মুন্ডুমালায় কোচিং সেন্টারের পরিচালকের কাছে চাঁদা আদায়
রাজশাহীর তানোর উপজেলার মুন্ডুমালা পৌর এলাকায় এক কোচিং সেন্টারের পরিচালকের কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও নগদ অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষককে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ায় পুরো এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মুন্ডুমালা পৌর এলাকায় ‘খাইরুল কোচিং সেন্টার’ নামের একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে আসছেন শিক্ষক খাইরুল ইসলাম। গত তিন বছর ধরে তিনি সুনামের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি চালিয়ে আসছিলেন। সম্প্রতি স্থানীয় বিশাল আহমেদ এবং সাবেক সেনা সদস্য শফিকুল ইসলামসহ সংঘবদ্ধ একটি চক্র ওই প্রতিষ্ঠানে গিয়ে পরিচালকের কাছে এককালীন ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। শিক্ষক চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করাসহ তাকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি ও চাপ প্রয়োগ করতে থাকে। একপর্যায়ে চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতায় পড়ে তিনি অভিযুক্তদের হাতে নগদ ২৮ হাজার ৫০০ টাকা তুলে দিতে বাধ্য হন।
ঘটনাটি প্রকাশ পাওয়ার পর স্থানীয় এলাকাবাসী ক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং কোচিং সেন্টারে গিয়ে আতঙ্কগ্রস্ত ওই শিক্ষককে আশ্বস্ত করেন। ঘটনার সুষ্ঠু সুরাহা ও চাঁদাবাজদের বিচারের দাবিতে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।
কান্নায় ভেঙে পড়ে ভুক্তভোগী শিক্ষক খাইরুল ইসলাম জানান, বিশাল ও শফিকুল বেশ কিছুদিন ধরে চাঁদার দাবিতে তাকে মানসিক নির্যাতন করে আসছিল। প্রাণভয়ে তিনি সাড়ে ২৮ হাজার টাকা প্রদান করলেও তাদের হুমকি থামেনি। টাকা নেওয়ার পর তারা তাকে শাসিয়ে বলে যায়, বিষয়টি জানাজানি হলে বা মুখ খুললে তাকে জানে মেরে ফেলা হবে। এ অবস্থায় তিনি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং চাঁদাবাজ চক্রটির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
এ বিষয়ে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে অভিযুক্ত বিশাল আহমেদ ও অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য শফিকুল ইসলামের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
ঘটনার বিষয়ে তানোর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জানান, এ সংক্রান্ত কোনো লিখিত অভিযোগ এখনো থানায় আসেনি। লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।