শনিবার , ১০ অক্টোবর ২০২৬
হোম › আজকের শীর্ষ সংবাদ › বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক আরও গভীর করার আহ্বান ইসমাইল জবিউল্লাহর

বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক আরও গভীর করার আহ্বান ইসমাইল জবিউল্লাহর

favicon
উপচার ডেস্ক :-
বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক আরও গভীর করার আহ্বান ইসমাইল জবিউল্লাহর
প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন উপদেষ্টা ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মো. ইসমাইল জবিউল্লাহর সঙ্গে চীনা দূতাবাসের কর্মকর্তারা।

চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বিদ্যমান ঐতিহাসিক ও কৌশলগত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ়, টেকসই ও গণমুখী করতে পারস্পরিক যোগাযোগ, আস্থা ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন উপদেষ্টা ও বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ। তিনি উল্লেখ করেছেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রতিনিধি দলের এবারের চীন সফর দুই বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্রের সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক সহযোগিতার নবদিগন্ত উন্মোচন করবে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ঢাকাস্থ চীনা দূতাবাস আয়োজিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রতিনিধি দলের বিশেষ সফরপূর্ব সংবর্ধনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এটি দ্বিতীয় প্রতিনিধি দলের চীন সফর উল্লেখ করে মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ প্রতিনিধি দলের সদস্যদের কেবল আনুষ্ঠানিক বৈঠকের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ না থাকার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, সফরকালে চীনের শীর্ষ সরকারি নীতিনির্ধারক, আধুনিক শিল্পোদ্যোক্তা, শিক্ষাবিদ ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিবিড় মতবিনিময়ের মাধ্যমে দেশটির অভাবনীয় আর্থসামাজিক রূপান্তরের অভিজ্ঞতা গভীরভাবে উপলব্ধি করতে হবে।

প্রতিনিধি দলকে দেশের ১৮ কোটি মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে আখ্যায়িত করে উপদেষ্টা বলেন, দীর্ঘমেয়াদি ও সুদূরপ্রসারী মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন, টেকসই অবকাঠামোগত উন্নয়ন, দ্রুত শিল্পায়ন, অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, উদ্ভাবন এবং গৃহীত প্রকল্পের সময়োপযোগী বাস্তবায়নে চীনের সাফল্য বিশ্বজুড়ে অনন্য। বৈশ্বিক মোট শিল্প উৎপাদনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এককভাবে চীনের নিয়ন্ত্রণে থাকায় তাদের এ রূপান্তরের মডেল বাংলাদেশের চলমান অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার জন্য এক যুগান্তকারী শিক্ষণীয় দৃষ্টান্ত হতে পারে।

দ্বিপাক্ষিক ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দূরদর্শী কূটনৈতিক পদক্ষেপে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে আনুষ্ঠানিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ঐতিহাসিক সূচনা ঘটেছিল। সময়ের পরিক্রমায় সেই সম্পর্ক ক্রমান্বয়ে বিস্তৃত হয়ে আজ সমন্বিত কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদারিত্বে রূপ নিয়েছে।

বর্তমান সরকারের অর্থনৈতিক লক্ষ্য তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে সামগ্রিক অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক আধুনিকায়নের এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে রয়েছে। জাতীয় অর্থনীতিতে বহুমাত্রিকতা আনয়ন, স্থানীয় উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বৃহৎ শিল্পের বিকাশ এবং তরুণ প্রজন্মের জন্য পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রে চীনের অভিজ্ঞতা ও বিনিয়োগ বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত ফলপ্রসূ ভূমিকা রাখতে পারে।

দুই দেশের জনগণের সরাসরি মেলবন্ধন ও পারস্পরিক বাণিজ্য সহজীকরণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি বাংলাদেশি ব্যবসায়ী ও ভ্রমণকারীদের জন্য চীনের পূর্ণাঙ্গ ই-ভিসা ব্যবস্থা দ্রুত চালু, বাণিজ্যিক বিরোধ নিষ্পত্তিতে সালিশি সহায়তা জোরদার এবং প্রযুক্তি ও মানবসম্পদ বিনিময় বাড়ানোর আহ্বান জানান। বর্তমান সরকারের নেতৃত্বে বাংলাদেশ এ অংশীদারিত্বকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে এগিয়ে নিতে বদ্ধপরিকর এবং এ যৌথ প্রয়াস দুই দেশের জনগণের সামগ্রিক কল্যাণে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত, দূতাবাসের পদস্থ কূটনৈতিক কর্মকর্তা, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রতিনিধি দলের সদস্যবৃন্দ এবং বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক আরও গভীর করার আহ্বান ইসমাইল জবিউল্লাহর
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
০৯ অক্টোবর ২০২৬
দৈনিক উপচার
 শনিবার , ১০ অক্টোবর ২০২৬
হোম › আজকের শীর্ষ সংবাদ › বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক আরও গভীর করার আহ্বান ইসমাইল জবিউল্লাহর

বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক আরও গভীর করার আহ্বান ইসমাইল জবিউল্লাহর

favicon
উপচার ডেস্ক :-
বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক আরও গভীর করার আহ্বান ইসমাইল জবিউল্লাহর
প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন উপদেষ্টা ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মো. ইসমাইল জবিউল্লাহর সঙ্গে চীনা দূতাবাসের কর্মকর্তারা।

চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বিদ্যমান ঐতিহাসিক ও কৌশলগত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ়, টেকসই ও গণমুখী করতে পারস্পরিক যোগাযোগ, আস্থা ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন উপদেষ্টা ও বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ। তিনি উল্লেখ করেছেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রতিনিধি দলের এবারের চীন সফর দুই বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্রের সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক সহযোগিতার নবদিগন্ত উন্মোচন করবে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ঢাকাস্থ চীনা দূতাবাস আয়োজিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রতিনিধি দলের বিশেষ সফরপূর্ব সংবর্ধনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এটি দ্বিতীয় প্রতিনিধি দলের চীন সফর উল্লেখ করে মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ প্রতিনিধি দলের সদস্যদের কেবল আনুষ্ঠানিক বৈঠকের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ না থাকার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, সফরকালে চীনের শীর্ষ সরকারি নীতিনির্ধারক, আধুনিক শিল্পোদ্যোক্তা, শিক্ষাবিদ ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিবিড় মতবিনিময়ের মাধ্যমে দেশটির অভাবনীয় আর্থসামাজিক রূপান্তরের অভিজ্ঞতা গভীরভাবে উপলব্ধি করতে হবে।

প্রতিনিধি দলকে দেশের ১৮ কোটি মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে আখ্যায়িত করে উপদেষ্টা বলেন, দীর্ঘমেয়াদি ও সুদূরপ্রসারী মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন, টেকসই অবকাঠামোগত উন্নয়ন, দ্রুত শিল্পায়ন, অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, উদ্ভাবন এবং গৃহীত প্রকল্পের সময়োপযোগী বাস্তবায়নে চীনের সাফল্য বিশ্বজুড়ে অনন্য। বৈশ্বিক মোট শিল্প উৎপাদনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এককভাবে চীনের নিয়ন্ত্রণে থাকায় তাদের এ রূপান্তরের মডেল বাংলাদেশের চলমান অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার জন্য এক যুগান্তকারী শিক্ষণীয় দৃষ্টান্ত হতে পারে।

দ্বিপাক্ষিক ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দূরদর্শী কূটনৈতিক পদক্ষেপে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে আনুষ্ঠানিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ঐতিহাসিক সূচনা ঘটেছিল। সময়ের পরিক্রমায় সেই সম্পর্ক ক্রমান্বয়ে বিস্তৃত হয়ে আজ সমন্বিত কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদারিত্বে রূপ নিয়েছে।

বর্তমান সরকারের অর্থনৈতিক লক্ষ্য তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে সামগ্রিক অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক আধুনিকায়নের এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে রয়েছে। জাতীয় অর্থনীতিতে বহুমাত্রিকতা আনয়ন, স্থানীয় উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বৃহৎ শিল্পের বিকাশ এবং তরুণ প্রজন্মের জন্য পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রে চীনের অভিজ্ঞতা ও বিনিয়োগ বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত ফলপ্রসূ ভূমিকা রাখতে পারে।

দুই দেশের জনগণের সরাসরি মেলবন্ধন ও পারস্পরিক বাণিজ্য সহজীকরণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি বাংলাদেশি ব্যবসায়ী ও ভ্রমণকারীদের জন্য চীনের পূর্ণাঙ্গ ই-ভিসা ব্যবস্থা দ্রুত চালু, বাণিজ্যিক বিরোধ নিষ্পত্তিতে সালিশি সহায়তা জোরদার এবং প্রযুক্তি ও মানবসম্পদ বিনিময় বাড়ানোর আহ্বান জানান। বর্তমান সরকারের নেতৃত্বে বাংলাদেশ এ অংশীদারিত্বকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে এগিয়ে নিতে বদ্ধপরিকর এবং এ যৌথ প্রয়াস দুই দেশের জনগণের সামগ্রিক কল্যাণে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত, দূতাবাসের পদস্থ কূটনৈতিক কর্মকর্তা, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রতিনিধি দলের সদস্যবৃন্দ এবং বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক আরও গভীর করার আহ্বান ইসমাইল জবিউল্লাহর
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
০৯ অক্টোবর ২০২৬