নির্দেশ দেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৫ জুন আইনজীবী হাফিজুর রহমান খানকে আসামিদের পক্ষে আইনি লড়াই পরিচালনার জন্য রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদন ও মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, পল্লবীতে শিশু রামিসাকে নির্মমভাবে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্নার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। পুলিশি তদন্ত শেষে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয় এবং বিচারিক আদালতে দীর্ঘ সাক্ষ্য-প্রমাণ ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালত এই যুগান্তকারী রায় প্রদান করেন।
এখন হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্স এবং আসামিদের করা জেল আপিল একসঙ্গে শুনানি হবে। উচ্চ আদালত নিম্ন আদালতের রায়, মামলার যাবতীয় সাক্ষ্য-প্রমাণ ও নথিপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করে আসামিদের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন।