বুধবার , ১২ আগস্ট ২০২৬
হোমরাজশাহীমাদকের ছায়ায় অন্ধকার ভবিষ্যৎ
রাজশাহীর যে বিদ্যালয়ে ১৩ শিক্ষার্থীর সবাই অকৃতকার্য

মাদকের ছায়ায় অন্ধকার ভবিষ্যৎ

favicon
স্টাফ রিপোর্টার :
মাদকের ছায়ায় অন্ধকার ভবিষ্যৎ

এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর দেশজুড়ে যখন পাসের আনন্দ আর সাফল্যের উল্লাস, ঠিক তখনই রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের অধীনস্থ ৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নেমে এসেছে চরম হতাশা। এই বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার আমরাইল উচ্চ বিদ্যালয়। ১৪ জন শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও বিদ্যালয়টির চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১৩ জন শিক্ষার্থীর একজনও পাস করতে পারেনি।

আর এই নজিরবিহীন ফল বিপর্যয়ের পেছনে শিক্ষক সমাজের চরম দায়িত্বহীনতা এবং চাঞ্চল্যকর কিছু তথ্য সামনে এসেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের পাঠদানের পরিবেশ পুরোটাই ধ্বংস হয়ে গেছে শিক্ষকবৃন্দের অনিয়ম ও উদাসীনতার কারণে। এর মধ্যে সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষকসহ কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে মাদকের আসক্তির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রত্যন্ত অঞ্চলে অবস্থিত এই বিদ্যালয়ে নিয়মিত কোনো পাঠদান হয় না। শিক্ষকরা বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকলেও অনেক সময় ক্লাসে না থেকে পাশের বাজারে সময় কাটান। গত বছর এই প্রতিষ্ঠানটি থেকে ২৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২৩ জন পাস করলেও, এক বছরের ব্যবধানে শিক্ষণীয় পরিবেশের এমন অবনতিতে হতবাক অভিভাবক ও স্থানীয়রা।

শিক্ষকদের বিরুদ্ধে মাদক সেবনের অভিযোগের বিষয়ে মোহনপুর উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার আব্দুল মতিন জানান, প্রধান শিক্ষক ও একজন সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে মাদক সেবনের এই অভিযোগের বিষয়টি তাদের দপ্তরে জানা ছিল। তবে আগের সরকারের সময়ে রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে তাদের বিরুদ্ধে কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। প্রশ্ন উঠেছে-অভিযোগ যদি আগে থেকেই প্রশাসনের জানা থাকে, তবে কেন সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়া হলো না? কেনই বা নিয়মিত তদারকির অভাব ঘটল?

ফল বিপর্যয়ের এই ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন।

মোহনপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এস এম মাহমুদল হাসান জানিয়েছেন, আমরাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের এমপিও বাতিলের জন্য দ্রুত প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। অন্যদিকে, মোহনপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ফাহিমা বিনতে আখতার ফল বিপর্যয়ের কারণ ব্যাখ্যা করতে প্রধান শিক্ষককে তলব করেছেন। শিক্ষকদের পাঠদানে অবহেলা বা দায়িত্ব পালনে কোনো গাফিলতির প্রমাণ মিললে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

শিক্ষাবিদদের মতে, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের মাদকমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত না করা গেলে এবং শিক্ষা প্রশাসনের নিয়মিত মনিটরিং না থাকলে এমন বিপর্যয়ই অনিবার্য। কেবল শিক্ষার্থীদের দোষ না দিয়ে শিক্ষক সমাজের এই নৈতিক স্খলন ও প্রশাসনিক তদারকির ঘাটতি খতিয়ে দেখার জোরালো দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

উল্লেখ্য : চলতি বছর মোহনপুর উপজেলায় এসএসসি, দাখিল ও সমমানের পরীক্ষায় মোট ২ হাজার ৪২ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে মোহনপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ৮টি প্রতিষ্ঠানের ৪০৪ জন, মোহনপুর সরকারি বালিলা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ৯টি প্রতিষ্ঠানের ৩৬৭ জন এবং কেশরহাট উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ১৩টি প্রতিষ্ঠানের ৫১৯ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষা দেয়।

‎এ ছাড়া কেশরহাট টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ৩২৭ জন এবং সংকোয়া-বকশাইল কামিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে ১৮টি প্রতিষ্ঠানের ৪২৫ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়।

মাদকের ছায়ায় অন্ধকার ভবিষ্যৎ
রাজশাহীর যে বিদ্যালয়ে ১৩ শিক্ষার্থীর সবাই অকৃতকার্য
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
১২ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উপচার
 বুধবার , ১২ আগস্ট ২০২৬
হোমরাজশাহীমাদকের ছায়ায় অন্ধকার ভবিষ্যৎ
রাজশাহীর যে বিদ্যালয়ে ১৩ শিক্ষার্থীর সবাই অকৃতকার্য

মাদকের ছায়ায় অন্ধকার ভবিষ্যৎ

favicon
স্টাফ রিপোর্টার :
মাদকের ছায়ায় অন্ধকার ভবিষ্যৎ

এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর দেশজুড়ে যখন পাসের আনন্দ আর সাফল্যের উল্লাস, ঠিক তখনই রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের অধীনস্থ ৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নেমে এসেছে চরম হতাশা। এই বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার আমরাইল উচ্চ বিদ্যালয়। ১৪ জন শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও বিদ্যালয়টির চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১৩ জন শিক্ষার্থীর একজনও পাস করতে পারেনি।

আর এই নজিরবিহীন ফল বিপর্যয়ের পেছনে শিক্ষক সমাজের চরম দায়িত্বহীনতা এবং চাঞ্চল্যকর কিছু তথ্য সামনে এসেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের পাঠদানের পরিবেশ পুরোটাই ধ্বংস হয়ে গেছে শিক্ষকবৃন্দের অনিয়ম ও উদাসীনতার কারণে। এর মধ্যে সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষকসহ কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে মাদকের আসক্তির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রত্যন্ত অঞ্চলে অবস্থিত এই বিদ্যালয়ে নিয়মিত কোনো পাঠদান হয় না। শিক্ষকরা বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকলেও অনেক সময় ক্লাসে না থেকে পাশের বাজারে সময় কাটান। গত বছর এই প্রতিষ্ঠানটি থেকে ২৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২৩ জন পাস করলেও, এক বছরের ব্যবধানে শিক্ষণীয় পরিবেশের এমন অবনতিতে হতবাক অভিভাবক ও স্থানীয়রা।

শিক্ষকদের বিরুদ্ধে মাদক সেবনের অভিযোগের বিষয়ে মোহনপুর উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার আব্দুল মতিন জানান, প্রধান শিক্ষক ও একজন সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে মাদক সেবনের এই অভিযোগের বিষয়টি তাদের দপ্তরে জানা ছিল। তবে আগের সরকারের সময়ে রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে তাদের বিরুদ্ধে কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। প্রশ্ন উঠেছে-অভিযোগ যদি আগে থেকেই প্রশাসনের জানা থাকে, তবে কেন সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়া হলো না? কেনই বা নিয়মিত তদারকির অভাব ঘটল?

ফল বিপর্যয়ের এই ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন।

মোহনপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এস এম মাহমুদল হাসান জানিয়েছেন, আমরাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের এমপিও বাতিলের জন্য দ্রুত প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। অন্যদিকে, মোহনপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ফাহিমা বিনতে আখতার ফল বিপর্যয়ের কারণ ব্যাখ্যা করতে প্রধান শিক্ষককে তলব করেছেন। শিক্ষকদের পাঠদানে অবহেলা বা দায়িত্ব পালনে কোনো গাফিলতির প্রমাণ মিললে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

শিক্ষাবিদদের মতে, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের মাদকমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত না করা গেলে এবং শিক্ষা প্রশাসনের নিয়মিত মনিটরিং না থাকলে এমন বিপর্যয়ই অনিবার্য। কেবল শিক্ষার্থীদের দোষ না দিয়ে শিক্ষক সমাজের এই নৈতিক স্খলন ও প্রশাসনিক তদারকির ঘাটতি খতিয়ে দেখার জোরালো দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

উল্লেখ্য : চলতি বছর মোহনপুর উপজেলায় এসএসসি, দাখিল ও সমমানের পরীক্ষায় মোট ২ হাজার ৪২ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে মোহনপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ৮টি প্রতিষ্ঠানের ৪০৪ জন, মোহনপুর সরকারি বালিলা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ৯টি প্রতিষ্ঠানের ৩৬৭ জন এবং কেশরহাট উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ১৩টি প্রতিষ্ঠানের ৫১৯ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষা দেয়।

‎এ ছাড়া কেশরহাট টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ৩২৭ জন এবং সংকোয়া-বকশাইল কামিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে ১৮টি প্রতিষ্ঠানের ৪২৫ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়।

মাদকের ছায়ায় অন্ধকার ভবিষ্যৎ
রাজশাহীর যে বিদ্যালয়ে ১৩ শিক্ষার্থীর সবাই অকৃতকার্য
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
১২ আগস্ট ২০২৬