চাঁপাইনবাবগঞ্জে আমবাগানে মিলল বিপুল বিস্ফোরক
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার একটি নির্জন আমবাগান থেকে বিপুল পরিমাণ তাজা ককটেল, উচ্চমাত্রার গানপাউডার ও দেশীয় অস্ত্রসহ বিস্ফোরক তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। এতে করে একটি সম্ভাব্য বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা নস্যাৎ হয়েছে বলে ধারণা করছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা। তবে অভিযানের বিষয়টি টের পেয়ে সংশ্লিষ্ট দুর্বৃত্তরা আগেই পালিয়ে যাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, গোপন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার মধ্যরাতে সদর উপজেলার ৫ নম্বর মহারাজপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডভুক্ত পূর্ব টিকরা গ্রামের একটি আমবাগানে ঝটিকা অভিযান চালায় এসআরবি-৫, সিপিসি-১ চাঁপাইনবাবগঞ্জের একটি চৌকস দল। রাত আনুমানিক ২টা ৫ মিনিটের দিকে পরিচালিত এই অভিযানে বিশেষ সহায়তা প্রদান করে এসআরবি-৫ রাজশাহীর বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট। তল্লাশি চালিয়ে সেখানে পরিত্যক্ত অবস্থায় লুকিয়ে রাখা ৯২টি তাজা ককটেল, ১১ দশমিক ৮ কেজি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন গানপাউডার, দুটি ধারালো হাসুয়া এবং বিস্ফোরক প্রস্তুতের বেশ কিছু কাঁচামাল ও সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। পরে ঘটনাস্থল ও আলামতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ককটেলগুলো নিষ্ক্রিয়করণের প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হয়।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সীমান্তঘেঁষা চাঁপাইনবাবগঞ্জের নির্জন আমবাগানগুলোকে দীর্ঘদিন ধরেই অপরাধী ও নাশকতাকারীরা নিরাপদ আস্তানা হিসেবে ব্যবহারের চেষ্টা করে আসছে। যে পরিমাণ বিস্ফোরক ও ককটেল উদ্ধার হয়েছে, তা কোনো সাধারণ স্থানীয় বিরোধে ব্যবহারের মাত্রাকে ছাড়িয়ে যায়। ধারণা করা হচ্ছে, রাজনৈতিক অঙ্গনে অস্থিরতা তৈরি, আসন্ন কোনো গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি কেন্দ্র করে আতঙ্ক ছড়ানো, কিংবা কোনো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বা জনসমাবেশ লক্ষ্য করে বড় ধরনের সহিংসতা চালানোর সুদূরপ্রসারী উদ্দেশ্যেই এই বিপুল প্রাণঘাতী রসদ সেখানে মজুত করা হয়েছিল। এছাড়া সীমান্ত রুট ব্যবহার করে দেশের অভ্যন্তরে অন্য কোথাও এই চালান পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল কি না, তাও গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
উদ্ধার করা সমস্ত আলামত ও বিস্ফোরক সামগ্রী পরবর্তী আনুষ্ঠানিক ও আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এই ভয়াবহ মজুতের সঙ্গে জড়িত মূল চক্র, অর্থদাতা এবং বিস্ফোরক তৈরির কারিগরদের শনাক্ত করতে গোয়েন্দা তৎপরতা ও বিশেষ অভিযান অব্যাহত রেখেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।