রবিবার , ২৬ জুলাই ২০২৬
হোমআজকের শীর্ষ সংবাদযুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ ইরানের
হরমুজ প্রণালী ঘিরে নতুন উত্তেজনা

যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ ইরানের

favicon
আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ ইরানের

হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে আবারও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। ইরান অভিযোগ করেছে, তেহরানের অনুমতি বা আলোচনা ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্র ওই কৌশলগত নৌপথে নতুন চলাচলের রুট চালুর চেষ্টা করছে, যা দুই দেশের মধ্যকার অন্তর্বর্তীকালীন শান্তি সমঝোতার পরিপন্থী।

শনিবার (২৫ জুলাই) ইরানি গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, গত জুনে স্বাক্ষরিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) অনুযায়ী হরমুজ প্রণালীর ট্রানজিট রুট ও পরিচালনাব্যবস্থা নির্ধারণের অধিকার ইরানের রয়েছে। তাঁর দাবি, নতুন কোনো রুট চালুর আগে ওয়াশিংটনের উচিত ছিল তেহরানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনা করা।

আরাগচি আরও জানান, সম্ভাব্য বিরোধ দ্রুত সমাধানের জন্য দুই দেশ একটি সরাসরি যোগাযোগ ব্যবস্থা চালুর বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছিল।

উত্তেজনার মধ্যেও কিছুটা স্বস্তির ইঙ্গিত :

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে দুই দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুললেও শনিবার রাতে ইরানের বড় শহরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রত্যক্ষ হামলার খবর পাওয়া যায়নি। টানা প্রায় দুই সপ্তাহের রাতভিত্তিক হামলার ধারাবাহিকতায় এটিকে একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হোসেইন কেরমানপুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, দেশটি একটি শান্ত রাত কাটিয়েছে।

অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে ব্যাপক সামরিক হামলার হুমকি থেকে কিছুটা সরে আসার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি বলেন, ইরানি কর্মকর্তারা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং সম্ভাব্য সমঝোতার বিষয়ে আলোচনা চলছে। তাঁর ভাষায়, ইরান এখনো চূড়ান্তভাবে প্রস্তুত নয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র তাদের বক্তব্য শুনতে আগ্রহী।

বার্তা আদান-প্রদান চললেও অগ্রগতি সীমিত :

ইরানি কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন, দুই দেশের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে বার্তা বিনিময় অব্যাহত রয়েছে। তবে তেহরানের মূল্যায়ন অনুযায়ী, উভয় পক্ষের অবস্থানের মৌলিক পার্থক্য এবং গভীর অবিশ্বাসের কারণে এখনো উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি হয়নি।

হরমুজ প্রণালী নিয়ে বিরোধ

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ এখন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বিরোধের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

ইরানের দাবি, বিদ্যমান সমঝোতা অনুযায়ী প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর সমন্বয় ও নির্ধারিত রুট ব্যবহারের তদারকির অধিকার তাদের রয়েছে। বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্র এই ব্যাখ্যা প্রত্যাখ্যান করে বলছে, আন্তর্জাতিক এই নৌপথের ওপর এককভাবে ইরানের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার সুযোগ নেই।

এদিকে নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগে ইরানি বাহিনী কয়েকটি জাহাজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রও ইরানি বন্দরগুলোকে লক্ষ্য করে নিজেদের সামুদ্রিক অবরোধ আরও জোরদার করেছে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র টিম হকিন্স জানান, মার্কিন বাহিনী এমন একটি ট্যাংকারকে নিষ্ক্রিয় করেছে, যেটি বারবার মার্কিন অবরোধ অমান্য করার চেষ্টা করছিল। এছাড়া ১৪ জুলাই অবরোধ পুনরায় কার্যকর হওয়ার পর থেকে অন্তত ১২টি জাহাজকে অন্য পথে যেতে বাধ্য করা হয়েছে বলেও যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে।

বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে মার্কিন কৌশল :

অস্ট্রিয়ার সাবেক প্রতিরক্ষা অ্যাটাচি উলফগ্যাং পুসতাইয়ের মতে, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র একই সঙ্গে কূটনৈতিক চাপ, অর্থনৈতিক অবরোধ এবং সামরিক পদক্ষেপ—এই তিনটি কৌশল সমন্বিতভাবে প্রয়োগ করছে।

তিনি বলেন, ওয়াশিংটনের প্রধান লক্ষ্য হলো হরমুজ প্রণালীতে অবাধ নৌচলাচল নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে ইরানকে আলোচনার টেবিলে রাখতে কখনো সামরিক চাপ, আবার কখনো সংযত অবস্থান গ্রহণের কৌশল অনুসরণ করা হচ্ছে।

সংঘাতের প্রভাব ইয়েমেনেও :

এই উত্তেজনার প্রভাব পড়েছে ইয়েমেনেও। ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠী বাবেল-মান্দেব প্রণালীতে নৌচলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

শুক্রবার সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট হুতি-নিয়ন্ত্রিত হোদেইদা এলাকায় হামলার কথা জানিয়ে দাবি করেছে, লক্ষ্যবস্তু হওয়া স্থানগুলো লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করছিল।

অন্যদিকে শনিবার সৌদি আরবের ইয়ানবু ও জিজান অঞ্চলে একাধিকবার সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে। হুতি মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি দাবি করেন, সৌদি রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে তাদের বাহিনী হামলা চালিয়েছে। যদিও সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে সাইরেন বাজানো হয়েছিল এবং পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে।

সূত্র: আল জাজিরা

যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ ইরানের
হরমুজ প্রণালী ঘিরে নতুন উত্তেজনা
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
২৫ জুলাই ২০২৬
দৈনিক উপচার
 রবিবার , ২৬ জুলাই ২০২৬
হোমআজকের শীর্ষ সংবাদযুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ ইরানের
হরমুজ প্রণালী ঘিরে নতুন উত্তেজনা

যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ ইরানের

favicon
আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ ইরানের

হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে আবারও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। ইরান অভিযোগ করেছে, তেহরানের অনুমতি বা আলোচনা ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্র ওই কৌশলগত নৌপথে নতুন চলাচলের রুট চালুর চেষ্টা করছে, যা দুই দেশের মধ্যকার অন্তর্বর্তীকালীন শান্তি সমঝোতার পরিপন্থী।

শনিবার (২৫ জুলাই) ইরানি গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, গত জুনে স্বাক্ষরিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) অনুযায়ী হরমুজ প্রণালীর ট্রানজিট রুট ও পরিচালনাব্যবস্থা নির্ধারণের অধিকার ইরানের রয়েছে। তাঁর দাবি, নতুন কোনো রুট চালুর আগে ওয়াশিংটনের উচিত ছিল তেহরানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনা করা।

আরাগচি আরও জানান, সম্ভাব্য বিরোধ দ্রুত সমাধানের জন্য দুই দেশ একটি সরাসরি যোগাযোগ ব্যবস্থা চালুর বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছিল।

উত্তেজনার মধ্যেও কিছুটা স্বস্তির ইঙ্গিত :

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে দুই দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুললেও শনিবার রাতে ইরানের বড় শহরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রত্যক্ষ হামলার খবর পাওয়া যায়নি। টানা প্রায় দুই সপ্তাহের রাতভিত্তিক হামলার ধারাবাহিকতায় এটিকে একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হোসেইন কেরমানপুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, দেশটি একটি শান্ত রাত কাটিয়েছে।

অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে ব্যাপক সামরিক হামলার হুমকি থেকে কিছুটা সরে আসার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি বলেন, ইরানি কর্মকর্তারা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং সম্ভাব্য সমঝোতার বিষয়ে আলোচনা চলছে। তাঁর ভাষায়, ইরান এখনো চূড়ান্তভাবে প্রস্তুত নয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র তাদের বক্তব্য শুনতে আগ্রহী।

বার্তা আদান-প্রদান চললেও অগ্রগতি সীমিত :

ইরানি কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন, দুই দেশের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে বার্তা বিনিময় অব্যাহত রয়েছে। তবে তেহরানের মূল্যায়ন অনুযায়ী, উভয় পক্ষের অবস্থানের মৌলিক পার্থক্য এবং গভীর অবিশ্বাসের কারণে এখনো উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি হয়নি।

হরমুজ প্রণালী নিয়ে বিরোধ

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ এখন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বিরোধের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

ইরানের দাবি, বিদ্যমান সমঝোতা অনুযায়ী প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর সমন্বয় ও নির্ধারিত রুট ব্যবহারের তদারকির অধিকার তাদের রয়েছে। বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্র এই ব্যাখ্যা প্রত্যাখ্যান করে বলছে, আন্তর্জাতিক এই নৌপথের ওপর এককভাবে ইরানের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার সুযোগ নেই।

এদিকে নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগে ইরানি বাহিনী কয়েকটি জাহাজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রও ইরানি বন্দরগুলোকে লক্ষ্য করে নিজেদের সামুদ্রিক অবরোধ আরও জোরদার করেছে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র টিম হকিন্স জানান, মার্কিন বাহিনী এমন একটি ট্যাংকারকে নিষ্ক্রিয় করেছে, যেটি বারবার মার্কিন অবরোধ অমান্য করার চেষ্টা করছিল। এছাড়া ১৪ জুলাই অবরোধ পুনরায় কার্যকর হওয়ার পর থেকে অন্তত ১২টি জাহাজকে অন্য পথে যেতে বাধ্য করা হয়েছে বলেও যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে।

বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে মার্কিন কৌশল :

অস্ট্রিয়ার সাবেক প্রতিরক্ষা অ্যাটাচি উলফগ্যাং পুসতাইয়ের মতে, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র একই সঙ্গে কূটনৈতিক চাপ, অর্থনৈতিক অবরোধ এবং সামরিক পদক্ষেপ—এই তিনটি কৌশল সমন্বিতভাবে প্রয়োগ করছে।

তিনি বলেন, ওয়াশিংটনের প্রধান লক্ষ্য হলো হরমুজ প্রণালীতে অবাধ নৌচলাচল নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে ইরানকে আলোচনার টেবিলে রাখতে কখনো সামরিক চাপ, আবার কখনো সংযত অবস্থান গ্রহণের কৌশল অনুসরণ করা হচ্ছে।

সংঘাতের প্রভাব ইয়েমেনেও :

এই উত্তেজনার প্রভাব পড়েছে ইয়েমেনেও। ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠী বাবেল-মান্দেব প্রণালীতে নৌচলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

শুক্রবার সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট হুতি-নিয়ন্ত্রিত হোদেইদা এলাকায় হামলার কথা জানিয়ে দাবি করেছে, লক্ষ্যবস্তু হওয়া স্থানগুলো লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করছিল।

অন্যদিকে শনিবার সৌদি আরবের ইয়ানবু ও জিজান অঞ্চলে একাধিকবার সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে। হুতি মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি দাবি করেন, সৌদি রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে তাদের বাহিনী হামলা চালিয়েছে। যদিও সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে সাইরেন বাজানো হয়েছিল এবং পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে।

সূত্র: আল জাজিরা

যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ ইরানের
হরমুজ প্রণালী ঘিরে নতুন উত্তেজনা
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
২৫ জুলাই ২০২৬