প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের যথাযথ মর্যাদা ও সঠিক ইতিহাস সংরক্ষণে রাষ্ট্রপতির তাগিদ
মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস সংরক্ষণ এবং প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের নির্ভুল তালিকা প্রণয়ন করে তাঁদের যথাযথ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও মর্যাদা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বঙ্গভবনে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা নঈম জাহাঙ্গীরের নেতৃত্বে ১২ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল তাঁর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এই আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রপতি বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সর্বোচ্চ ত্যাগ ও অপরিসীম অবদান জাতি চিরকাল গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান ও সামাজিক মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখা এবং যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকাভুক্ত করে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি সুনিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব। একই সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস সংরক্ষণ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তা তুলে ধরার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সর্বোচ্চ দায়িত্বশীল ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি, যাতে কোনো মহল বিভ্রান্তি বা অস্পষ্টতা তৈরি করতে না পারে। দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা ও সার্বভৌমত্বের ওপর জোর দিয়ে রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন, জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে এবং মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক মূল্যবোধ ও গণতান্ত্রিক ধারা সমুন্নত রাখতে হবে।
বৈঠকে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের প্রতিনিধিদলের পক্ষ থেকে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণ, অধিকার রক্ষা এবং সম্মানজনক পুনর্বাসন সংক্রান্ত বিভিন্ন সুনির্দিষ্ট দাবি রাষ্ট্রপতির কাছে তুলে ধরা হয়। এ সময় প্রতিনিধিদলের নেতারা অভিযোগ করেন, বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে দলীয় স্বার্থে অসংখ্য ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা তৈরি করা হয়েছিল। একই সাথে নিজস্ব রাজনৈতিক বয়ান প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় ইতিহাস, আদর্শ ও প্রকৃত চেতনাকে মারাত্মকভাবে বিকৃত করা হয়েছে, যা সামগ্রিক জাতীয় রাজনীতিকে কলুষিত করেছে। পরিস্থিতি তুলে ধরার পাশাপাশি নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষ থেকে একটি শান্তিপূর্ণ সমাবেশ আয়োজনের পরিকল্পনার কথাও রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করা হয়।
রাষ্ট্রপতি প্রতিনিধিদলের উত্থাপিত সকল বক্তব্য ও অভিযোগ অত্যন্ত মনোযোগ সহকারে শোনেন এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মর্যাদা রক্ষা ও সার্বিক কল্যাণে বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস প্রদান করেন।
সাক্ষাৎকালে প্রতিনিধিদলে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের যুগ্ম আহ্বায়ক মেজর (অব.) সৈয়দ মুনিবুর রহমান, সদস্যসচিব সাদেক আহমেদ খান, সদস্য ও সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ আবুল বাশার, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক সিরাজুল হক, অর্থ সম্পাদক আলহাজ্ব মো. মনসুর আলী সরকার, কল্যাণ ও সেবা সম্পাদক অনিল বরণ রায়, ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আলহাজ্ব মো. নুরুল ইসলাম, ত্রাণ ও পুনর্বাসন সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির, দপ্তর সম্পাদক প্রকৌশলী জাকারিয়া আহমদ, ঢাকা মহানগর ইউনিট কমান্ডের আহ্বায়ক মো. নুরুল বাসার এবং সদস্যসচিব মিজানুর রহমান খান (বীর প্রতীক)। এ সময় রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সামরিক সচিব, সচিব ও প্রেস সচিব উপস্থিত ছিলেন।