শুক্রবার , ১৫ মে ২০২৬
হোমআজকের শীর্ষ সংবাদ২২ বছর পর রাজশাহীতে তারেক রহমান
উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের অপেক্ষা

২২ বছর পর রাজশাহীতে তারেক রহমান

favicon
উপচার ডেস্ক :-
২২ বছর পর রাজশাহীতে তারেক রহমান
বৃহস্পতিবার রাজশাহীতে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের জনসভা উপলক্ষে মঞ্চ প্রস্তুত করা হয়েছে। ছবিটি বুধবার ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দানের।

দীর্ঘ ২২ বছর পর বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের রাজশাহী আগমনকে ঘিরে নগরজুড়ে তৈরি হয়েছে ভিন্নমাত্রার রাজনৈতিক উত্তাপ। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে অনুষ্ঠেয় জনসভাকে কেন্দ্র করে রাজশাহী মহানগরসহ পুরো বিভাগে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে দেখা যাচ্ছে ব্যস্ত প্রস্তুতি, প্রত্যাশা আর আবেগের প্রকাশ। ব্যানার–ফেস্টুন, মাইকিং, গণসংযোগ ও সাংগঠনিক তৎপরতায় রাজশাহীর রাজনীতি যেন নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছে।

এই জনসভাকে সামনে রেখে বুধবার দুপুরে মাদ্রাসা মাঠে সংবাদ সম্মেলন করে বিএনপি। এতে রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ শাহীন শওকত বলেন, তারেক রহমানের রাজশাহী আগমন উপলক্ষে বিভাগের চার জেলাতেই প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে এবং নেতাকর্মীরা নিজ নিজ এলাকায় জনসভায় মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন দেশের বাইরে থাকার পর তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন বিএনপির ভেতরে নতুন চেতনা ও আত্মবিশ্বাস তৈরি করেছে। বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর দল ও জনগণের মধ্যে যে শোক ও ভারাক্রান্ত অবস্থা ছিল, তারেক রহমানের সক্রিয় নেতৃত্বে তা নতুন প্রত্যয় ও আন্দোলনের শক্তিতে রূপ নিয়েছে। তাঁর ভাষায়, রাজশাহীর এই জনসভা উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে তারেক রহমানের নেতৃত্বে জবাবদিহিমূলক সংসদ ও নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হবে। উত্তরবঙ্গের সন্তান হিসেবে তারেক রহমানের প্রতি এই অঞ্চলের মানুষের আলাদা আবেগ ও ভালোবাসা রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি জানান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক ফাইনাল পরীক্ষা থাকায় পরীক্ষার্থীরা যেন নির্বিঘ্নে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছাতে পারেন, সে জন্য দলের নেতা–কর্মীদের সহযোগিতার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুন–অর–রশিদ ও সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান (রিটন) জানান, জনসভাটি শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে মহানগরের প্রতিটি ইউনিটকে দায়িত্ব বণ্টন করে দেওয়া হয়েছে। তারা বলেন, এই জনসভা শুধু রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শন নয়, বরং রাজশাহীর রাজনীতিতে দায়িত্বশীল ও গণমুখী বার্তা পৌঁছে দেওয়ার একটি সুযোগ।

রাজশাহী–২ আসনে বিএনপির প্রার্থী মিজানুর রহমান (মিনু) বলেন, আগামীকালের জনসভা মাদ্রাসা মাঠে সীমাবদ্ধ থাকবে না, এটি পুরো রাজশাহী মহানগরজুড়ে জনসমুদ্রে রূপ নেবে। তাঁর মতে, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে চলা স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনের পর দেশ এখন পরিবর্তনের পথে, আর জনগণ সেই পরিবর্তনের নেতৃত্ব হিসেবে তারেক রহমানের দিকেই তাকিয়ে আছে। জনসভায় তিনি ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক রূপরেখা তুলে ধরবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন।

নেতাকর্মীদের আলোচনায় বিশেষভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে তারেক রহমান ঘোষিত বিভিন্ন পরিকল্পনা। মায়েদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড, বয়স্কদের জন্য হেলথ কার্ড এবং কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড—এসব উদ্যোগ মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। শহীদ জিয়ার বরেন্দ্র প্রকল্পের মাধ্যমে উত্তরবঙ্গকে সবুজ করার ইতিহাস টেনে নেতাকর্মীরা বলছেন, তারেক রহমান আইটি প্রজেক্টের মাধ্যমে তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে চান। রাজশাহীকে ভারতের হায়দরাবাদ বা ইউরোপের স্টকহোমের মতো একটি আধুনিক আইটি সিটিতে রূপান্তরের স্বপ্ন তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বাড়তি আগ্রহ তৈরি করেছে। পাশাপাশি চারটি স্পেশালাইজড ইপিজেড স্থাপন ও হারানো রেশমশিল্প পুনরুজ্জীবনের পরিকল্পনাও আলোচনায় রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, জনসভায় রাজশাহীর ১৩টি সংসদীয় আসনসহ উত্তরবঙ্গের মোট ৩৯টি আসনের বিএনপি প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হবে। নিরাপত্তাজনিত কারণে তারেক রহমানের যাতায়াতের রুট প্রকাশ করা না হলেও দুপুর ১২টা থেকে সাড়ে ১২টার মধ্যে তাঁর জনসভায় উপস্থিত থাকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে।

সব মিলিয়ে রাজশাহীর বিএনপি নেতাকর্মীদের কাছে এই জনসভা কেবল একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, বরং দীর্ঘ অপেক্ষার পর নেতৃত্বকে সামনে থেকে দেখার ও শোনার এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। মাঠপর্যায়ের কর্মী থেকে শুরু করে মহানগর ও বিভাগীয় নেতৃত্ব—সবার দৃষ্টি এখন মাদ্রাসা মাঠের দিকে, যেখানে উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন বার্তা ও নতুন দিকনির্দেশনার প্রত্যাশা করছে বিএনপি।

২২ বছর পর রাজশাহীতে তারেক রহমান
উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের অপেক্ষা
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
২৮ জানুয়ারি ২০২৬
দৈনিক উপচার
 শুক্রবার , ১৫ মে ২০২৬
হোমআজকের শীর্ষ সংবাদ২২ বছর পর রাজশাহীতে তারেক রহমান
উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের অপেক্ষা

২২ বছর পর রাজশাহীতে তারেক রহমান

favicon
উপচার ডেস্ক :-
২২ বছর পর রাজশাহীতে তারেক রহমান
বৃহস্পতিবার রাজশাহীতে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের জনসভা উপলক্ষে মঞ্চ প্রস্তুত করা হয়েছে। ছবিটি বুধবার ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দানের।

দীর্ঘ ২২ বছর পর বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের রাজশাহী আগমনকে ঘিরে নগরজুড়ে তৈরি হয়েছে ভিন্নমাত্রার রাজনৈতিক উত্তাপ। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে অনুষ্ঠেয় জনসভাকে কেন্দ্র করে রাজশাহী মহানগরসহ পুরো বিভাগে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে দেখা যাচ্ছে ব্যস্ত প্রস্তুতি, প্রত্যাশা আর আবেগের প্রকাশ। ব্যানার–ফেস্টুন, মাইকিং, গণসংযোগ ও সাংগঠনিক তৎপরতায় রাজশাহীর রাজনীতি যেন নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছে।

এই জনসভাকে সামনে রেখে বুধবার দুপুরে মাদ্রাসা মাঠে সংবাদ সম্মেলন করে বিএনপি। এতে রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ শাহীন শওকত বলেন, তারেক রহমানের রাজশাহী আগমন উপলক্ষে বিভাগের চার জেলাতেই প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে এবং নেতাকর্মীরা নিজ নিজ এলাকায় জনসভায় মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন দেশের বাইরে থাকার পর তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন বিএনপির ভেতরে নতুন চেতনা ও আত্মবিশ্বাস তৈরি করেছে। বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর দল ও জনগণের মধ্যে যে শোক ও ভারাক্রান্ত অবস্থা ছিল, তারেক রহমানের সক্রিয় নেতৃত্বে তা নতুন প্রত্যয় ও আন্দোলনের শক্তিতে রূপ নিয়েছে। তাঁর ভাষায়, রাজশাহীর এই জনসভা উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে তারেক রহমানের নেতৃত্বে জবাবদিহিমূলক সংসদ ও নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হবে। উত্তরবঙ্গের সন্তান হিসেবে তারেক রহমানের প্রতি এই অঞ্চলের মানুষের আলাদা আবেগ ও ভালোবাসা রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি জানান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক ফাইনাল পরীক্ষা থাকায় পরীক্ষার্থীরা যেন নির্বিঘ্নে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছাতে পারেন, সে জন্য দলের নেতা–কর্মীদের সহযোগিতার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুন–অর–রশিদ ও সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান (রিটন) জানান, জনসভাটি শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে মহানগরের প্রতিটি ইউনিটকে দায়িত্ব বণ্টন করে দেওয়া হয়েছে। তারা বলেন, এই জনসভা শুধু রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শন নয়, বরং রাজশাহীর রাজনীতিতে দায়িত্বশীল ও গণমুখী বার্তা পৌঁছে দেওয়ার একটি সুযোগ।

রাজশাহী–২ আসনে বিএনপির প্রার্থী মিজানুর রহমান (মিনু) বলেন, আগামীকালের জনসভা মাদ্রাসা মাঠে সীমাবদ্ধ থাকবে না, এটি পুরো রাজশাহী মহানগরজুড়ে জনসমুদ্রে রূপ নেবে। তাঁর মতে, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে চলা স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনের পর দেশ এখন পরিবর্তনের পথে, আর জনগণ সেই পরিবর্তনের নেতৃত্ব হিসেবে তারেক রহমানের দিকেই তাকিয়ে আছে। জনসভায় তিনি ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক রূপরেখা তুলে ধরবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন।

নেতাকর্মীদের আলোচনায় বিশেষভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে তারেক রহমান ঘোষিত বিভিন্ন পরিকল্পনা। মায়েদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড, বয়স্কদের জন্য হেলথ কার্ড এবং কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড—এসব উদ্যোগ মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। শহীদ জিয়ার বরেন্দ্র প্রকল্পের মাধ্যমে উত্তরবঙ্গকে সবুজ করার ইতিহাস টেনে নেতাকর্মীরা বলছেন, তারেক রহমান আইটি প্রজেক্টের মাধ্যমে তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে চান। রাজশাহীকে ভারতের হায়দরাবাদ বা ইউরোপের স্টকহোমের মতো একটি আধুনিক আইটি সিটিতে রূপান্তরের স্বপ্ন তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বাড়তি আগ্রহ তৈরি করেছে। পাশাপাশি চারটি স্পেশালাইজড ইপিজেড স্থাপন ও হারানো রেশমশিল্প পুনরুজ্জীবনের পরিকল্পনাও আলোচনায় রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, জনসভায় রাজশাহীর ১৩টি সংসদীয় আসনসহ উত্তরবঙ্গের মোট ৩৯টি আসনের বিএনপি প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হবে। নিরাপত্তাজনিত কারণে তারেক রহমানের যাতায়াতের রুট প্রকাশ করা না হলেও দুপুর ১২টা থেকে সাড়ে ১২টার মধ্যে তাঁর জনসভায় উপস্থিত থাকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে।

সব মিলিয়ে রাজশাহীর বিএনপি নেতাকর্মীদের কাছে এই জনসভা কেবল একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, বরং দীর্ঘ অপেক্ষার পর নেতৃত্বকে সামনে থেকে দেখার ও শোনার এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। মাঠপর্যায়ের কর্মী থেকে শুরু করে মহানগর ও বিভাগীয় নেতৃত্ব—সবার দৃষ্টি এখন মাদ্রাসা মাঠের দিকে, যেখানে উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন বার্তা ও নতুন দিকনির্দেশনার প্রত্যাশা করছে বিএনপি।

২২ বছর পর রাজশাহীতে তারেক রহমান
উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের অপেক্ষা
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
২৮ জানুয়ারি ২০২৬