শুক্রবার , ১৫ মে ২০২৬
হোমআজকের শীর্ষ সংবাদএক লাখের বেশি পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যকে ভোট কেন্দ্রের নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ
থাকবে পুলিশ জনপদে, ভোট দিব নিরাপদে

এক লাখের বেশি পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যকে ভোট কেন্দ্রের নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ

favicon
উপচার ডেস্ক :-
এক লাখের বেশি পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যকে ভোট কেন্দ্রের নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের পর পুলিশ বাহিনীতে নানা বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। অনেক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হয়। আবার অনেকেই দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান। কাউকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়।

অন্তর্বর্তী সরকার পুলিশে শৃঙ্খলা ফেরাতে নানামুখী পদক্ষেপ নেয়। এমনকি আগামী নির্বাচন যাতে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হয় সেজন্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কীভাবে পুলিশ দায়িত্ব পালন করবে তা নিয়ে পুলিশ বাহিনীর প্রায় দেড় লাখ কর্মকর্তা ও সদস্যকে নির্বাচনী নিরাপত্তা, আচরণবিধি ও নির্বাচন কমিশনের গাইডলাইন অনুযায়ী প্রশিক্ষণ দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে প্রশিক্ষণ দেয়া শুরু হয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে এই প্রশিক্ষণ শেষ হবে।

প্রশিক্ষণের প্রতিপাদ্য হলো- থাকবে পুলিশ জনপদে, ভোট দিব নিরাপদে। এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সারাদেশের ভোট কেন্দ্রের নিরাপত্তায় এই প্রথমবারের মতো পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যদেরকে প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে।

ইতোমধ্যে ১ লাখ ১৬ হাজারেরও বেশি পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যকে নির্বাচনী প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। টার্গেট দেড় লাখ পুলিশকে প্রশিক্ষণ দেয়া। আগামী ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত এই প্রশিক্ষণ চলবে বলে পুলিশ সদর দপ্তর ও ট্রেনিং সেন্টারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে।

প্রশিক্ষণের গাইডলাইন থেকে জানা গেছে, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পুলিশের ভূমিকা ও আন্তঃসংস্থা বা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে নির্বাচনের নিরাপত্তা ছক চূড়ান্ত করা হবে। নির্বাচনের আগে এলাকাভিত্তিক গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ, প্রয়োগ, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় পুলিশের ভূমিকা কেমন হবে তাও প্রশিক্ষণে শেখানো হচ্ছে। গোয়েন্দা তথ্য: গোপন বা সরাসরিভাবে সংগৃহীত তথ্যকে যথাযথভাবে বিশ্লেষণ ও মূল্যায়নের মাধ্যমে নির্দিষ্ট কোনো উদ্দেশ্য যেমন- নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা বা রাষ্ট্রীয় স্বার্থরক্ষা। এসব বিষয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য ব্যবহারযোগ্য করে তোলা।

নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে কোনো প্রার্থী যদি নির্দিষ্ট এলাকায় গিয়ে একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সঙ্গে বৈঠক করে। যাদের কার্যক্রম নির্বাচনী পরিবেশে ব্যাঘাত সৃষ্টি করার সম্ভবনা রাখে। এই তথ্য গোয়েন্দা তথ্য হিসেবে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা যেতে পারে।

রাজনৈতিক কার্যক্রম, দলীয় সমাবেশ, প্রচারণা এবং সম্ভাব্য সহিংসতার ঝুঁকি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উস্কানিমূলক পোস্ট, গুজব ছড়ানো, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা বা ভোট কেন্দ্রে সহিংসতার সম্ভাবনা আছে এমন এলাকা বা ভোট কেন্দ্রের নিরাপত্তা, জনগণের মনোভাব, ক্ষোভ, ছাত্র ও তরুণদের গতিবিধি সম্পর্কে আগাম তথ্য সংগ্রহ করা।

নির্বাচনী অনিয়ম, ভোট কেন্দ্রে কারচুপি, অর্থ বিতরণ, প্রার্থীদের সম্পর্কে জানা, নিরাপত্তা হুমকি, সন্ত্রাসী হামলা, অস্ত্র, বিস্ফোরকের উপস্থিতি, কেন্দ্রের ফলাফল ঘোষণা ও নির্বাচনী সামগ্রী সংগ্রহ সংক্রান্তে বাধা দিতে পারে এ ধরনের আশঙ্কার তথ্য আগাম সংগ্রহ করে ব্যবস্থা নেয়া।

নির্বাচনী কর্মতৎপরতার আলোকে জেলা ভিত্তিক, গোয়েন্দা ঝুঁকি বিশ্লেষণের নমুনা, পেশি শক্তির প্রদর্শনী, প্রার্থীদের নিজস্ব বাহিনী তৈরি, স্বতন্ত্র প্রার্থীকে হুমকি, নদীর তীরবর্তী অঞ্চল ও বিদ্রোহী প্রার্থী নিয়ে স্থানীয় প্রভাবশালী গোষ্ঠীর দাপট, সীমানা পরিবর্তনসহ নানা কারণে ঝুঁকিপূর্ণের ধরন, রাজনৈতিক দলগুলোর সম্ভাব্য সংঘর্ষের সময় উচ্চ ঝুঁকির মাত্রা বিশ্লেষণ করে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একজন প্রার্থী যখন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর এলাকায় প্রচারণা চালাচ্ছিলেন, তখন প্রতিদ্বন্দ্বী সমর্থকরা তার পোস্টার ছিড়ে ফেলে, প্রচারণায় বাঁধার সৃষ্টি করে। এক্ষেত্রেও একজন পুলিশ সদস্য হিসেবে করণীয় কি?

প্রশিক্ষণে আরও রয়েছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে ভোট কেন্দ্র ভোটিং উপকরণ (ব্যালট, সিল, অন্যান্য সামগ্রীর নিরাপত্তা দেয়া নিয়ে ট্রেনিংয়ে আলোচনা করা হয়।

আচরণ ও দ-: রিটার্নিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসার, প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার, পোলিং এজেন্টসহ দায়িত্ব পালনকারী অন্যান্য কর্মকর্তা বা পুলিশের কোনো সদস্য যদি নির্বাচন পরিচালনা বা ব্যবস্থাপনা বা ভোট কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকালে কোনো ব্যক্তিকে তার ভোট দেয়ায় প্ররোচিত করে, তার ভোট দেয়ায় প্রভাবিত করে, নির্বাচনের ফলাফল প্রভাবিত করার জন্য অন্য কোনো কার্য করে তবে তা দ-নীয় অপরাধ। জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য পুলিশের দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি সংক্রান্ত এই প্রশিক্ষণ কোর্সে সাধারণত নির্বাচনী আইন ও বিধি-বিধান সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান অর্জন, নির্বাচনী আচরণবিধি ও কমিশনের জারিকৃত পরিপত্র ও নির্দেশনা জানা। যুগোপযোগী প্রযুক্তির ব্যবহার জানা। জনগণের সঙ্গে পুলিশের আস্থা বৃদ্ধি করা।

প্রযুক্তির ব্যবহার বিশেষ করে বডি ওর্ন ক্যামেরাসহ আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নীতিমালা সম্পর্কিত সম্যক ধারণা অর্জন। বডি ওর্ন ক্যামরাসহ আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারিক অনুশীলন। পুলিশের অস্ত্র ব্যবহারের নীতিমালাসহ নানা ধরনের নির্বাচনী নিরাপত্তা ও আচরণ বিধির প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে।

প্রশিক্ষণের প্রথম পর্যায়ে পুলিশ সদর দপ্তরের ১৫০ জন প্রশিক্ষক তৈরি করা হয়েছে। গত বছরের ৩১ আগস্ট থেকে ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই কর্মপরিকল্পনার প্রথম পর্যায় নির্ধারণ করা হয়। দ্বিতীয় পর্যায়ে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের ১৫০ জন কর্মান্ডার (এসপি ও তদুর্ধ্বদের) নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ও কর্মশালা আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে ২০২৫ সালের ৭ই সেপ্টেম্বর।

তৃতীয় পর্যায়ে দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার ২০টি ভেন্যুতে প্রশিক্ষক তৈরি করা হয়েছে। চতুর্থ পর্যায়ে সারাদেশের পুলিশের বিভিন্ন ট্রেনিং সেন্টারসহ ১৩০টি ভেন্যুতে দেড় লাখ পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যকে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে।

পুলিশ সদর দপ্তর ও পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারের কর্মকর্তারা জানান, দেড় লাখ পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যকে নির্বাচন সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ কাজ এখনও চলছে।বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ১ লাখ ১৬ হাজারের বেশি কর্মকর্তা ও সদসকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। চলতি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে এ প্রশিক্ষণ কোর্স শেষ হওয়ার সম্ভাবনা আছে।

এ বছর জাতীয় নির্বাচন দেশে-বিদেশে গ্রহণযোগ্য করতে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশন ও গাইডলাইন অনুযায়ী কাজ করতে পুলিশ সবধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। পেশাদারিত্বের বাইরে কেউ অনিয়ম করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। আর যেসব পুলিশ সদস্য পূর্বে কোনো নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করেনি তাদেরকে ভোট কেন্দ্রের প্রামাণ্যচিত্র ও সরেজমিনে রোল-প্লের মাধ্যমে জ্ঞান অর্জনের জন্য ডকুমেন্টারি দেখানো এবং হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। 

এক লাখের বেশি পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যকে ভোট কেন্দ্রের নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ
থাকবে পুলিশ জনপদে, ভোট দিব নিরাপদে
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
০২ জানুয়ারি ২০২৬
দৈনিক উপচার
 শুক্রবার , ১৫ মে ২০২৬
হোমআজকের শীর্ষ সংবাদএক লাখের বেশি পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যকে ভোট কেন্দ্রের নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ
থাকবে পুলিশ জনপদে, ভোট দিব নিরাপদে

এক লাখের বেশি পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যকে ভোট কেন্দ্রের নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ

favicon
উপচার ডেস্ক :-
এক লাখের বেশি পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যকে ভোট কেন্দ্রের নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের পর পুলিশ বাহিনীতে নানা বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। অনেক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হয়। আবার অনেকেই দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান। কাউকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়।

অন্তর্বর্তী সরকার পুলিশে শৃঙ্খলা ফেরাতে নানামুখী পদক্ষেপ নেয়। এমনকি আগামী নির্বাচন যাতে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হয় সেজন্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কীভাবে পুলিশ দায়িত্ব পালন করবে তা নিয়ে পুলিশ বাহিনীর প্রায় দেড় লাখ কর্মকর্তা ও সদস্যকে নির্বাচনী নিরাপত্তা, আচরণবিধি ও নির্বাচন কমিশনের গাইডলাইন অনুযায়ী প্রশিক্ষণ দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে প্রশিক্ষণ দেয়া শুরু হয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে এই প্রশিক্ষণ শেষ হবে।

প্রশিক্ষণের প্রতিপাদ্য হলো- থাকবে পুলিশ জনপদে, ভোট দিব নিরাপদে। এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সারাদেশের ভোট কেন্দ্রের নিরাপত্তায় এই প্রথমবারের মতো পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যদেরকে প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে।

ইতোমধ্যে ১ লাখ ১৬ হাজারেরও বেশি পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যকে নির্বাচনী প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। টার্গেট দেড় লাখ পুলিশকে প্রশিক্ষণ দেয়া। আগামী ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত এই প্রশিক্ষণ চলবে বলে পুলিশ সদর দপ্তর ও ট্রেনিং সেন্টারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে।

প্রশিক্ষণের গাইডলাইন থেকে জানা গেছে, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পুলিশের ভূমিকা ও আন্তঃসংস্থা বা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে নির্বাচনের নিরাপত্তা ছক চূড়ান্ত করা হবে। নির্বাচনের আগে এলাকাভিত্তিক গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ, প্রয়োগ, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় পুলিশের ভূমিকা কেমন হবে তাও প্রশিক্ষণে শেখানো হচ্ছে। গোয়েন্দা তথ্য: গোপন বা সরাসরিভাবে সংগৃহীত তথ্যকে যথাযথভাবে বিশ্লেষণ ও মূল্যায়নের মাধ্যমে নির্দিষ্ট কোনো উদ্দেশ্য যেমন- নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা বা রাষ্ট্রীয় স্বার্থরক্ষা। এসব বিষয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য ব্যবহারযোগ্য করে তোলা।

নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে কোনো প্রার্থী যদি নির্দিষ্ট এলাকায় গিয়ে একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সঙ্গে বৈঠক করে। যাদের কার্যক্রম নির্বাচনী পরিবেশে ব্যাঘাত সৃষ্টি করার সম্ভবনা রাখে। এই তথ্য গোয়েন্দা তথ্য হিসেবে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা যেতে পারে।

রাজনৈতিক কার্যক্রম, দলীয় সমাবেশ, প্রচারণা এবং সম্ভাব্য সহিংসতার ঝুঁকি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উস্কানিমূলক পোস্ট, গুজব ছড়ানো, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা বা ভোট কেন্দ্রে সহিংসতার সম্ভাবনা আছে এমন এলাকা বা ভোট কেন্দ্রের নিরাপত্তা, জনগণের মনোভাব, ক্ষোভ, ছাত্র ও তরুণদের গতিবিধি সম্পর্কে আগাম তথ্য সংগ্রহ করা।

নির্বাচনী অনিয়ম, ভোট কেন্দ্রে কারচুপি, অর্থ বিতরণ, প্রার্থীদের সম্পর্কে জানা, নিরাপত্তা হুমকি, সন্ত্রাসী হামলা, অস্ত্র, বিস্ফোরকের উপস্থিতি, কেন্দ্রের ফলাফল ঘোষণা ও নির্বাচনী সামগ্রী সংগ্রহ সংক্রান্তে বাধা দিতে পারে এ ধরনের আশঙ্কার তথ্য আগাম সংগ্রহ করে ব্যবস্থা নেয়া।

নির্বাচনী কর্মতৎপরতার আলোকে জেলা ভিত্তিক, গোয়েন্দা ঝুঁকি বিশ্লেষণের নমুনা, পেশি শক্তির প্রদর্শনী, প্রার্থীদের নিজস্ব বাহিনী তৈরি, স্বতন্ত্র প্রার্থীকে হুমকি, নদীর তীরবর্তী অঞ্চল ও বিদ্রোহী প্রার্থী নিয়ে স্থানীয় প্রভাবশালী গোষ্ঠীর দাপট, সীমানা পরিবর্তনসহ নানা কারণে ঝুঁকিপূর্ণের ধরন, রাজনৈতিক দলগুলোর সম্ভাব্য সংঘর্ষের সময় উচ্চ ঝুঁকির মাত্রা বিশ্লেষণ করে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একজন প্রার্থী যখন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর এলাকায় প্রচারণা চালাচ্ছিলেন, তখন প্রতিদ্বন্দ্বী সমর্থকরা তার পোস্টার ছিড়ে ফেলে, প্রচারণায় বাঁধার সৃষ্টি করে। এক্ষেত্রেও একজন পুলিশ সদস্য হিসেবে করণীয় কি?

প্রশিক্ষণে আরও রয়েছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে ভোট কেন্দ্র ভোটিং উপকরণ (ব্যালট, সিল, অন্যান্য সামগ্রীর নিরাপত্তা দেয়া নিয়ে ট্রেনিংয়ে আলোচনা করা হয়।

আচরণ ও দ-: রিটার্নিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসার, প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার, পোলিং এজেন্টসহ দায়িত্ব পালনকারী অন্যান্য কর্মকর্তা বা পুলিশের কোনো সদস্য যদি নির্বাচন পরিচালনা বা ব্যবস্থাপনা বা ভোট কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকালে কোনো ব্যক্তিকে তার ভোট দেয়ায় প্ররোচিত করে, তার ভোট দেয়ায় প্রভাবিত করে, নির্বাচনের ফলাফল প্রভাবিত করার জন্য অন্য কোনো কার্য করে তবে তা দ-নীয় অপরাধ। জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য পুলিশের দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি সংক্রান্ত এই প্রশিক্ষণ কোর্সে সাধারণত নির্বাচনী আইন ও বিধি-বিধান সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান অর্জন, নির্বাচনী আচরণবিধি ও কমিশনের জারিকৃত পরিপত্র ও নির্দেশনা জানা। যুগোপযোগী প্রযুক্তির ব্যবহার জানা। জনগণের সঙ্গে পুলিশের আস্থা বৃদ্ধি করা।

প্রযুক্তির ব্যবহার বিশেষ করে বডি ওর্ন ক্যামেরাসহ আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নীতিমালা সম্পর্কিত সম্যক ধারণা অর্জন। বডি ওর্ন ক্যামরাসহ আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারিক অনুশীলন। পুলিশের অস্ত্র ব্যবহারের নীতিমালাসহ নানা ধরনের নির্বাচনী নিরাপত্তা ও আচরণ বিধির প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে।

প্রশিক্ষণের প্রথম পর্যায়ে পুলিশ সদর দপ্তরের ১৫০ জন প্রশিক্ষক তৈরি করা হয়েছে। গত বছরের ৩১ আগস্ট থেকে ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই কর্মপরিকল্পনার প্রথম পর্যায় নির্ধারণ করা হয়। দ্বিতীয় পর্যায়ে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের ১৫০ জন কর্মান্ডার (এসপি ও তদুর্ধ্বদের) নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ও কর্মশালা আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে ২০২৫ সালের ৭ই সেপ্টেম্বর।

তৃতীয় পর্যায়ে দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার ২০টি ভেন্যুতে প্রশিক্ষক তৈরি করা হয়েছে। চতুর্থ পর্যায়ে সারাদেশের পুলিশের বিভিন্ন ট্রেনিং সেন্টারসহ ১৩০টি ভেন্যুতে দেড় লাখ পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যকে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে।

পুলিশ সদর দপ্তর ও পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারের কর্মকর্তারা জানান, দেড় লাখ পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যকে নির্বাচন সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ কাজ এখনও চলছে।বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ১ লাখ ১৬ হাজারের বেশি কর্মকর্তা ও সদসকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। চলতি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে এ প্রশিক্ষণ কোর্স শেষ হওয়ার সম্ভাবনা আছে।

এ বছর জাতীয় নির্বাচন দেশে-বিদেশে গ্রহণযোগ্য করতে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশন ও গাইডলাইন অনুযায়ী কাজ করতে পুলিশ সবধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। পেশাদারিত্বের বাইরে কেউ অনিয়ম করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। আর যেসব পুলিশ সদস্য পূর্বে কোনো নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করেনি তাদেরকে ভোট কেন্দ্রের প্রামাণ্যচিত্র ও সরেজমিনে রোল-প্লের মাধ্যমে জ্ঞান অর্জনের জন্য ডকুমেন্টারি দেখানো এবং হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। 

এক লাখের বেশি পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যকে ভোট কেন্দ্রের নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ
থাকবে পুলিশ জনপদে, ভোট দিব নিরাপদে
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
০২ জানুয়ারি ২০২৬