গণমাধ্যম-পুলিশের সমন্বয়ে নিরাপদ রাজশাহী গড়ার প্রত্যয়
নগরীর আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, মাদক নির্মূল, ট্রাফিক ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, সাইবার অপরাধ দমন এবং নাগরিক সেবার মানোন্নয়নে গণমাধ্যমের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি)। এ লক্ষ্যে রাজশাহী টেলিভিশন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের (আরটিজেএ) নেতৃবৃন্দের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (২৬ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টায় আরএমপি সদর দপ্তরের সভাকক্ষে আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির।
সভায় আরটিজেএর নেতৃবৃন্দ পেশাগত দায়িত্ব পালনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা, সীমাবদ্ধতা ও চ্যালেঞ্জ তুলে ধরার পাশাপাশি মহানগরীর আইন-শৃঙ্খলা, জননিরাপত্তা ও নাগরিক সেবা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তাদের মতামত ও সুপারিশ উপস্থাপন করেন। একই সঙ্গে তারা বর্তমান আরএমপির কার্যক্রমের প্রশংসা ও সন্তোষ প্রকাশ করেন।
মতবিনিময় সভায় সাংবাদিক নেতারা রাজশাহী মহানগরীতে মাদকবিরোধী অভিযান ও নজরদারি আরও জোরদার করা, অটোরিকশা, বাসসহ সার্বিক ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নয়ন, চুরি-ছিনতাই প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, উপশহর এলাকায় শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ, টহল পুলিশের উপস্থিতি বৃদ্ধি, রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল এলাকায় অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ, নিবন্ধনবিহীন ওয়েবসাইট সাইবার ইউনিটের মাধ্যমে বন্ধের উদ্যোগ, জাতীয় ও বিশেষ দিবস উপলক্ষে পুলিশ ও সাংবাদিকদের অংশগ্রহণে প্রীতি ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন, মোটরসাইকেলের পরিবর্তিত (মডিফাইড) সাইলেন্সারের কারণে সৃষ্ট শব্দদূষণ বন্ধে অভিযান পরিচালনা এবং ফুটপাত ও সড়ক দখল করে অবৈধ ব্যবসা পরিচালনার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
এছাড়াও জনসেবার মানোন্নয়ন, নগরীর নিরাপত্তা জোরদার এবং জনগণের আস্থা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন গঠনমূলক পরামর্শ তুলে ধরেন তারা।
জবাবে পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির সাংবাদিক নেতাদের বক্তব্য মনোযোগসহকারে শোনেন এবং উত্থাপিত প্রতিটি বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, আলোচনায় উঠে আসা বেশ কিছু বিষয় শুধুমাত্র পুলিশের একক উদ্যোগে সমাধান সম্ভব নয়। এসব ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর, সেবা সংস্থা এবং অন্যান্য স্টেকহোল্ডারদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। সমন্বয়ের মাধ্যমে যৌক্তিক সমস্যাগুলোর দ্রুত, কার্যকর ও টেকসই সমাধানে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, পুলিশের দায়িত্বাধীন বিষয়গুলোতে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরএমপি সবসময় জনগণ ও গণমাধ্যমের গঠনমূলক পরামর্শকে গুরুত্ব দিয়ে থাকে।
পুলিশ কমিশনার বলেন, "গণমাধ্যম ও পুলিশের পারস্পরিক সহযোগিতা, তথ্য আদান-প্রদান এবং সমন্বিত উদ্যোগ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ প্রতিরোধ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ ধরনের মতবিনিময় সভা পারস্পরিক আস্থা, সহযোগিতা ও সুসম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করবে।"
সভায় উপস্থিত ছিলেন উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর) ও অতিরিক্ত দায়িত্বে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যান্ড ফিন্যান্স) মোহাম্মদ খোরশেদ আলম, পিপিএম; উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি) হিসেবে কর্মরত অতিরিক্ত ডিআইজি মো. মনিরুল ইসলাম; উপ-পুলিশ কমিশনার (ফোর্স) মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান; উপ-পুলিশ কমিশনার (মতিহার) মাঈনুল ইসলাম, পিপিএম (বার); বিশেষ পুলিশ সুপার (সিটিএসবি) মো. আবুল কালাম সাহিদ; উপ-পুলিশ কমিশনার (সিটিটিসি) ও আরএমপির মুখপাত্র মো. গাজিউর রহমান, পিপিএমসহ আরএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
এছাড়াও রাজশাহী টেলিভিশন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ সভায় অংশ নেন এবং গণমাধ্যম-পুলিশের সম্পর্ক আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
মতবিনিময় সভাটি উন্মুক্ত ও আন্তরিক পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়। উভয় পক্ষই ভবিষ্যতে জনস্বার্থে আরও সমন্বিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।