আত্মমর্যাদার বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান তারেক রহমানের
প্রত্যেক মানুষ যেন আত্মমর্যাদা নিয়ে বাঁচতে পারে-এমন একটি মানবিক ও মর্যাদাভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষসহ সমাজের সব স্তরের নাগরিককে সম্মান ও সুযোগের আওতায় আনতে পারলেই একটি শক্তিশালী ও সম্ভাবনাময় রাষ্ট্র গড়ে তোলা সম্ভব।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) দুপুরে বগুড়া শহরের একটি হোটেলে সিএসএফ গ্লোবালের আয়োজনে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু-কিশোরদের মাঝে হুইলচেয়ার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তারেক রহমান। অনুষ্ঠানটির উদ্যোক্তা ছিলেন তাঁর সহধর্মিণী ডা. জোবাইদা রহমান। বিএনপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজের মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচারিত এই কার্যক্রমে দেশব্যাপী বিপুলসংখ্যক মানুষ যুক্ত হন।
তারেক রহমান বলেন, একটি রাষ্ট্রের প্রকৃত উন্নয়ন তখনই সম্ভব, যখন সে রাষ্ট্র তার দুর্বল ও অবহেলিত জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়াতে পারে। তিনি বলেন, ‘আমরা যদি সবাই মিলে এমন একটি বাংলাদেশ গড়ার চেষ্টা করি, যেখানে প্রত্যেকটি মানুষের মর্যাদা থাকবে এবং সবাই আত্মমর্যাদা নিয়ে বেঁচে থাকার সুযোগ পাবে, তাহলেই আমাদের রাষ্ট্র সত্যিকার অর্থে এগিয়ে যাবে।’
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সমাজে তাদের অনেকের মধ্যেই এমন প্রতিভা ও সক্ষমতা রয়েছে, যা সাধারণ অনেক মানুষের মধ্যেও দেখা যায় না। যথাযথ সহায়তা, সম্মান ও সুযোগ পেলে তারাই ভবিষ্যতে দেশ ও সমাজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবে। সামাজিক, রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় সব পর্যায় থেকে এই জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ডা. জোবাইদা রহমান বলেন, আগামীর বাংলাদেশ হবে মানবিক মূল্যবোধ, সহানুভূতি ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের বাংলাদেশ। তিনি বলেন, দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও মানবিক সমাজ গঠনে বিএনপি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষদের জন্য টেকসই পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ১০ জন শিশু-কিশোরের মাঝে হুইলচেয়ার বিতরণ করা হয়। আয়োজকরা জানান, এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। অনুষ্ঠানটি জাতীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে এবং মানবিক রাজনীতির বার্তা নতুন করে সামনে এনেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।