শনিবার , ১৬ মে ২০২৬
হোমআজকের শীর্ষ সংবাদফেলের রায় থেকে যৌন হয়রানির অভিযোগ

ফেলের রায় থেকে যৌন হয়রানির অভিযোগ

বিপরীতে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন
favicon
মো: নুরে ইসলাম মিলন:-
ফেলের রায় থেকে যৌন হয়রানির অভিযোগ

প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে পরীক্ষা নাকি প্রতিহিংসার দ্বন্দ্ব?

নিজস্ব প্রতিবেদক | রাজশাহী

চারবার চেষ্টা করেও পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে না পারার ঘটনা কীভাবে যৌন হয়রানির অভিযোগে রূপ নিল-এমন প্রশ্ন ঘিরে রাজশাহীতে আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে একটি বেসরকারি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান। বিউটিফিকেশন লেভেল-৩ কোর্সে ফেল করা এক প্রশিক্ষণার্থীর স্বামীর আনা গুরুতর অভিযোগের বিপরীতে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করে অভিযোগগুলোকে মিথ্যা, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও প্রতিহিংসামূলক বলে দাবি করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে নগরীর একটি রেস্তোরাঁয় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জীবনতরী সমাজকল্যাণ সংস্থার পরিচালক মারুফ হোসেনের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংস্থার প্রশিক্ষক তৌহিদুল ইসলাম। সেখানে বলা হয়, সোনিয়া জামান নামের এক প্রশিক্ষণার্থী পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার পর তার স্বামী আরিফুল ইসলাম পরিকল্পিতভাবে সংস্থার বিরুদ্ধে অপপ্রচার শুরু করেন এবং একের পর এক দপ্তরে মিথ্যা অভিযোগ দাখিল করেন।

সংস্থার তথ্যমতে, গত বছরের মে মাসে সোনিয়া জামান জীবনতরী সমাজকল্যাণ সংস্থায় বিউটিফিকেশন লেভেল-৩ কোর্সে ভর্তি হন। তিন দিনের প্রশিক্ষণ শেষে ১৭ মে তার ব্যবহারিক পরীক্ষা নেওয়া হয়। পরীক্ষায় নাক ও কান ফুটানোর (পিয়ার সিং) কাজ করতে হয়, যেখানে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অ্যাসেসর আঞ্জুমান আরা ও শিক্ষা বোর্ডের প্রতিনিধি অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজমেন্ট বিপ্লব কুমার বিশ্বাস উপস্থিত ছিলেন। সেন্টার ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মারুফ হোসেন।

মারুফ হোসেন সংবাদ সম্মেলনে বলেন, পরীক্ষার দিন সবার সামনে সোনিয়া জামানকে চারবার সুযোগ দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি পিয়ার সিং মেশিন ব্যবহার করে নাক-কান ফুটাতে ব্যর্থ হন। নিয়ম অনুযায়ী তিনি পরীক্ষায় ফেল করেন। এরপর বিভিন্ন সময় সোনিয়া তাকে অনুরোধ করেন পাস করিয়ে দেওয়ার জন্য, কিন্তু তিনি নির্ধারিত ৭২ ঘণ্টার মধ্যে অনলাইনে আপিল করেননি। ফলে পুনরায় পরীক্ষার সুযোগও পাননি।

মারুফের দাবি, প্রায় সাত মাস পর হঠাৎ করে সোনিয়া জামান ও তার স্বামী বিভিন্ন জায়গায় সংস্থার বিরুদ্ধে বদনাম ছড়াতে শুরু করেন। বিষয়টি জানতে পেরে তিনি ফোনে সতর্ক করলে ওই রাতেই আরিফুল ইসলাম তাকে হুমকি দেন। এরপরই পুলিশ কমিশনার, সমাজসেবা অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়।

গত ১৬ নভেম্বর আরিফুল ইসলাম রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার বরাবর অভিযোগে দাবি করেন, প্রকাশ্যে প্রশিক্ষণার্থীদের সামনে মারুফ হোসেন তার স্ত্রীকে কুপ্রস্তাব দেন এবং সেই প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় ইচ্ছাকৃতভাবে ফেল করানো হয়। একই অভিযোগ জেলা প্রশাসকের কাছেও দেওয়া হলে সমাজসেবা অধিদপ্তরের তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। সম্প্রতি দাখিল করা তদন্ত প্রতিবেদনে সংস্থার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

মারুফ হোসেন আরও দাবি করেন, অভিযোগকারী আরিফুল ইসলাম রাজশাহীতে ‘নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)’ সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত এবং নিজেকে সামাজিক সংগঠক পরিচয় দিয়ে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তদন্ত প্রতিবেদন পরিবর্তনের চেষ্টাও চলছে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। এ ক্ষেত্রে সীমা খাতুন নামের এক নারীর মাধ্যমে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সংস্থার সাবেক প্রশিক্ষক সোনিয়া মাহমুদা বন্নি বলেন, আরিফুল ইসলাম বিভিন্ন জায়গায় বলে বেড়ান যে মারুফ হোসেন তাকে যৌন হয়রানি করেছেন, যার কারণে তিনি সংস্থায় চাকরি পাননি। এমনকি এ ধরনের অভিযোগ লিখে তাকে মেসেঞ্জারেও পাঠানো হয়েছে। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এসব অভিযোগ সত্য নয় এবং তিনি পারিবারিক কারণেই চাকরি করতে পারেননি।

সোনিয়া জামানের সঙ্গে একই ব্যাচে প্রশিক্ষণ নেওয়া আরও ১২ জন প্রশিক্ষণার্থীর কয়েকজনও সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন। তারা জানান, পরীক্ষার দিন সবার সামনেই চারবার সুযোগ দেওয়া হলেও সোনিয়া জামান পিয়ার সিং করতে পারেননি। তাদের মতে, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাকে ফেল করানো হয়নি।

এ বিষয়ে অভিযোগকারী আরিফুল ইসলামের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না। বিষয়টি আদালতে নিয়ে গেছি। আমার যা বলার বা প্রমাণ দেওয়ার, তা কোর্টেই দেব।”

পরীক্ষায় ফেল থেকে শুরু হয়ে যৌন হয়রানির অভিযোগ, তদন্ত প্রতিবেদন, পাল্টাপাল্টি হুমকি—সব মিলিয়ে ঘটনাটি এখন কেবল একটি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ বিরোধ নয়; বরং অভিযোগের বিশ্বাসযোগ্যতা, তদন্তের নিরপেক্ষতা এবং সামাজিক প্রভাব খাটানোর বাস্তব চিত্র নিয়ে একটি জটিল প্রশ্নের মুখে দাঁড়িয়ে আছে।

ফেলের রায় থেকে যৌন হয়রানির অভিযোগ
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
২৭ জানুয়ারি ২০২৬
দৈনিক উপচার
 শনিবার , ১৬ মে ২০২৬
হোমআজকের শীর্ষ সংবাদফেলের রায় থেকে যৌন হয়রানির অভিযোগ

ফেলের রায় থেকে যৌন হয়রানির অভিযোগ

বিপরীতে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন
favicon
মো: নুরে ইসলাম মিলন:-
ফেলের রায় থেকে যৌন হয়রানির অভিযোগ

প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে পরীক্ষা নাকি প্রতিহিংসার দ্বন্দ্ব?

নিজস্ব প্রতিবেদক | রাজশাহী

চারবার চেষ্টা করেও পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে না পারার ঘটনা কীভাবে যৌন হয়রানির অভিযোগে রূপ নিল-এমন প্রশ্ন ঘিরে রাজশাহীতে আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে একটি বেসরকারি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান। বিউটিফিকেশন লেভেল-৩ কোর্সে ফেল করা এক প্রশিক্ষণার্থীর স্বামীর আনা গুরুতর অভিযোগের বিপরীতে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করে অভিযোগগুলোকে মিথ্যা, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও প্রতিহিংসামূলক বলে দাবি করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে নগরীর একটি রেস্তোরাঁয় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জীবনতরী সমাজকল্যাণ সংস্থার পরিচালক মারুফ হোসেনের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংস্থার প্রশিক্ষক তৌহিদুল ইসলাম। সেখানে বলা হয়, সোনিয়া জামান নামের এক প্রশিক্ষণার্থী পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার পর তার স্বামী আরিফুল ইসলাম পরিকল্পিতভাবে সংস্থার বিরুদ্ধে অপপ্রচার শুরু করেন এবং একের পর এক দপ্তরে মিথ্যা অভিযোগ দাখিল করেন।

সংস্থার তথ্যমতে, গত বছরের মে মাসে সোনিয়া জামান জীবনতরী সমাজকল্যাণ সংস্থায় বিউটিফিকেশন লেভেল-৩ কোর্সে ভর্তি হন। তিন দিনের প্রশিক্ষণ শেষে ১৭ মে তার ব্যবহারিক পরীক্ষা নেওয়া হয়। পরীক্ষায় নাক ও কান ফুটানোর (পিয়ার সিং) কাজ করতে হয়, যেখানে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অ্যাসেসর আঞ্জুমান আরা ও শিক্ষা বোর্ডের প্রতিনিধি অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজমেন্ট বিপ্লব কুমার বিশ্বাস উপস্থিত ছিলেন। সেন্টার ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মারুফ হোসেন।

মারুফ হোসেন সংবাদ সম্মেলনে বলেন, পরীক্ষার দিন সবার সামনে সোনিয়া জামানকে চারবার সুযোগ দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি পিয়ার সিং মেশিন ব্যবহার করে নাক-কান ফুটাতে ব্যর্থ হন। নিয়ম অনুযায়ী তিনি পরীক্ষায় ফেল করেন। এরপর বিভিন্ন সময় সোনিয়া তাকে অনুরোধ করেন পাস করিয়ে দেওয়ার জন্য, কিন্তু তিনি নির্ধারিত ৭২ ঘণ্টার মধ্যে অনলাইনে আপিল করেননি। ফলে পুনরায় পরীক্ষার সুযোগও পাননি।

মারুফের দাবি, প্রায় সাত মাস পর হঠাৎ করে সোনিয়া জামান ও তার স্বামী বিভিন্ন জায়গায় সংস্থার বিরুদ্ধে বদনাম ছড়াতে শুরু করেন। বিষয়টি জানতে পেরে তিনি ফোনে সতর্ক করলে ওই রাতেই আরিফুল ইসলাম তাকে হুমকি দেন। এরপরই পুলিশ কমিশনার, সমাজসেবা অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়।

গত ১৬ নভেম্বর আরিফুল ইসলাম রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার বরাবর অভিযোগে দাবি করেন, প্রকাশ্যে প্রশিক্ষণার্থীদের সামনে মারুফ হোসেন তার স্ত্রীকে কুপ্রস্তাব দেন এবং সেই প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় ইচ্ছাকৃতভাবে ফেল করানো হয়। একই অভিযোগ জেলা প্রশাসকের কাছেও দেওয়া হলে সমাজসেবা অধিদপ্তরের তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। সম্প্রতি দাখিল করা তদন্ত প্রতিবেদনে সংস্থার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

মারুফ হোসেন আরও দাবি করেন, অভিযোগকারী আরিফুল ইসলাম রাজশাহীতে ‘নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)’ সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত এবং নিজেকে সামাজিক সংগঠক পরিচয় দিয়ে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তদন্ত প্রতিবেদন পরিবর্তনের চেষ্টাও চলছে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। এ ক্ষেত্রে সীমা খাতুন নামের এক নারীর মাধ্যমে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সংস্থার সাবেক প্রশিক্ষক সোনিয়া মাহমুদা বন্নি বলেন, আরিফুল ইসলাম বিভিন্ন জায়গায় বলে বেড়ান যে মারুফ হোসেন তাকে যৌন হয়রানি করেছেন, যার কারণে তিনি সংস্থায় চাকরি পাননি। এমনকি এ ধরনের অভিযোগ লিখে তাকে মেসেঞ্জারেও পাঠানো হয়েছে। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এসব অভিযোগ সত্য নয় এবং তিনি পারিবারিক কারণেই চাকরি করতে পারেননি।

সোনিয়া জামানের সঙ্গে একই ব্যাচে প্রশিক্ষণ নেওয়া আরও ১২ জন প্রশিক্ষণার্থীর কয়েকজনও সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন। তারা জানান, পরীক্ষার দিন সবার সামনেই চারবার সুযোগ দেওয়া হলেও সোনিয়া জামান পিয়ার সিং করতে পারেননি। তাদের মতে, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাকে ফেল করানো হয়নি।

এ বিষয়ে অভিযোগকারী আরিফুল ইসলামের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না। বিষয়টি আদালতে নিয়ে গেছি। আমার যা বলার বা প্রমাণ দেওয়ার, তা কোর্টেই দেব।”

পরীক্ষায় ফেল থেকে শুরু হয়ে যৌন হয়রানির অভিযোগ, তদন্ত প্রতিবেদন, পাল্টাপাল্টি হুমকি—সব মিলিয়ে ঘটনাটি এখন কেবল একটি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ বিরোধ নয়; বরং অভিযোগের বিশ্বাসযোগ্যতা, তদন্তের নিরপেক্ষতা এবং সামাজিক প্রভাব খাটানোর বাস্তব চিত্র নিয়ে একটি জটিল প্রশ্নের মুখে দাঁড়িয়ে আছে।

ফেলের রায় থেকে যৌন হয়রানির অভিযোগ
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
২৭ জানুয়ারি ২০২৬