‘লিফট চালু থাকলেও পেছনে হাতকড়া পরিয়ে ৬ তলায় তোলা হয়েছে’
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় মো. হোসেন নামের এক ট্রাকচালক নিহতের ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় সাবেক ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকসহ আট আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়েছে। শুনানিকালে লিফট সচল থাকা সত্ত্বেও পেছনে হাতকড়া পরিয়ে হেঁটে ছয়তলার এজলাসে ওঠানো হয়েছে বলে বিচারকের কাছে ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেন পলক।
বৃহস্পতিবার ঢাকার ৪ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক রবিউল আলমের এজলাসে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে সাবেক এই প্রতিমন্ত্রী সরাসরি বিচারকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। ক্ষোভ প্রকাশ করে পলক বলেন, লিফট চালু থাকা সত্ত্বেও তাকে পেছনমোড়া করে হাতকড়া পরিয়ে সিঁড়ি ভেঙে ছয়তলায় ওঠানো হয়েছে, যা অমানবিক। মানবিক দিক বিবেচনা করে অন্তত সামনের দিকে হাতকড়া পরানোর ব্যবস্থা নিতে আদালতের প্রতি আবেদন জানান তিনি।
এ সময় বিচারক মন্তব্য করেন যে এটি আসামিদের নিরাপত্তার স্বার্থেই করা হয়। জবাবে পলক জানান, হাতকড়া সামনের দিকে রাখলেও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব। এজলাসে উপস্থিত রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলিকে (পিপি) উদ্দেশ্য করে সাবেক এই প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, পিপির মনে রাখা দরকার যে তাঁর ওই স্থান থেকে নিজের বর্তমান কাঠগড়ার অবস্থানের দূরত্ব খুব বেশি নয়।
শুনানি কার্যক্রম শেষে নামানোর সময়ও তাকে সিঁড়ি দিয়ে হেঁটে নামানো হয়। তখন আদালত চত্বরে অপেক্ষমাণ সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে পলক মন্তব্য করেন, লিফট শুধু তাঁদের জন্যই নষ্ট থাকে। সাবেক প্রতিমন্ত্রীর এমন পরিস্থিতিতে তাঁর আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখি ও তরিকুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরাও তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
আদালতের বেঞ্চ সহকারী বেলাল হোসেন জানান, এ মামলার অন্য দুই আসামি সাজ্জাদ হোসেন ও নাইমুল হাসান রাসেলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালেও একই দিনে শুনানি থাকায় কারা কর্তৃপক্ষ তাদের আদালতে হাজির করতে পারেনি। ফলে মামলার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমের পরবর্তী দিন নির্ধারণ করেন আদালত। ৩৪ জন আসামির মধ্যে এ পর্যন্ত ১০ জন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ বাকি ২৪ জন পলাতক রয়েছেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যান এলাকায় গুলিতে প্রাণ হারান পেশায় ট্রাকচালক মো. হোসেন। গাবতলীতে ট্রাক রেখে বাসায় ফেরার পথে তিনি গুলিবিদ্ধ হন। ওই বছরের ৩১ আগস্ট নিহত ব্যক্তির মা রীনা বেগম বাদী হয়ে মোহাম্মদপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীকালে তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক আকরামুজ্জামান ২০২৫ সালের ২৩ নভেম্বর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদের, আসাদুজ্জামান খান কামাল, হাছান মাহমুদ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, জুনাইদ আহমেদ পলক ও সাদেক খানসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।