বুধবার , ১২ আগস্ট ২০২৬
হোমরাজশাহীদিনে-রাতে ৮ ঘণ্টার বেশি লোডশেডিং
ক্ষোভে ফুঁসছে রাজশাহী বিভাগের মানুষ

দিনে-রাতে ৮ ঘণ্টার বেশি লোডশেডিং

favicon
স্টাফ রিপোর্টার :
দিনে-রাতে ৮ ঘণ্টার বেশি লোডশেডিং

তীব্র দাবদাহ ও ভ্যাপসা গরমে যখন জনজীবন ওষ্ঠাগত, ঠিক তখনই রাজশাহী বিভাগজুড়ে বিদ্যুতের ঘন ঘন লোডশেডিং পরিস্থিতিকে চরমে পৌঁছে দিয়েছে। রাজশাহী, পাবনা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নাটোর-এই চার জেলার শহর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল পর্যন্ত সর্বত্রই আজ একই চিত্র। বিদ্যুতের এই লুকোচুরিতে স্থবির হয়ে পড়েছে বাসাবাড়ির স্বাভাবিক কাজকর্ম, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং কৃষি ও শিল্প উৎপাদন। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন শিশু, বৃদ্ধ, শিক্ষার্থী, কৃষক ও বিভিন্ন পেশার শ্রমজীবী মানুষ।

নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো) সূত্রে জানা গেছে, বিভাগের বিভিন্ন অঞ্চলে বিদ্যুতের চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে রয়েছে বড় ধরনের ফারাক। মঙ্গলবার দুপুর তিনটায় রাজশাহী বিভাগে বিদ্যুতের মোট চাহিদা ছিল ৫১৬ দশমিক ৫ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া গেছে মাত্র ৪৩২ দশমিক ৮ মেগাওয়াট। অর্থাৎ, এই সময়ে ঘাটতি ছিল ৮৩ দশমিক ৭ মেগাওয়াট, যা মোট চাহিদার প্রায় ১৬ শতাংশ। তবে মাঠপর্যায়ের গ্রাহকদের অভিযোগ, কাগজে-কলমে এই ঘাটতির পরিমাণ কম মনে হলেও বাস্তবে লোডশেডিংয়ের স্থায়িত্ব অনেক বেশি।

তীব্র গরমে দিনের বেলা তো বটেই, রাতের বেলাও ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিরা চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন। রাজশাহী শহরের গৃহিণী ফাহমিদা আফরীণ জানান, গরমের তীব্রতায় ছোট বাচ্চাদের নিয়ে শান্তিতে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। কখন বিদ্যুৎ আসবে এবং কখন যাবে, তার কোনো নির্দিষ্ট নিশ্চয়তা নেই। বিশেষ করে রাতের বেলা এই কষ্ট সহ্যসীমা ছাড়িয়ে যায়।

কৃষিনির্ভর এই অঞ্চলে সেচ সুবিধা বিঘ্নিত হওয়ায় মারাত্মক ফসলহানির আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। পবার কৃষক উজ্জ্বল আলী আক্ষেপ করে বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় সেচযন্ত্র চালু রাখা যাচ্ছে না। সময়মতো জমিতে পানি দিতে না পারলে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হবে। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরাও পড়েছেন বড় বিপাকে। অনলাইন লেনদেন এবং কম্পিউটারসহ বিভিন্ন প্রযুক্তিগত যন্ত্রাংশ সচল রাখতে না পারায় প্রতিনিয়ত আর্থিক লোকসান গুনতে হচ্ছে তাদের।

পাবনায় দিনে ৪ থেকে ৫ বার এবং সন্ধ্যার পর থেকে ভোর পর্যন্ত ৩ থেকে ৪ বার বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকছে। শালগাড়িয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় দিনে-রাতে মিলিয়ে ৬ থেকে ৭ বার লোডশেডিংয়ের রেকর্ড রয়েছে। কোনো কোনো সময় এক থেকে দুই ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকে না। পাবনা নেসকোর নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান জানান, পাবনা শহরে বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ৩০ মেগাওয়াট হলেও বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ১৫ থেকে ২৫ মেগাওয়াট। ফলে চাহিদার সাথে সামঞ্জস্য রাখতে বাধ্য হয়েই লোডশেডিং করতে হচ্ছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জেও লোডশেডিংয়ের কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। শিবগঞ্জ উপজেলার বিনোদপুর এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, কোনো কোনো দিন ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মাত্র ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ মিলছে।

নাটোরের চিত্রও ভিন্ন নয়; সিংড়া উপজেলার বাসিন্দাদের দিন-রাত মিলিয়ে ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন থাকতে হচ্ছে।

সিংড়ার দর্জি রবিউল ইসলাম জানান, বিদ্যুৎ না থাকায় সময়মতো কাজের ডেলিভারি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না, ফলে গ্রাহকদের ক্ষোভের মুখে পড়তে হচ্ছে। অন্যদিকে নাটোরের পোল্ট্রি খামারিরা ফ্যান ও কুলিং সিস্টেম সচল রাখতে না পেরে বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছেন।

অনেক এলাকায় ১৬ থেকে ১৮ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকার কারণে গুরুদাসপুরের ব্যবসায়ীরা সন্ধ্যার আগেই দোকানপাট বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছেন।

নাটোর সদরের দিঘাপতিয়া এলাকায় বিদ্যুৎ সংকটের কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাল্টিমিডিয়া ক্লাস কার্যক্রমও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। মোবাইল ফোন ও আইপিএসের ব্যাটারি চার্জ দেওয়ার সুযোগ না থাকায় চরম যোগাযোগ সংকটেও পড়ছেন সাধারণ মানুষ।

বিদ্যুৎ সংকটের কারণ হিসেবে নেসকোর দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বলছেন, জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে লোডশেডিংয়ের শিডিউল বাস্তবায়ন করতে হচ্ছে। সরবরাহ স্বাভাবিক হলে পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি ঘটবে। তবে তীব্র এই দাবদাহের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী লোডশেডিংয়ের কবল থেকে মুক্তি পেতে এবং নিয়মিত ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।

দিনে-রাতে ৮ ঘণ্টার বেশি লোডশেডিং
ক্ষোভে ফুঁসছে রাজশাহী বিভাগের মানুষ
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
১২ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উপচার
 বুধবার , ১২ আগস্ট ২০২৬
হোমরাজশাহীদিনে-রাতে ৮ ঘণ্টার বেশি লোডশেডিং
ক্ষোভে ফুঁসছে রাজশাহী বিভাগের মানুষ

দিনে-রাতে ৮ ঘণ্টার বেশি লোডশেডিং

favicon
স্টাফ রিপোর্টার :
দিনে-রাতে ৮ ঘণ্টার বেশি লোডশেডিং

তীব্র দাবদাহ ও ভ্যাপসা গরমে যখন জনজীবন ওষ্ঠাগত, ঠিক তখনই রাজশাহী বিভাগজুড়ে বিদ্যুতের ঘন ঘন লোডশেডিং পরিস্থিতিকে চরমে পৌঁছে দিয়েছে। রাজশাহী, পাবনা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নাটোর-এই চার জেলার শহর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল পর্যন্ত সর্বত্রই আজ একই চিত্র। বিদ্যুতের এই লুকোচুরিতে স্থবির হয়ে পড়েছে বাসাবাড়ির স্বাভাবিক কাজকর্ম, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং কৃষি ও শিল্প উৎপাদন। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন শিশু, বৃদ্ধ, শিক্ষার্থী, কৃষক ও বিভিন্ন পেশার শ্রমজীবী মানুষ।

নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো) সূত্রে জানা গেছে, বিভাগের বিভিন্ন অঞ্চলে বিদ্যুতের চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে রয়েছে বড় ধরনের ফারাক। মঙ্গলবার দুপুর তিনটায় রাজশাহী বিভাগে বিদ্যুতের মোট চাহিদা ছিল ৫১৬ দশমিক ৫ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া গেছে মাত্র ৪৩২ দশমিক ৮ মেগাওয়াট। অর্থাৎ, এই সময়ে ঘাটতি ছিল ৮৩ দশমিক ৭ মেগাওয়াট, যা মোট চাহিদার প্রায় ১৬ শতাংশ। তবে মাঠপর্যায়ের গ্রাহকদের অভিযোগ, কাগজে-কলমে এই ঘাটতির পরিমাণ কম মনে হলেও বাস্তবে লোডশেডিংয়ের স্থায়িত্ব অনেক বেশি।

তীব্র গরমে দিনের বেলা তো বটেই, রাতের বেলাও ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিরা চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন। রাজশাহী শহরের গৃহিণী ফাহমিদা আফরীণ জানান, গরমের তীব্রতায় ছোট বাচ্চাদের নিয়ে শান্তিতে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। কখন বিদ্যুৎ আসবে এবং কখন যাবে, তার কোনো নির্দিষ্ট নিশ্চয়তা নেই। বিশেষ করে রাতের বেলা এই কষ্ট সহ্যসীমা ছাড়িয়ে যায়।

কৃষিনির্ভর এই অঞ্চলে সেচ সুবিধা বিঘ্নিত হওয়ায় মারাত্মক ফসলহানির আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। পবার কৃষক উজ্জ্বল আলী আক্ষেপ করে বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় সেচযন্ত্র চালু রাখা যাচ্ছে না। সময়মতো জমিতে পানি দিতে না পারলে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হবে। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরাও পড়েছেন বড় বিপাকে। অনলাইন লেনদেন এবং কম্পিউটারসহ বিভিন্ন প্রযুক্তিগত যন্ত্রাংশ সচল রাখতে না পারায় প্রতিনিয়ত আর্থিক লোকসান গুনতে হচ্ছে তাদের।

পাবনায় দিনে ৪ থেকে ৫ বার এবং সন্ধ্যার পর থেকে ভোর পর্যন্ত ৩ থেকে ৪ বার বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকছে। শালগাড়িয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় দিনে-রাতে মিলিয়ে ৬ থেকে ৭ বার লোডশেডিংয়ের রেকর্ড রয়েছে। কোনো কোনো সময় এক থেকে দুই ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকে না। পাবনা নেসকোর নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান জানান, পাবনা শহরে বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ৩০ মেগাওয়াট হলেও বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ১৫ থেকে ২৫ মেগাওয়াট। ফলে চাহিদার সাথে সামঞ্জস্য রাখতে বাধ্য হয়েই লোডশেডিং করতে হচ্ছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জেও লোডশেডিংয়ের কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। শিবগঞ্জ উপজেলার বিনোদপুর এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, কোনো কোনো দিন ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মাত্র ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ মিলছে।

নাটোরের চিত্রও ভিন্ন নয়; সিংড়া উপজেলার বাসিন্দাদের দিন-রাত মিলিয়ে ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন থাকতে হচ্ছে।

সিংড়ার দর্জি রবিউল ইসলাম জানান, বিদ্যুৎ না থাকায় সময়মতো কাজের ডেলিভারি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না, ফলে গ্রাহকদের ক্ষোভের মুখে পড়তে হচ্ছে। অন্যদিকে নাটোরের পোল্ট্রি খামারিরা ফ্যান ও কুলিং সিস্টেম সচল রাখতে না পেরে বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছেন।

অনেক এলাকায় ১৬ থেকে ১৮ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকার কারণে গুরুদাসপুরের ব্যবসায়ীরা সন্ধ্যার আগেই দোকানপাট বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছেন।

নাটোর সদরের দিঘাপতিয়া এলাকায় বিদ্যুৎ সংকটের কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাল্টিমিডিয়া ক্লাস কার্যক্রমও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। মোবাইল ফোন ও আইপিএসের ব্যাটারি চার্জ দেওয়ার সুযোগ না থাকায় চরম যোগাযোগ সংকটেও পড়ছেন সাধারণ মানুষ।

বিদ্যুৎ সংকটের কারণ হিসেবে নেসকোর দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বলছেন, জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে লোডশেডিংয়ের শিডিউল বাস্তবায়ন করতে হচ্ছে। সরবরাহ স্বাভাবিক হলে পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি ঘটবে। তবে তীব্র এই দাবদাহের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী লোডশেডিংয়ের কবল থেকে মুক্তি পেতে এবং নিয়মিত ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।

দিনে-রাতে ৮ ঘণ্টার বেশি লোডশেডিং
ক্ষোভে ফুঁসছে রাজশাহী বিভাগের মানুষ
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
১২ আগস্ট ২০২৬