গণভোটে হ্যাঁ-না প্রচারণায় থাকছেন না সরকারি কর্মকর্তারা
নির্বাচন কমিশনের স্পষ্ট বিধিনিষেধের কারণে আসন্ন গণভোটে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আর ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোটের পক্ষে কোনো ধরনের প্রচারণায় অংশ নেবেন না বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এহছানুল হক। তিনি বলেন, সরকারি প্রশাসন নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রেখে শুধু ভোটারদের গণভোটে অংশগ্রহণে উৎসাহিত করবে।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সকালে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে আয়োজিত গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণ বিষয়ক এক মতবিনিময় সভায় রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করতে গিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
সিনিয়র সচিব এহছানুল হক বলেন, অতীতে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে গণভোটে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভূমিকা নিয়ে এ ধরনের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা না থাকায় তারা ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণায় যুক্ত ছিলেন। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে নির্বাচন কমিশন স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কোনোভাবেই গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’—কোনো পক্ষের হয়ে প্রচারণা চালাতে পারবেন না। ফলে প্রশাসনকে এখন পুরোপুরি নিরপেক্ষ থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, প্রশাসনের মূল দায়িত্ব হবে জনগণকে গণভোট সম্পর্কে অবহিত করা এবং ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগে উৎসাহিত করা। তবে কোনো নির্দিষ্ট মত বা পক্ষের পক্ষে অবস্থান নিয়ে প্রচারণা চালানো হবে না। এতে গণভোটের স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা আরও বাড়বে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সভায় গণভোটকে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসনের করণীয়, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং ভোটার উপস্থিতি বাড়ানোর কৌশল নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। রাজশাহী বিভাগের জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সভায় উপস্থিত ছিলেন।
প্রশাসনের নিরপেক্ষ ভূমিকা নিশ্চিত করার এই ঘোষণা গণভোটকে ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা মেনে সরকারি কর্মকর্তাদের এ অবস্থান গণভোটের বিশ্বাসযোগ্যতা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।