যুক্তরাষ্ট্রে নজিরবিহীন কড়াকড়ি: বাতিল হলো ১ লাখ ৭৫ হাজার ভিসা
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে অভিবাসন ও ভ্রমণ নীতির ওপর কঠোর নজরদারি অব্যাহত রেখেছে ট্রাম্প প্রশাসন। দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, কঠোর যাচাই-বাছাই ও ব্যাপক অভিবাসন দমন অভিযানের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে ১ লাখ ৭৫ হাজার ভিসা বাতিল করা হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ও কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) প্রকাশিত মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ভিসা আইন লঙ্ঘন, জালিয়াতি, সহিংসতার প্ররোচনা, জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে বিভিন্ন অপরাধমূলক সংঘাতে জড়ানোর কারণে বেশিরভাগ ভিসা বাতিল করা হয়েছে। গত বছর হোয়াইট হাউসে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রত্যাবর্তনের পর থেকেই এই কঠোর অভিবাসন নীতি ও ধারাবাহিক দমন অভিযান শুরু হয়, যার ধারাবাহিকতায় বৈধ ভিসাধারীসহ রেকর্ডসংখ্যক মানুষকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ভিসা বাতিলের অন্যতম প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে হামলা, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালনা (ডিইউআই), চুরি এবং মাদকসংক্রান্ত বিভিন্ন অপরাধ। এ ছাড়াও অভিবাসন আইনের অপব্যবহার ঠেকাতে দেশটির প্রশাসন কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে উত্তর আফ্রিকায় অবস্থিত একটি মার্কিন দূতাবাস ‘বার্থ ট্যুরিজম’ বা জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্ব অর্জনের উদ্দেশ্যে দেশটিতে যাওয়া ১০০ জনেরও বেশি দম্পতির ভিসা বাতিল করেছে। মূলত সন্তান প্রসবের মাধ্যমে মার্কিন নাগরিকত্ব নিশ্চিত করার অবৈধ প্রবণতা রোধ করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের দ্ব্যর্থহীন ঘোষণা অনুযায়ী, মার্কিন ভিসা কোনো মৌলিক অধিকার নয়, বরং এটি একটি বিশেষ সুযোগ। যারা এই সুবিধার অপব্যবহার করবেন বা মার্কিন নিরাপত্তার জন্য ন্যূনতম হুমকি হয়ে দাঁড়াবেন, তাদের বিরুদ্ধে ছাড় না দিয়ে ভিসা বাতিলসহ কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত রাখবে প্রশাসন। এর আগে গত জানুয়ারিতে মন্ত্রণালয় ১ লাখের বেশি ভিসা বাতিলের ঘোষণা দিয়েছিল, যা সে সময় একটি রেকর্ড হিসেবে বিবেচিত হয়েছিল। বর্তমান এই নতুন পদক্ষেপে সেই সংখ্যা ছাড়িয়ে ১ লাখ ৭৫ হাজারে পৌঁছাল।