শুক্রবার , ০৯ অক্টোবর ২০২৬
হোম › আজকের শীর্ষ সংবাদ › ইরানে মার্কিন হামলার শঙ্কায় তেলের দামে বড় লাফ

ইরানে মার্কিন হামলার শঙ্কায় তেলের দামে বড় লাফ

favicon
আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
ইরানে মার্কিন হামলার শঙ্কায় তেলের দামে বড় লাফ

আসন্ন মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে সামরিক হামলা চালানোর আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম একলাফে ৫ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। নতুন সংঘাত শুরু হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ শৃঙ্খল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে-এমন আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা তৈরি হয়েছে।   

বাজার বিশ্লেষকদের বরাতে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক জ্বালানি তেলের প্রধান বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৫ শতাংশেরও বেশি বেড়ে ১০৫ দশমিক ৪৬ মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান তেল সূচক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯২ দশমিক ৮২ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘দ্য আটলান্টিক’-এর এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগেই ইরানের গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত স্থাপনাগুলোতে আঘাত হানার সম্ভাব্য পরিকল্পনা প্রস্তুত করতে পেন্টাগনকে নির্দেশ দিয়েছে হোয়াইট হাউস। এমন এক সময়ে এ খবর প্রকাশ্যে এল, যখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারানোর তীব্র ঝুঁকিতে রয়েছে।

দেশে ইতোমধ্যে মূল্যস্ফীতি ও ডিজেলের উচ্চমূল্যে সাধারণ নাগরিকরা চাপের মুখে রয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে ইরানের সঙ্গে সরাসরি সংঘাত বাড়লে ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ আরও ঘনীভূত হতে পারে।

তবে কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, হামলার হুমকি কিংবা সীমিত আঘাতের মাধ্যমে তেহরানকে কঠোর শর্তে সমঝোতার টেবিলে বসিয়ে যুদ্ধের অবসানের কৃতিত্ব নিতে পারে ওয়াশিংটন।এদিকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম লাইফলাইন হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ প্রবেশ ও প্রস্থানের জন্য একটি বিশেষ নৌ করিডোর গঠনে প্রণালির অপর তীরের দেশ ওমানের সঙ্গে একটি কৌশলগত চুক্তি স্বাক্ষর করেছে ইরান।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের নিয়মিত ও স্বাভাবিক চলাচল পুনঃপ্রতিষ্ঠায় দুই দেশের মধ্যে একটি পর্যায়ক্রমিক কাঠামোর ভিত্তিতে এ সমঝোতা হয়েছে। শিগগিরই সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক জাহাজ চলাচল কর্তৃপক্ষ ও সংস্থাসমূহকে এই নিরাপদ রুটের বিস্তারিত অবহিত করা হবে।

সংঘাতের চলমান বাস্তবতায় মার্কিন বাহিনীর ক্ষয়ক্ষতির এক বিবরণ প্রকাশ করেছে দেশটির কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিস (সিআরএস)। সংস্থাটির সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর অন্তত ৮১টি আকাশযান ধ্বংস ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তালিকায় রয়েছে যুদ্ধবিমান, হেলিকপ্টার এবং সামরিক ড্রোন। যার অর্ধেকেরও বেশি চালকবিহীন গোয়েন্দা নজরদারি ড্রোন ‘এমকিউ-৯ রিপার’। এ ছাড়া পেন্টাগনের গুরুত্বপূর্ণ আকাশ সম্পদের মধ্যে একটি আধুনিক এফ-৩৫এ যুদ্ধবিমান এবং আকাশসীমা ব্যবস্থাপনায় ব্যবহৃত রাডার ডোমবাহী একটি ই-৩ সেন্ট্রি বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

কংগ্রেশনাল বাজেট অফিসের হিসাবে, ক্ষতিগ্রস্ত ও হারানো এই আকাশযানগুলোর আর্থিক মূল্য আনুমানিক ১৯০ কোটি থেকে ৩৩০ কোটি ডলার।অন্যদিকে ইরানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিস্থিতিও নতুন করে অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে। দেশটির অশান্ত দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় সিস্তান-বেলুচিস্তান প্রদেশে মাকরান উপকূলীয় অঞ্চলে দায়িত্ব পালনরত সেনাসদস্যদের একটি মিনিবাসে বন্দুকধারীরা অতর্কিত হামলা চালিয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, এতে অন্তত একজন নিহত এবং তিনজন আহত হয়েছেন। একই প্রদেশে পৃথক আরেকটি ঘটনায় পুলিশের টহল দলের ওপর ‘সন্ত্রাসী হামলা’ চালালে এক পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হন। দুটি হামলার পরই হামলাকারীদের অনেকে আহত অবস্থায় ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেছে বলে জানিয়েছে প্রাদেশিক পুলিশ।

ইরানে মার্কিন হামলার শঙ্কায় তেলের দামে বড় লাফ
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
০৯ অক্টোবর ২০২৬
দৈনিক উপচার
 শুক্রবার , ০৯ অক্টোবর ২০২৬
হোম › আজকের শীর্ষ সংবাদ › ইরানে মার্কিন হামলার শঙ্কায় তেলের দামে বড় লাফ

ইরানে মার্কিন হামলার শঙ্কায় তেলের দামে বড় লাফ

favicon
আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
ইরানে মার্কিন হামলার শঙ্কায় তেলের দামে বড় লাফ

আসন্ন মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে সামরিক হামলা চালানোর আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম একলাফে ৫ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। নতুন সংঘাত শুরু হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ শৃঙ্খল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে-এমন আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা তৈরি হয়েছে।   

বাজার বিশ্লেষকদের বরাতে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক জ্বালানি তেলের প্রধান বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৫ শতাংশেরও বেশি বেড়ে ১০৫ দশমিক ৪৬ মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান তেল সূচক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯২ দশমিক ৮২ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘দ্য আটলান্টিক’-এর এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগেই ইরানের গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত স্থাপনাগুলোতে আঘাত হানার সম্ভাব্য পরিকল্পনা প্রস্তুত করতে পেন্টাগনকে নির্দেশ দিয়েছে হোয়াইট হাউস। এমন এক সময়ে এ খবর প্রকাশ্যে এল, যখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারানোর তীব্র ঝুঁকিতে রয়েছে।

দেশে ইতোমধ্যে মূল্যস্ফীতি ও ডিজেলের উচ্চমূল্যে সাধারণ নাগরিকরা চাপের মুখে রয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে ইরানের সঙ্গে সরাসরি সংঘাত বাড়লে ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ আরও ঘনীভূত হতে পারে।

তবে কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, হামলার হুমকি কিংবা সীমিত আঘাতের মাধ্যমে তেহরানকে কঠোর শর্তে সমঝোতার টেবিলে বসিয়ে যুদ্ধের অবসানের কৃতিত্ব নিতে পারে ওয়াশিংটন।এদিকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম লাইফলাইন হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ প্রবেশ ও প্রস্থানের জন্য একটি বিশেষ নৌ করিডোর গঠনে প্রণালির অপর তীরের দেশ ওমানের সঙ্গে একটি কৌশলগত চুক্তি স্বাক্ষর করেছে ইরান।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের নিয়মিত ও স্বাভাবিক চলাচল পুনঃপ্রতিষ্ঠায় দুই দেশের মধ্যে একটি পর্যায়ক্রমিক কাঠামোর ভিত্তিতে এ সমঝোতা হয়েছে। শিগগিরই সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক জাহাজ চলাচল কর্তৃপক্ষ ও সংস্থাসমূহকে এই নিরাপদ রুটের বিস্তারিত অবহিত করা হবে।

সংঘাতের চলমান বাস্তবতায় মার্কিন বাহিনীর ক্ষয়ক্ষতির এক বিবরণ প্রকাশ করেছে দেশটির কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিস (সিআরএস)। সংস্থাটির সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর অন্তত ৮১টি আকাশযান ধ্বংস ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তালিকায় রয়েছে যুদ্ধবিমান, হেলিকপ্টার এবং সামরিক ড্রোন। যার অর্ধেকেরও বেশি চালকবিহীন গোয়েন্দা নজরদারি ড্রোন ‘এমকিউ-৯ রিপার’। এ ছাড়া পেন্টাগনের গুরুত্বপূর্ণ আকাশ সম্পদের মধ্যে একটি আধুনিক এফ-৩৫এ যুদ্ধবিমান এবং আকাশসীমা ব্যবস্থাপনায় ব্যবহৃত রাডার ডোমবাহী একটি ই-৩ সেন্ট্রি বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

কংগ্রেশনাল বাজেট অফিসের হিসাবে, ক্ষতিগ্রস্ত ও হারানো এই আকাশযানগুলোর আর্থিক মূল্য আনুমানিক ১৯০ কোটি থেকে ৩৩০ কোটি ডলার।অন্যদিকে ইরানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিস্থিতিও নতুন করে অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে। দেশটির অশান্ত দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় সিস্তান-বেলুচিস্তান প্রদেশে মাকরান উপকূলীয় অঞ্চলে দায়িত্ব পালনরত সেনাসদস্যদের একটি মিনিবাসে বন্দুকধারীরা অতর্কিত হামলা চালিয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, এতে অন্তত একজন নিহত এবং তিনজন আহত হয়েছেন। একই প্রদেশে পৃথক আরেকটি ঘটনায় পুলিশের টহল দলের ওপর ‘সন্ত্রাসী হামলা’ চালালে এক পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হন। দুটি হামলার পরই হামলাকারীদের অনেকে আহত অবস্থায় ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেছে বলে জানিয়েছে প্রাদেশিক পুলিশ।

ইরানে মার্কিন হামলার শঙ্কায় তেলের দামে বড় লাফ
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
০৯ অক্টোবর ২০২৬