রাজশাহীতে প্রতিমা বিসর্জন ঘাট পরিদর্শন করলেন প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে রাজশাহী মহানগরীতে সার্বিক প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে। প্রস্তুতির অংশ হিসেবে নগরীর পদ্মা নদী তীরের নির্ধারিত প্রতিমা বিসর্জন ঘাট পরিদর্শন করেছেন প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেলে নগরীর মন্নুজান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে পদ্মা নদীর ঘাটে উপস্থিত হয়ে সার্বিক প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের (রাসিক) প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার মো. ইউসুফ আলী এবং রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি) কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির।
পরিদর্শনকালে প্রতিমা বিসর্জনকে কেন্দ্র করে ঘাটের সার্বিক অবকাঠামো সংস্কার, আলোর ব্যবস্থা, নদী তীরের শৃঙ্খলা, যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ, ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধার তৎপরতার প্রস্তুতি এবং দর্শনার্থীদের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার দিকগুলো খতিয়ে দেখা হয়। এ সময় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ঘাট প্রস্তুত ও ভক্তদের নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।
পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে রাসিক প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন জানান, নগরীতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপনে সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে পরিচ্ছন্নতাসহ সব ধরনের নাগরিক সেবা ও লজিস্টিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, “ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে আমরা সবাই ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ। উৎসব চলাকালে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অপ্রীতিকর ঘটনার সুযোগ নেই; প্রশাসন ও নগর কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।”
সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার মো. ইউসুফ আলী বলেন, “প্রতিমা তৈরি থেকে শুরু করে বিসর্জন পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিভাগীয় পর্যায়ে সমন্বয় সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সিটি কর্পোরেশন, আরএমপি এবং ফায়ার সার্ভিসসহ সব দপ্তর একযোগে কাজ করছে। উৎসবমুখর পরিবেশে পূজা সম্পন্ন করাই আমাদের মূল অগ্রাধিকার।”
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আরএমপি পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির জানান, পূজা উপলক্ষে নগরজুড়ে বহুস্তরের নিরাপত্তাবলয় গড়ে তোলা হয়েছে। তিনি বলেন, “দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে মহানগরীতে কোনো ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি বা শঙ্কা নেই। গোয়েন্দা নজরদারির পাশাপাশি টহল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে, যাতে নগরবাসী সম্পূর্ণ নির্বিঘ্নে উৎসবে শামিল হতে পারেন।”
পরিদর্শনকালে আরও উপস্থিত ছিলেন এসআরবি-৫ রাজশাহীর উপ-অধিনায়ক মেজর মো. মঞ্জুরুল কবির পিয়াল, রাজশাহী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-পরিচালক মঞ্জিল হক, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম, সচিব সোহেল রানা, এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নাজমুল আলম, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা শেখ মো. মামুন, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী খায়রুল বাকের এবং হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্ট রাজশাহী মহানগরের সভাপতি অচিন্ত্য কুমার বিশ্বাস সান্টু ও সাধারণ সম্পাদক অশোক কুমার সাহাসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্মকর্তারা।