মঙ্গলবার , ২০ অক্টোবর ২০২৬
হোম › আন্তর্জাতিক › ফ্রান্সে সংঘর্ষ ও গ্রেপ্তার, ক্ষোভে ফুঁসছে ইউরোপের তরুণরা

ফ্রান্সে সংঘর্ষ ও গ্রেপ্তার, ক্ষোভে ফুঁসছে ইউরোপের তরুণরা

favicon
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ফ্রান্সে সংঘর্ষ ও গ্রেপ্তার, ক্ষোভে ফুঁসছে ইউরোপের তরুণরা
লিমোজ শহরে মুখোশধারী বিক্ষোভকারীদের দেওয়া আগুনে ১৪০ বছরের বেশি পুরোনো টাউন হলের বড় অংশ পুড়ে গেছে। ছবি: এএফপি

শিক্ষা ব্যবস্থার বেহাল দশা, লাগামহীন আবাসন সংকট এবং জীবনযাত্রার তীব্র ব্যয়ের প্রতিবাদে ইউরোপজুড়ে তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন তরুণ ও সাধারণ নাগরিকরা। ফ্রান্স, স্পেন, পর্তুগাল, ইতালি, বেলজিয়াম ও আলবেনিয়াসহ ইউরোপের একাধিক দেশে ছাত্র-যুবকদের এই বিক্ষোভ ক্রমশ জোরালো হয়ে রাজপথের তুমুল সংঘর্ষ ও রাজনৈতিক সংকটে রূপ নিয়েছে।

সবচেয়ে উত্তাল পরিস্থিতি বিরাজ করছে ফ্রান্সে। দেশটিতে নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর পর থেকেই শ্রেণিকক্ষে তীব্র শিক্ষক সংকট, অতিরিক্ত দীর্ঘ ক্লাস সময়সূচি, জরাজীর্ণ অবকাঠামো এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জটিল পদ্ধতির প্রতিবাদে রাজপথে নামেন উচ্চমাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীরা। তীব্র শিক্ষক ঘাটতির কারণে বহু শিক্ষার্থীকে মাসের পর মাস ক্লাস ছাড়াই কাটাতে হচ্ছে। প্রাথমিক পর্যায়ের এই অসন্তোষ পরবর্তীতে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও আকাশচুম্বী জ্বালানি তেলের দামের বিরুদ্ধে এক বৃহত্তর আন্দোলনে রূপ নেয়। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বোমাবর্ষণের পর হরমুজ প্রণালি কার্যত অচল হয়ে পড়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানির মূল্য আকস্মিক বৃদ্ধি পায়, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে ফ্রান্সে। দেশের বৃহত্তম শ্রমিক সংগঠন জেনারেল কনফেডারেশন অব লেবার শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনের সাথে সংহতি প্রকাশ করে অবিলম্বে নিত্যপণ্যের দাম কমানো, ন্যূনতম মজুরি বাড়ানো এবং পেনশনের সুবিধা বৃদ্ধির জোরালো দাবি জানিয়েছে। ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় পুলিশের সাথে দফায় দফায় সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়েছে এবং প্রায় ২ হাজার ৪০০ বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এদিকে স্পেনে আবাসন সংকট ও মাত্রাতিরিক্ত বাড়িভাড়ার বোঝা তরুণ সমাজকে রাজপথে নামতে বাধ্য করেছে। সম্প্রতি একটি বড় বিনিয়োগ তহবিল বাড়িভাড়া একলাফে ২৩০ শতাংশ বাড়িয়ে দেওয়ার পর ৮৭ বছর বয়সী মারিকারমেন আবাসকাল নামের এক বয়োবৃদ্ধ নারীকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করা হয়। এ মর্মান্তিক ঘটনার পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হলে রাজধানী মাদ্রিদসহ বিভিন্ন শহরে প্রতিবাদের আগুন জ্বলে ওঠে। স্পেনের আন্দোলনকারীরা অবিলম্বে বাড়িভাড়া কমানো, সাধারণ মানুষকে উচ্ছেদ বন্ধ এবং বড় বড় বিনিয়োগ তহবিলের মাধ্যমে ব্যক্তিগত সম্পত্তি বা ফ্ল্যাট কেনার আগ্রাসন নিষিদ্ধ করার দাবি তুলছেন। একই চিত্র দেখা গেছে প্রতিবেশী দেশ পর্তুগালেও। দেশটির রাজধানী লিসবনের কেন্দ্রে জড়ো হয়ে হাজার হাজার নাগরিক আকাশছোঁয়া জীবনযাত্রার ব্যয়ের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। সরকারি তথ্যানুযায়ী, ২০১৫ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে পর্তুগালে বাড়ির দাম গড়ে ১২৪ শতাংশ বেড়েছে, যা সমগ্র ইউরোপীয় ইউনিয়নের গড় বৃদ্ধির তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।

বিক্ষোভের এই ঢেউ আছড়ে পড়েছে ইতালি ও বেলজিয়ামেও। ইতালির শিল্পনগরী মিলানে সাধারণ মানুষের ওপর চেপে বসা অর্থনৈতিক চাপের প্রতিবাদে শুরু হওয়া শান্তিপূর্ণ মিছিলটি পরবর্তীতে দাঙ্গায় রূপ নেয়। মুখোশধারী বিক্ষোভকারীরা পুলিশের দিকে ইট-পাথর ও রাস্তায় থাকা ব্লকের টুকরো ছুড়ে মারে এবং রেস্তোরাঁ-বারের আসবাব দিয়ে ব্যারিকেড গড়ে তাতে আগুন ধরিয়ে দেয়। অন্যদিকে বেলজিয়ামেও শিক্ষা ব্যয় বৃদ্ধি ও কৃচ্ছ্রসাধনের বিরুদ্ধে তরুণদের সমাবেশ পুলিশের সাথে সংঘর্ষে রূপ নেয়। দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের দেশ আলবেনিয়াতেও ব্যাপক দুর্নীতি, কর্মসংস্থানের সংকট ও দুর্বল শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতিবাদে প্রধানমন্ত্রী এদি রামার পদত্যাগের দাবিতে টানা বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে, যার সূত্রপাত হয়েছিল সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের সমর্থনপুষ্ট একটি বিলাসবহুল উপকূলীয় মেগা রিসোর্ট প্রকল্পকে ঘিরে।

তীব্র গণবিক্ষোভের মুখে কিছু ক্ষেত্রে পিছু হটতে বাধ্য হচ্ছে সংশ্লিষ্ট সরকারগুলো। ফ্রান্সে সংকট সামাল দিতে তিন হাজার অতিরিক্ত বিকল্প শিক্ষক নিয়োগের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নীতি-নির্ধারণে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি রাখার অঙ্গীকার করা হয়েছে। এছাড়া আগামী বাজেটের আওতায় কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রস্তাবিত বর্ধিত ভর্তি ফি বাতিলসহ নির্দিষ্ট শিল্পখাতে পেট্রোল ভর্তুকি বাড়ানোর আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। স্পেনেও প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ ভাড়াটিয়াদের সুরক্ষায় একটি জরুরি আবাসন সুরক্ষা আইন পাসের চেষ্টা করেছিলেন। তবে কংগ্রেসে ডানপন্থী দলগুলোর চরম বিরোধিতার মুখে আইনটি আটকে যাওয়ায় তিনি সংসদ ভেঙে দিয়ে আগামী ২৯ নভেম্বর আগাম সাধারণ নির্বাচনের ডাক দিয়েছেন।

চলমান এই অচলাবস্থা নিরসনে রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে উঠেছে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ মন্ত্রিসভার জরুরি বৈঠক শেষে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে সহিংসতার নিন্দা জানিয়ে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন যে, লুটপাট ও ভাঙচুরে জড়িত উগ্র বামপন্থী ও অপরাধীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। ২০২৭ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগে মাখোঁ সরকারের ওপর এই আন্দোলন বড় ধরনের রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করেছে। স্পেনেও আসন্ন আগাম নির্বাচনকে সামনে রেখে ক্ষমতাসীন ও বিরোধী উভয় পক্ষই আবাসন সংকট মেটাতে নতুন গৃহনির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালাচ্ছে। তরুণদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা ও তীব্র অর্থনৈতিক টানাপোড়েনের সমাধান না হওয়া পর্যন্ত সমগ্র ইউরোপে এই বিক্ষোভ সহজে স্তিমিত হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

ফ্রান্সে সংঘর্ষ ও গ্রেপ্তার, ক্ষোভে ফুঁসছে ইউরোপের তরুণরা
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
১৯ অক্টোবর ২০২৬
দৈনিক উপচার
 মঙ্গলবার , ২০ অক্টোবর ২০২৬
হোম › আন্তর্জাতিক › ফ্রান্সে সংঘর্ষ ও গ্রেপ্তার, ক্ষোভে ফুঁসছে ইউরোপের তরুণরা

ফ্রান্সে সংঘর্ষ ও গ্রেপ্তার, ক্ষোভে ফুঁসছে ইউরোপের তরুণরা

favicon
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ফ্রান্সে সংঘর্ষ ও গ্রেপ্তার, ক্ষোভে ফুঁসছে ইউরোপের তরুণরা
লিমোজ শহরে মুখোশধারী বিক্ষোভকারীদের দেওয়া আগুনে ১৪০ বছরের বেশি পুরোনো টাউন হলের বড় অংশ পুড়ে গেছে। ছবি: এএফপি

শিক্ষা ব্যবস্থার বেহাল দশা, লাগামহীন আবাসন সংকট এবং জীবনযাত্রার তীব্র ব্যয়ের প্রতিবাদে ইউরোপজুড়ে তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন তরুণ ও সাধারণ নাগরিকরা। ফ্রান্স, স্পেন, পর্তুগাল, ইতালি, বেলজিয়াম ও আলবেনিয়াসহ ইউরোপের একাধিক দেশে ছাত্র-যুবকদের এই বিক্ষোভ ক্রমশ জোরালো হয়ে রাজপথের তুমুল সংঘর্ষ ও রাজনৈতিক সংকটে রূপ নিয়েছে।

সবচেয়ে উত্তাল পরিস্থিতি বিরাজ করছে ফ্রান্সে। দেশটিতে নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর পর থেকেই শ্রেণিকক্ষে তীব্র শিক্ষক সংকট, অতিরিক্ত দীর্ঘ ক্লাস সময়সূচি, জরাজীর্ণ অবকাঠামো এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জটিল পদ্ধতির প্রতিবাদে রাজপথে নামেন উচ্চমাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীরা। তীব্র শিক্ষক ঘাটতির কারণে বহু শিক্ষার্থীকে মাসের পর মাস ক্লাস ছাড়াই কাটাতে হচ্ছে। প্রাথমিক পর্যায়ের এই অসন্তোষ পরবর্তীতে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও আকাশচুম্বী জ্বালানি তেলের দামের বিরুদ্ধে এক বৃহত্তর আন্দোলনে রূপ নেয়। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বোমাবর্ষণের পর হরমুজ প্রণালি কার্যত অচল হয়ে পড়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানির মূল্য আকস্মিক বৃদ্ধি পায়, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে ফ্রান্সে। দেশের বৃহত্তম শ্রমিক সংগঠন জেনারেল কনফেডারেশন অব লেবার শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনের সাথে সংহতি প্রকাশ করে অবিলম্বে নিত্যপণ্যের দাম কমানো, ন্যূনতম মজুরি বাড়ানো এবং পেনশনের সুবিধা বৃদ্ধির জোরালো দাবি জানিয়েছে। ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় পুলিশের সাথে দফায় দফায় সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়েছে এবং প্রায় ২ হাজার ৪০০ বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এদিকে স্পেনে আবাসন সংকট ও মাত্রাতিরিক্ত বাড়িভাড়ার বোঝা তরুণ সমাজকে রাজপথে নামতে বাধ্য করেছে। সম্প্রতি একটি বড় বিনিয়োগ তহবিল বাড়িভাড়া একলাফে ২৩০ শতাংশ বাড়িয়ে দেওয়ার পর ৮৭ বছর বয়সী মারিকারমেন আবাসকাল নামের এক বয়োবৃদ্ধ নারীকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করা হয়। এ মর্মান্তিক ঘটনার পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হলে রাজধানী মাদ্রিদসহ বিভিন্ন শহরে প্রতিবাদের আগুন জ্বলে ওঠে। স্পেনের আন্দোলনকারীরা অবিলম্বে বাড়িভাড়া কমানো, সাধারণ মানুষকে উচ্ছেদ বন্ধ এবং বড় বড় বিনিয়োগ তহবিলের মাধ্যমে ব্যক্তিগত সম্পত্তি বা ফ্ল্যাট কেনার আগ্রাসন নিষিদ্ধ করার দাবি তুলছেন। একই চিত্র দেখা গেছে প্রতিবেশী দেশ পর্তুগালেও। দেশটির রাজধানী লিসবনের কেন্দ্রে জড়ো হয়ে হাজার হাজার নাগরিক আকাশছোঁয়া জীবনযাত্রার ব্যয়ের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। সরকারি তথ্যানুযায়ী, ২০১৫ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে পর্তুগালে বাড়ির দাম গড়ে ১২৪ শতাংশ বেড়েছে, যা সমগ্র ইউরোপীয় ইউনিয়নের গড় বৃদ্ধির তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।

বিক্ষোভের এই ঢেউ আছড়ে পড়েছে ইতালি ও বেলজিয়ামেও। ইতালির শিল্পনগরী মিলানে সাধারণ মানুষের ওপর চেপে বসা অর্থনৈতিক চাপের প্রতিবাদে শুরু হওয়া শান্তিপূর্ণ মিছিলটি পরবর্তীতে দাঙ্গায় রূপ নেয়। মুখোশধারী বিক্ষোভকারীরা পুলিশের দিকে ইট-পাথর ও রাস্তায় থাকা ব্লকের টুকরো ছুড়ে মারে এবং রেস্তোরাঁ-বারের আসবাব দিয়ে ব্যারিকেড গড়ে তাতে আগুন ধরিয়ে দেয়। অন্যদিকে বেলজিয়ামেও শিক্ষা ব্যয় বৃদ্ধি ও কৃচ্ছ্রসাধনের বিরুদ্ধে তরুণদের সমাবেশ পুলিশের সাথে সংঘর্ষে রূপ নেয়। দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের দেশ আলবেনিয়াতেও ব্যাপক দুর্নীতি, কর্মসংস্থানের সংকট ও দুর্বল শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতিবাদে প্রধানমন্ত্রী এদি রামার পদত্যাগের দাবিতে টানা বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে, যার সূত্রপাত হয়েছিল সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের সমর্থনপুষ্ট একটি বিলাসবহুল উপকূলীয় মেগা রিসোর্ট প্রকল্পকে ঘিরে।

তীব্র গণবিক্ষোভের মুখে কিছু ক্ষেত্রে পিছু হটতে বাধ্য হচ্ছে সংশ্লিষ্ট সরকারগুলো। ফ্রান্সে সংকট সামাল দিতে তিন হাজার অতিরিক্ত বিকল্প শিক্ষক নিয়োগের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নীতি-নির্ধারণে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি রাখার অঙ্গীকার করা হয়েছে। এছাড়া আগামী বাজেটের আওতায় কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রস্তাবিত বর্ধিত ভর্তি ফি বাতিলসহ নির্দিষ্ট শিল্পখাতে পেট্রোল ভর্তুকি বাড়ানোর আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। স্পেনেও প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ ভাড়াটিয়াদের সুরক্ষায় একটি জরুরি আবাসন সুরক্ষা আইন পাসের চেষ্টা করেছিলেন। তবে কংগ্রেসে ডানপন্থী দলগুলোর চরম বিরোধিতার মুখে আইনটি আটকে যাওয়ায় তিনি সংসদ ভেঙে দিয়ে আগামী ২৯ নভেম্বর আগাম সাধারণ নির্বাচনের ডাক দিয়েছেন।

চলমান এই অচলাবস্থা নিরসনে রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে উঠেছে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ মন্ত্রিসভার জরুরি বৈঠক শেষে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে সহিংসতার নিন্দা জানিয়ে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন যে, লুটপাট ও ভাঙচুরে জড়িত উগ্র বামপন্থী ও অপরাধীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। ২০২৭ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগে মাখোঁ সরকারের ওপর এই আন্দোলন বড় ধরনের রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করেছে। স্পেনেও আসন্ন আগাম নির্বাচনকে সামনে রেখে ক্ষমতাসীন ও বিরোধী উভয় পক্ষই আবাসন সংকট মেটাতে নতুন গৃহনির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালাচ্ছে। তরুণদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা ও তীব্র অর্থনৈতিক টানাপোড়েনের সমাধান না হওয়া পর্যন্ত সমগ্র ইউরোপে এই বিক্ষোভ সহজে স্তিমিত হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

ফ্রান্সে সংঘর্ষ ও গ্রেপ্তার, ক্ষোভে ফুঁসছে ইউরোপের তরুণরা
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
১৯ অক্টোবর ২০২৬