আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসহ বাংলাদেশের জন্য ভারতের কাপুরথালার রেল কোচ প্রস্তুত
বাংলাদেশ রেলওয়ের বহুকাঙ্ক্ষিত আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে ভারতের পাঞ্জাবের কাপুরথালায় অবস্থিত রেল কোচ ফ্যাক্টরিতে (আরেসিএফ) নির্মিত ১৯টি এলএইচবি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী কোচের প্রথম রেকটি আনুষ্ঠানিকভাবে রোল আউট করা হয়েছে। ভারতের প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরোর (পিআইবি) তথ্যানুযায়ী, বুধবার এই আধুনিক কোচগুলোর প্রথম চালান আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করা হয়।
নতুন এই রেকে যাত্রীদের আরামদায়ক ও নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে সর্বাধুনিক সুযোগ-সুবিধা রাখা হয়েছে। প্রথম চালানের এই কোচের বিন্যাসে রয়েছে তিনটি এসি স্লিপার, তিনটি এসি চেয়ার কার, এগারোটি নন-এসি শোভন চেয়ার কোচ এবং দুটি পাওয়ার কার। বাংলাদেশ রেলওয়ের বিশেষ পরিচালনাগত ও যাত্রীদের চাহিদার কথা মাথায় রেখেই কোচগুলোর অভ্যন্তরীণ নকশায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হয়েছে।
যাত্রীদের দীর্ঘপথের ক্লান্তি দূর করতে কোচে যুক্ত করা হয়েছে আরামদায়ক রিক্লাইনিং চেয়ার, স্টেইনলেস স্টিলের মজবুত হাতল এবং পায়ের আরামদায়ক বিশ্রামের ব্যবস্থা। এসি কোচগুলোতে উন্নত ফ্যান, সমন্বিত সিসিটিভি ক্যামেরা নজরদারি, যাত্রী সতর্কীকরণ ব্যবস্থা, আংশিক খোলা যায় এমন আধুনিক জানালা, শিশু পরিচর্যা কক্ষ এবং আলাদা নামাজের কক্ষের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশের আবহাওয়া ও পরিচালন পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে কোচের ছাদ অতিরিক্ত শক্তিশালী করা হয়েছে।
নিরাপত্তার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে ইউরোপীয় মানদণ্ড ইএন ১৫২২৭ অনুসরণ করা হয়েছে, যা যেকোনো দুর্ঘটনায় বা সংঘর্ষে যাত্রীদের তুলনামূলক বেশি সুরক্ষা দেবে। পাশাপাশি, বাংলাদেশ রেলওয়ের বর্তমান বৈদ্যুতিক কাঠামোর সঙ্গে পূর্ণ সামঞ্জস্য রাখতে ভারতীয় রেলের প্রচলিত ৭৫০ ভোল্টের পরিবর্তে ৪১৫ ভোল্টের বিশেষ বিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ রেলওয়ের সঙ্গে কাপুরথালা রেল কোচ ফ্যাক্টরির দীর্ঘদিনের পারস্পরিক সহযোগিতার ইতিহাস রয়েছে। এর আগে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য ১২০টি এলএইচবি ব্রডগেজ কোচ তৈরি করেছিল এই কারখানা। সেই সফল ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালে সাতটি ভিন্ন ধরনের মোট ২০০টি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী কোচের নতুন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। বর্তমানের এই ১৯টি কোচের প্রথম রেকটি মূলত সেই বড় অর্ডারেরই প্রথম চালান, যা খুব শীঘ্রই বাংলাদেশের রেলবহরে যুক্ত হতে যাচ্ছে।