নিষিদ্ধ প্লাস্টিক ঝুলিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ (শিবগঞ্জ) আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ড. মাওলানা কেরামত আলী পরিবেশ দূষণের বিষয় উপেক্ষা করে নিষিদ্ধ অপচনশীল প্লাস্টিকের প্রতীক ব্যবহার করে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন। উপজেলার একাধিক স্থানে প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের ব্যবহার স্পষ্টভাবে দেখা গেছে।
গতকাল সোমবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শিবগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন সড়ক-মোড়, বাজার এলাকা এবং ফুটপাত জুড়ে ঝুলছে প্লাস্টিকের দাঁড়িপাল্লা প্রতীক। স্থানীয়রা বলছেন, এসব প্রতীক পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি। সংশ্লিষ্ট এলাকার নাগরিকরা মনে করছেন, প্রকাশ্যে এসব প্রতীক ঝুলিয়ে রাখা পরিবেশ সুরক্ষা ও নির্বাচনী আচরণবিধি-২০২৫-এর সরাসরি লঙ্ঘন।
পরিবেশ ও নির্বাচনী আচরণবিধি-২০২৫ অনুযায়ী, পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে নির্বাচনী প্রচারণায় প্লাস্টিকজাত সামগ্রী ব্যবহার সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ। তবুও বাস্তবে এই নির্দেশনার তোয়াক্কা না করে জামায়াত প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, প্লাস্টিক পরিবেশের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এটি মাটির সঙ্গে মিশে না, দীর্ঘদিন পড়ে থেকে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করে এবং পোড়ালে মারাত্মক বায়ুদূষণ ঘটে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় নির্বাচনী প্রচারণায় প্লাস্টিক ব্যবহার সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রাখা জরুরি। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা যথাযথভাবে পালন করা হলে এবং প্রার্থীরা পরিবেশ বিষয়ে সচেতন হলে এই ধরনের কর্মকাণ্ডের সুযোগ থাকা উচিত নয়।
শিবগঞ্জ উপজেলার বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও সমাজসেবক অধ্যাপক কামাল উদ্দিন বলেন, “প্লাস্টিকের ব্যবহার নিষিদ্ধ করার মূল উদ্দেশ্য ছিল পরিবেশ রক্ষা। কিন্তু রাজনৈতিক সদিচ্ছা না থাকলে কেবল নির্দেশনা দিয়ে পরিবেশ রক্ষা সম্ভব নয়। কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা না থাকলে এই ধরনের অনিয়ম বন্ধ হবে না।
স্থানীয় বাসিন্দা একরামুল হক বলেন, “নির্বাচনের সময় পাড়া-মহল্লাগুলো ফেস্টুন, ব্যানার এবং প্লাস্টিকের প্রতীকে ভরে যায়। ভোট শেষ হলে এগুলো আর কেউ পরিষ্কার করে না। শেষ পর্যন্ত এর ভোগান্তি সাধারণ মানুষকে পোহাতে হয়।” শাহবাজপুর এলাকার বাসিন্দা কাইয়ুম আলী যোগ করেন, “প্রার্থীরাই যদি পরিবেশের ব্যাপারে সচেতন না হন, তাহলে ক্ষমতায় গেলে আইন মানবেন-এমন আস্থা তৈরি হয় না। যারা শুরুতেই নিয়ম ভাঙছেন, তারা ক্ষমতায় গেলে আরও বেশি অমার্জনীয় অনিয়ম করবে।
নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে জানতে চাইলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ (শিবগঞ্জ) আসনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশিক আহমেদ বলেন, “প্রচারণা প্রতীকে প্লাস্টিক ব্যবহারের বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তা জুডিশিয়াল তদন্ত টিমের কাছে পাঠানো হবে। তদন্ত সাপেক্ষে নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।