রাষ্ট্রপতির সঙ্গে শেখ হাসিনার ফোনালাপ নিয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বিদেশে গোপন বৈঠক করেছেন-এমন আলোচনা রাজনৈতিক অঙ্গনে চললেও, এ বিষয়ে সরকারের কাছে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। তিনি বলেন, এ ধরনের অভিযোগের পক্ষে নির্ভরযোগ্য তথ্য বা প্রমাণ পাওয়া গেলে সরকার বিষয়টি তদন্ত করবে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেলে নিজ কার্যালয়ে সমসাময়িক বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফোনালাপ কিংবা বিদেশে বৈঠক হয়েছে—এমন দাবির সত্যতা নিশ্চিত করার মতো কোনো তথ্য সরকারের হাতে নেই। তবে এ ধরনের অভিযোগের বিষয়ে বিশ্বাসযোগ্য তথ্য সামনে এলে যথাযথ তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
ব্রিফিংয়ে তিনি আরও জানান, ভারত সরকারের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য সফর নিয়ে আমন্ত্রণ এসেছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূতের আসন্ন সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদার হবে বলে সরকার আশাবাদী।
ভিসা-সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনের প্রসঙ্গেও কথা বলেন শামা ওবায়েদ। তিনি জানান, পাসপোর্ট ইস্যু ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক বিষয়গুলো সহজ করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ইতোমধ্যে সমন্বয়মূলক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এদিকে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের সম্ভাবনা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে দাবি করা হয়েছে, চলতি মাসের শুরুতে তাকে মৌখিকভাবে পদত্যাগের অনুরোধ জানানো হয়েছে। তবে এ বিষয়ে সরকার এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
রাষ্ট্রপতির শারীরিক অবস্থার বিষয়েও বিভিন্ন মাধ্যমে নানা তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। কিছু প্রতিবেদনে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে বিদেশ সফর এবং পদত্যাগের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করা হলেও, এসব দাবির পক্ষে সরকারিভাবে কোনো নিশ্চিত তথ্য দেওয়া হয়নি।
এছাড়া রাষ্ট্রপতির সাম্প্রতিক লন্ডন সফরের সময় শেখ হাসিনার সঙ্গে ফোনালাপ বা বৈঠক হয়েছে-এমন দাবিও কয়েকটি গণমাধ্যমে উঠে এসেছে। তবে এসব তথ্যের পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রমাণ বা সরকারি নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।
সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করতে চাইলে তাকে জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে লিখিতভাবে পদত্যাগপত্র জমা দিতে হবে। রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন এবং ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সাংবিধানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।